

শরীয়তপুর-চাঁদপুর নৌরুটে দুটি ফেরি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে যানবাহন পারাপার। মেঘনা নদী পারাপারের অপেক্ষায় উভয় প্রান্তে অন্তত চার শতাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী, চালক ও ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরের পর হঠাৎ করেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফেরি কস্তুরি ও কলমি লতা বিকল হয়ে যায়। এর ফলে রুটে ফেরির সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে এবং যানবাহন পারাপারে তীব্র সংকট দেখা দেয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল ব্যাহত থাকায় শরীয়তপুরের নরসিংহপুর ফেরিঘাট ও চাঁদপুর প্রান্তে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীর পাড়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। পণ্যবাহী যানবাহন আটকে পড়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও।
বিআইডব্লিউটিসি জানায়, শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌরুটে মোট চারটি ফেরির মাধ্যমে যানবাহন পারাপার করা হয়ে থাকে। বিকল হয়ে পড়া ফেরি দুটি মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। সংকট নিরসনে ভোলা ফেরিঘাট থেকে কাবেরী নামের একটি অতিরিক্ত ফেরি শরীয়তপুর–চাঁদপুর ঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ ফেরি চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি সংস্থাটি।
নরসিংহপুর ফেরিঘাটের টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট রাসেল হোসেন বলেন, আমাদের চারটি চলমান ফেরির মধ্যে দুটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত দুই দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে উভয় প্রান্তে অনেক যানবাহন আটকে আছে। ত্রুটি সমাধানে কাজ চলছে। আশা করছি খুব শিগগিরই ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে।
এদিকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে প্রায়ই ফেরি বিকলের কারণে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থায়ী সমাধানে আধুনিক ও পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি সংযোজনের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানান তারা।
মন্তব্য করুন