কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৫০ পিএম
আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

৬০ হাজার নদী দখলকারীর নাম ফিরিয়ে আনার দাবি

অবৈধভাবে নদী ভরাট চলছে। ছবি : সংগৃহীত
অবৈধভাবে নদী ভরাট চলছে। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন থেকে নদী দখলদারের নাম মুছে দেওয়া এবং নদীর সংখ্যা কমানোর প্রতিবাদ জানিয়ে সব নদী দখলমুক্ত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক সংগঠন ‘নোঙর বাংলাদেশ ট্রাস্ট’।

সংগঠনের নেতারা বলছেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের নদ-নদী সংজ্ঞা ও সংখ্যা’ বইটিতে নদ-নদীর সংখ্যা কমানো হয়েছে। এতে প্রায় ৫০০ ভুল তথ্য রয়েছে। অবিলম্বে এই বই প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা নদী দখলকারী ৬০ হাজার জনের নাম ফিরিয়ে আনতে হবে।

আজ শুক্রবার (১০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বক্তারা বলেন, নদীমাতৃক দেশের নদ-নদীর প্রকৃত সংখ্যা অনুসন্ধান না করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গত ২৪ সেপ্টেম্বর ১০০৮টি নদী নির্ধারণ পূর্বক তাড়াহুড়া করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে নদ-নদীর অসম্পূর্ণ সংজ্ঞা উপস্থাপন করেছে। অথচ নদীমাতৃক এ দেশে আরও ৬০০ এর বেশি নদ-নদীর অস্তিত্ব এখনো রয়েছে। এ ছাড়াও সম্প্রতি ৩৭ হাজার ৩৯৬ নদী দখলদারের তথ্য মুছে আরও একটি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

তারা বলেন, নদ-নদীর খোঁজে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছি গত ৩০ বছর ধরে। এই কাজে এখন পর্যন্ত যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি তাতে বাংলাদেশে নদ-নদীর সংখ্যা আলোচিত সব সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে। প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক প্রদত্ত নদ-নদীর সংখ্যাটি প্রকৃত সংখ্যার কাছাকাছি বলা না গেলেও তিনি উল্লিখিত গ্রন্থে যে তথ্য দিয়েছেন তার গুরুত্ব অপরিসীম।

বক্তারা বলেন, গত ১২ বছর ধরে বাংলাদেশের উত্তর জনপদের পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নীলফামারী, বগুড়া, রায়পুরহাট, গাইবান্ধা, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, নবাবগঞ্জসহ রাজশাহীতে সরেজমিন কাজ করেছি। কাজ করতে গিয়ে নতুন করে অসংখ্য নাম না জানা নদ-নদীর সন্ধান পাওয়া গেছে যার সংখ্যা ১৬৮। যেগুলো এখন অবধি বাংলাদেশের কোনো গ্রন্থে বা মানচিত্রে স্থান করে নিতে পারেনি।

বক্তারা আরও বলেন, এরই মধ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, খুলনা বিভাগ এবং বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে নদ-নদীর তালিকা সংগ্রহ করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেছে। কমিশন চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার ও বান্দরবান থেকে কোনো তথ্য গ্রহণ করেনি। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন প্রকাশিত গ্রন্থের তথ্য এবং অন্যান্য সূত্রের অতিরিক্ত ৩৪৫টি নদ-নদীর নাম পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের সুন্দরবনে নদ-নদীর সংখ্যা ২২৭ উল্লেখ করে তারা বলেন, এর মধ্যে ১৭৯টি নদী এই তালিকায় যুক্ত হয়নি। তা ছাড়া বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ, ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ফরিদপুর, খুলনা, যশোহর, কুষ্টিয়া জেলায় সরেজমিন জরিপ করে ম. ইনামুল হক প্রদত্ত ১২১৬টি নদ-নদীর বাইরে আরও অন্তত ৭০০টি অতিরিক্ত নদ-নদীর সন্ধান মিলেছে। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলো জরিপ করলে সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রকৃতপক্ষে নদ-নদীর সংখ্যা দুই সহস্রের কাছাকাছি কিংবা এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান তারা।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা আন্দোলন সংগঠক অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ। নোঙর বাংলাদেশ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামসের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচনা করেন নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা প্রকৌশলী আলাউদ্দিন হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান, বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মো. ইজাজ, ইনিশিয়েটিভ ফর পিসের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাইদ, নদী বাঁচাও আন্দোলনের ইফতেখারুল আলম, রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, নদী গবেষক ড. তুহিন ওয়াওদুদ, ইনিশিয়েটিভ ফর পিস (আইএফপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান ইবলি সাইন রানা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? জেনে নিন কখন এটি বিপদ সংকেত

মেঘালয়ের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সিলেটে বন্যার শঙ্কা, তলিয়েছে সাদাপাথর

প্রেমিককে হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগ, প্রেমিকাসহ আটক ৪

চীনা যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশ, জবাবে পাঁচ দিনের যুদ্ধ প্রস্তুতি মহড়া তাইওয়ানের 

আনন্দ ভ্রমণে যেতে দোকানে দোকানে চাঁদা চেয়ে চিঠি

মামুনুল হককে নিয়ে বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

শিশু রিফাত হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরে সঙ্গী হিসেবে কারা আছেন

বাবার অসিয়তের জায়গায় দাফনে সন্তানদের বাধা, ৩ স্থানে খোঁড়া হলো কবর

১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের 

১০

সিলেটের সাদাপাথর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা

১১

পরের দুই ম্যাচে জিততে না পারলে কী হবে আর্জেন্টিনার?

১২

জীবনের প্রথম খিঁচুনি কি ক্যানসারের লক্ষণ? যা বলছে গবেষণা

১৩

ফৌজদারি অপরাধে দণ্ড নির্ধারণে অভিন্ন মানদণ্ড চায় আইন কমিশন

১৪

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস ডিপার্টমেন্টে এআই নিয়ে ২ দিনের কর্মশালা

১৫

সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন আব্বাস আরাগচি

১৬

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু

১৭

১০০০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ: সংখ্যার আড়ালে লুকানো চমকপ্রদ তথ্য

১৮

‘তারেক রহমান বিদেশনীতিতে নাহিদ ইসলামের পথ অনুসরণ করছেন’

১৯

যুবককে পিটিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা, পুলিশের গাড়ি অবরুদ্ধ

২০
X