কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫, ১০:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইতালিতে বাড়ছে অনিয়মিত অভিবাসী, শীর্ষে যে দেশ

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

গত বছরের তুলনায় এ বছর ইতালিতে অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছেছেন ৩৮ হাজার ২৬৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশিরা।

সার্ডিনিয়ায় নৌকাডুবি

গত ৯ আগস্ট রাতে ইতালির দক্ষিণ সার্ডিনিয়ায় আটজন অভিবাসীকে নিয়ে ডুবে গেছে একটি নৌকা। সান্ত’আন্তিওকোর কাছের উপকূল থেকে এক অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে একজনকে।

ওই অভিবাসনপ্রত্যাশী জানিয়েছেন, নৌকায় আটজন ছিলেন, সবাইকে নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।

নিখোঁজ অভিবাসীদের খোঁজে সোমবারও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছিল ইতালি। এতে অংশ নিচ্ছে ইতালির ফিন্যান্স গার্ডের টহল নৌকা এবং একটি হেলিকপ্টার, কোস্টগার্ডের কয়েকটি টহল নৌকা। সার্ডিনিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমের সান্ত’আন্তিওকো এলাকায় উপকূলেই তারা তল্লাশি করছিলেন।

৯ আগস্ট ফিন্যান্স গার্ডের একটি বিমান সমুদ্রে এক অভিবাসীর মরদেহ শনাক্ত করার পর অনুসন্ধান শুরু হয়।

গত কয়েক দিনে ৩৪ জন অভিবাসী সমুদ্রপথে সার্ডিনিয়ায় পৌঁছেছেন। ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় ৯ জন অভিবাসী সান্ত’আন্তিওকোতে পৌঁছে। ওই দিন আরও ১২ জনকে সান্ত’আন্না আরেসির পৌরসভার পোর্তো পিনোর সমুদ্র সৈকত থেকে উদ্ধার করা হয়। তার আগে আরও ১৩ জন তেউলাদা বন্দরে পৌঁছেছেন।

এই ৩৪ অভিবাসীকে কাগলিয়ারি প্রদেশের মোনাস্তির আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

লাম্পেদুসাতেও আসছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা

ইতালির একেবারে দক্ষিণ প্রান্তের ছোট দ্বীপ লাম্পেদুসাতেও আগমন অব্যাহত রয়েছে। ১০ আগস্ট ৫৮ জন অভিবাসী দ্বীপটিতে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে দুজন ছিলেন অপ্রাপ্তবয়স্ক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা ফ্রন্টেক্স এবং ফিন্যান্স গার্ডের টহল নৌকা তাদের উদ্ধার করেছে।

অভিবাসীদের মধ্যে আছেন মিসরীয়, ইরিত্রীয়, সিরিয়ান ও ইরানি নাগরিকরা। ৯ আগস্ট রাত ২টায় তারা লিবিয়ার জুওয়ারা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন।

তাদের সবাইকে কন্ত্রাদা ইমব্রিয়াকোলা হটস্পটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারণ, ওই দিন রাতে ১৭৩ জন অভিবাসীকে ফেরিতে করে পোর্ট এম্পেদোকলে স্থানান্তর করা হলে ওই আশ্রয়কেন্দ্রটি খালি হয়ে যায়।

১৪৬ জনকে উদ্ধার করেছে লাইফসাপোর্ট

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধারের পর ১৪৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইতালির সাভোনায় পৌঁছে দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা ইমার্জেন্সির অভিবাসী উদ্ধারকারী জাহাজ লাইফ সাপোর্ট।

১০ আগস্ট সন্ধ্যায় লিগুরিয়া অঞ্চলের সাভোনা বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। ৬ ও ৭ আগস্ট ভূমধ্যসাগরে তিনটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে লাইফ সাপোর্ট।

প্রথম উদ্ধার অভিযানে একটি ছোটো নৌকায় গাদাগাদি অবস্থায় থাকা ৩১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়। লাইফ সাপোর্ট জানিয়েছে, তাদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী এবং ১১ জন সঙ্গীবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।

দ্বিতীয় নৌকাটিতেও তার আকারের তুলনায় বেশি যাত্রী ছিলেন। নৌকাটিতে ৪৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী থাকলেও তাদের কারও শরীরে কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না। তাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

