কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কীসের নেশায় গ্রিনল্যান্ড চান ট্রাম্প?

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকার পরবর্তী দখলকৃত ভূখণ্ডের নতুন নামকরণ হতে পারে ‘ট্রাম্পল্যান্ড’। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর, একবিংশ শতাব্দীতে নিজের সাম্রাজ্য বাড়াতে নতুন ভূখণ্ড খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দেখানো আগ্রহকে অনেকে ‘মশকরা’ হিসেবেই দেখেছিলেন। সবকিছু চমকে দেওয়ার নেশায় মত্ত থাকা ট্রাম্পের নজর এখন গ্রিনল্যান্ডের দিকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের গ্রিনল্যান্ড সফর নিয়ে ‘ট্রোলিং’ হলেও এখন আর কেউ হাসছে না। মঙ্গলবার ইউরোপের নেতারা দ্বীপটির সার্বভৌমত্ব ও ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ডের ওপর অধিকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, প্রেসিডেন্টের হুমকিকে আর হালকাভাবে নিচ্ছে না ইউরোপ।

এটা খুব একটা আশ্চর্যের বিষয়ও নয়। ভেনেজুয়েলা ‘জয়ের’ পর আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর এই প্রশাসন এখন কার্যত পুরো পশ্চিম গোলার্ধকেই ট্রাম্পের ‘জমিদারি’ বলে দাবি করছে। আর তার শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার সতর্ক বার্তা দিয়ে সোমবার সিএনএনে বলেছেন, শক্তি, বলপ্রয়োগ ও প্রবল ক্ষমতার অধিকারী যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তথাকথিত ‘কঠোর আইন’ মানে না।

তবে ট্রাম্পের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই বরফে ঢাকা এই ভূখণ্ডটি দরকার। যদিও এটা শুরু থেকে অনেকের পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। আর মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস যখন আতঙ্কিত ন্যাটো মিত্রদের সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা দিতেও অস্বীকৃতি জানাল, তখন সেই যুক্তি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠল।

একটি কৌশলগত রত্ন ভাণ্ডার

ট্রাম্পের কথাটি একদম ঠিক। গ্রিনল্যান্ড কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই গুরুত্ব দিন দিন আরও বাড়ছে। মধ্য আটলান্টিকে এটি বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই দ্বীপ ভয়ঙ্কর ‘গ্রিনল্যান্ড এয়ার গ্যাপ’ নামেই পরিচিত ছিল। সমুদ্রের এমন এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল, যা যুদ্ধবিমানের আওতার বাইরে ছিল। নাৎসি ইউ-বোটগুলো এই এলাকাকে মিত্রশক্তির বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য এক ভয়াবহ মৃত্যুকূপে পরিণত করেছিল।

ভবিষ্যতের কোনো বড় যুদ্ধে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকবে, আটলান্টিক মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোর কর্তৃত্বও তার হাতেই থাকবে। এর পাশাপাশি, গ্রিনল্যান্ডে ইতোমধ্যে থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের আগাম ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আট দশক পর, গ্রিনল্যান্ড আক্ষরিক অর্থেই এবং ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বরফ গলতে থাকায় বিশ্বের এই প্রান্তে নতুন নৌপথ খুলে যাচ্ছে। চীন-রাশিয়াও ট্রাম্পের মতোই ভালোভাবে বোঝে, এই অঞ্চল কতটা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে ট্রাম্পের যুক্তির বড় দুর্বলতা হলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা যদি সত্যিই ঝুঁকিতে পড়ে, তাহলে গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে তাকে কেউই আটকাচ্ছে না।

শেষ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ড ন্যাটোর একটি সদস্য দেশের আধা-স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড। এর বিশাল জনমানবশূন্য এলাকাগুলোতে সহজেই নতুন সেনাঘাঁটি ও হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা সম্ভব। প্রশাসনের শীর্ষ নেতাদের করা আক্রমণাত্মক রসিকতা ডেনমার্ক নাকি কুকুরের স্লেজ দিয়ে দ্বীপটি রক্ষা করছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও বাস্তবতা হলো, কোপেনহেগেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন একটি চুক্তি রয়েছে, যা মার্কিন বাহিনীকে ফ্লাইট অবতরণ ও উড্ডয়ন, জাহাজ নোঙর ও বন্দর ব্যবহারসহ আবাসন সুবিধা ও অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যাপক স্বাধীনতা দেয়।

গ্রিনল্যান্ডে এখনো পুরোপুরি কাজে না লাগানো বিপুল পরিমাণ অফশোর তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এর টুন্ড্রা অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় বিরল খনিজের (রেয়ার আর্থ) ভাণ্ডারগুলোও তুলনামূলক সহজে উত্তোলনযোগ্য হয়ে উঠবে। যে খনিজগুলো ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে কাজে লাগতে পারে।

যদি ট্রাম্পের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু সত্যিই রেয়ার আর্থ খনিজ হয়, তাহলে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় পক্ষের কর্মকর্তারাই অংশীদারিত্বমূলক চুক্তির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। ট্রাম্প ক্রমেই ১৯শ শতকের সেই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মতো হয়ে উঠছেন, যারা নতুন ভূখণ্ড দখলের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন, শুল্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন এবং ইউরোপীয় সাম্রাজ্যগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

গ্রিনল্যান্ডে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ডেনমার্কের পতাকার পাশাপাশি মার্কিন পতাকাও উড়ছে। তবে বর্তমান প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি বেশি মিলে যায় মিলারের স্ত্রী কেটির চিন্তার সঙ্গে— যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটিকে মার্কিন পতাকার রঙে আচ্ছাদিত একটি ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে লিখেছেন, ‘সুন’ (শিগগির)।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অস্ত্র নামাবে না হামাস, সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের সিদ্ধান্তও আলোচনা ছাড়া নয়

জিমেইল হ্যাক করে ব্যাংক থেকে টাকা আত্মসাৎ, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২ 

বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর

সাহারা মরুভূমিতে ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় প্রাণ গেল ৪৯ যাত্রীর

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় মিসরের নিন্দা

রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে ধ্বংসে সুপরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে : মির্জা ফখরুল

বিয়ের মধ্যে প্রচলিত ৩০ কুসংস্কার

রাজধানীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ

‘খালে ময়লা ফেলা বন্ধ না করলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে না’

রোনালদোর চেয়ে মেসি কেন সেরা, ব্যাখ্যা দিলেন ডি মারিয়া

১০

বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

১১

কাফনের কাপড় বেঁধে যুবলীগের ৫৮ সেকেন্ডের মিছিল

১২

মোহাম্মদপুরে অভিযান, বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৬

১৩

মেয়ের বাবা হলেন শাকিব খান

১৪

রাতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ-সান মারিনো, আলোচিত ম্যাচের ১০ তথ্য

১৫

হোমিওপ্যাথির পক্ষে পোস্ট করে তোপের মুখে আনুশকা শর্মা

১৬

ভারতকে হারিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা জিততে মরিয়া বাংলাদেশ

১৭

দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

১৮

পানির লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎস্পর্শে বাবা-ছেলের মৃত্যু

১৯

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

২০
X