সম্প্রতি সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের বেড়াতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২৪ জনসহ ৩৪ শিক্ষার্থী। তাদের হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি একাডেমিশিয়ান ও পেশাজীবীরা। তারা বলেন, যেসব অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা ‘অসাংবিধানিক’।
শুক্রবার (৪ আগস্ট) ৩৪ জন শিক্ষার্থী, একাডেমিশিয়ান ও পেশাজীবীদের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা ‘পুলিশি হেনস্তার’ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ৩৪ শিক্ষার্থীর অসাংবিধানিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র এবং তারা সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ছুটি কাটাচ্ছিলেন যখন তাদের হেনস্তা করা হয়। পুলিশের দাবি, তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র করছিল। প্রমাণ হিসেবে বলা হয়, এ ছাত্ররা রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত। যদিও ভুক্তভোগীদের অভিভাবকরা দাবি করেছেন যে তারা ওই ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। কোনো একটি বৈধ ছাত্র সংগঠন সদস্যদের গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশের সংবিধানের লঙ্ঘন।
আরও পড়ুন : কুবিতে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে বহিষ্কার
বিবৃতিতে বলা হয়, ছাত্রদের জামিন দেওয়ায় সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেলেও আমরা বিশ্বাস করি যে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করা, তাদের এবং তাদের পরিবারকে যে মানসিক, শারীরিক, অর্থনৈতিক, একাডেমিক ও অন্যান্য দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে; তার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা না হলে এই সামান্য জামিন দেওয়া পর্যাপ্ত না।
প্রসঙ্গত, (৩০ জুলাই) বিকাল ৪টায় তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের নতুনবাজার পাটলাই নদী দিয়ে ট্যাকেরঘাট পর্যটন এলাকায় যাওয়ার পথে তাদের আটক করে তাহিরপুর থানা পুলিশ। এরপর তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশ বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করে। পরে বুধবার (২ আগস্ট) সব শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
মন্তব্য করুন