তৃতীয় অভিযানটি অপেক্ষাকৃত চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে জানিয়েছে ইমার্জেন্সি কর্তৃপক্ষ৷ ফাইবারগ্লাসের তৈরি একটি নৌকায় ছিলেন ৬৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী৷ লাইফসাপোর্ট জাহাজটিকে দেখা মাত্র সর্বোচ্চ গতিতে খুবই বিপজ্জনকভাবে নৌকাটি জাহাজের দিতে এগোতে থাকে৷ লাইফসাপোর্টের কাছাকাছি আসতেই নৌকার চালকেরা অভিবাসীপ্রত্যাশীদের উদ্ধারকারী জাহাজে লাফিয়ে পড়তে বলেন৷ এসময় কিছু অভিবাসী পানিতে পড়ে যান৷ তাদের কারো শরীরে কোনো লাইফজ্যাকেট ছিল না৷

এই অভিবাসীদের মধ্যে শারীরিকভাবে গুরুতর অবস্থায় থাকা একজনকে কোস্টগার্ডের হেলিকপ্টারের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে৷

এই তিন অভিযানে উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিলেন সুদানের নাগরিকেরা৷ এরপরেই রয়েছেন আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, বুরকিনা ফাসো, ক্যামেরুন, আইভরি কোস্ট, ইরিত্রিয়া, গাম্বিয়া, ঘানা, গিনি, মালি, নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও সোমালিয়ার নাগরিকরা।

শীর্ষে বাংলাদেশিরা

সরকারের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের কারণে ২০২৪ থেকে অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা কমেছে ইতালিতে।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ইতালিতে সমুদ্রপথে আসা অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৬৪৪ জন। কিন্তু এ বছর তা কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৩৮ হাজার ২৬৩ জন।

তবে ২০২৩ সালে একই সময়ে রেকর্ড ৯৯ হাজার ৫২২ জন অভিবাসী এসেছিলেন।

চলতি বছর আসা অভিবাসীদের মধ্যে সবার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশিরা৷ ১২ হাজার ৮৬ জন বাংলাদেশি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন৷ এরপরেই আছে ইরিত্রিয়া৷ দেশটির ৫ হাজার ২১৫ জন নাগরিক পৌঁছেছেন ইটালিতে৷ আর এরপরে আছে মিশর, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, সুদান ও সোমালিয়ার নাম।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন শান্ত

ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে পাঠাও চালকের মৃত্যু

গণভোটের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে : আলী রিয়াজ

আমি এখনো সেদিনের কথা ভুলতে পারি না : ঐন্দ্রিলা

গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ ট্রাম্পের

ড. ইউনূস নির্বাচনের পর কী করবেন, জানাল প্রেস উইং

বিইউবিটিতে ‘হাল্ট প্রাইজ’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

ঢাবি শিক্ষক গোলাম রাব্বানির চেয়ারম্যান পদ থেকে অব্যাহতির দাবিতে স্মারকলিপি 

ঢাকা ক্যাপিটালসের অভিযোগের জবাবে যে ব্যাখ্যা দিল বিসিবি

প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা উপদেষ্টা

১০

আন্তর্জাতিক স্ক্র্যাপের দাম বাড়ছে, দেশে এমএস রডের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি

১১

বাবা-ছেলেকে একাদশে রেখে অনন্য কীর্তি নোয়াখালীর

১২

তদন্তে প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মিললে পরীক্ষা বাতিল : প্রাথমিকের ডিজি

১৩

যে কোনো সময় ইরানে হামলার অনুমোদন দিতে পারেন ট্রাম্প

১৪

ঠান্ডারও মুড সুইং হচ্ছে : ভাবনা

১৫

দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই, জামায়াত নেতার বক্তব্য ভাইরাল

১৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী সভা-সমাবেশ-প্রচারণা নিষিদ্ধ

১৭

গণতন্ত্র বেগম খালেদা জিয়ার উপহার : আমীর খসরু

১৮

উত্তেজনার মাঝেই ভারতে আম্পায়ারের ভূমিকায় বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা

১৯

জামায়াতের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকদের বৈঠক

২০
X