কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৪, ০৬:০১ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ০৬:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

গাজীপুরের একটি রিসোর্টে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা। ছবি : কালবেলা
গাজীপুরের একটি রিসোর্টে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা। ছবি : কালবেলা

যৌনপল্লী উচ্ছেদ হওয়ায় ভাসমান যৌনকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। যৌনকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সন্ত্রাসী এমনকি এলাকাবাসীর কাছেও বিভিন্নভাবে নির্যাতিত এবং হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই কাজের জায়গাটিকে মানবিক এবং স্বচ্ছ করা প্রয়োজন৷

বুধ ও বৃহস্পতিবার (১-২ মে) গাজীপুরের একটি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ‘যৌনকর্ম : পেশা বা কর্ম? নারী আন্দোলনের অমীমাংসিত বিষ ‘ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন নারীপক্ষ এবং সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়া যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে৷

কর্মশালায় রংপুর থেকে আসা যৌনকর্মী ইসমত আরা আলো বলেন, রংপুরে কোনো যৌনপল্লী নেই। যৌনকর্মীরা রাস্তায় থাকেন। তাদের নানাভাবে নির্যাতিত হতে হয়। আমরা যে নিজের আনন্দের জন্য যৌনকর্ম করি না। পেটের টানে করি। ৫০ টাকা পেলে ১০ টাকা দিয়ে কনডম কিনি না। এক কেজি চাল কিনি।

গবেষক ও নারীপক্ষের সদস্য মাহীন সুলতান বলেন, যৌনকর্মীরা দেশের নাগরিক, তাদেরও মৌলিক অধিকার আছে। যৌনকর্মীদের দাবি আদায়ে যখন আন্দোলন শুরু হলো, তখন যৌনকর্মীদের মধ্যেও এই ধারণাটা ছিল না যে এটা একটা কাজ। তারা ভাবতো তারা নষ্ট। আন্দোলনের একটা বড় অর্জন এখন সবাই বলে এটা যৌনকর্ম। যিনি এই কাজটা করেন, তিনি যৌনকর্মী, পতিতা নন।

নারীপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ফিরদৌস আজীম বলেন, যৌনকর্মীদের সঙ্গে এক প্লেটে খাব না। এক সঙ্গে বসব না। এই ধারণা ভাঙতে হবে। যৌনকর্মকে ট্রাফিকিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়। দুটো ভিন্ন জিনিস। দেশ থেকে যে ছেলেরা যাচ্ছে, তাদের আমরা ট্রাফিকিং বলি না, বলি কাজের সন্ধানে যাচ্ছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে বলি ট্রাফিকিং৷ এই বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

নারীপক্ষের সদস্য শিরীন হক বলেন, আমি আর যৌনকর্মী একই জায়গার মানুষ। আমাদের মধ্যে কেবল একটা লাইন আছে৷ আমি কিছু সুযোগ সুবিধা নিয়ে জন্মেছি বলে আমি এখানে, আর সে কিছু সুযোগ সুবিধা নিয়ে জন্মায়নি বলে সে ওখানে। তার জীবনে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে সে ওখানে৷ সেও নারী। আমিও নারী। তাহলে তার সঙ্গে সংহতি জানাতে সমস্যা কোথায়।

উৎস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মাহবুবা মাহমুদ বলেন, যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই কাজের জায়গাটাকে মানবিক এবং স্বচ্ছ করা দরকার।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, আমাদের যৌনকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হতে হবে।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া যৌনকর্মীরা তাদের জন্য সরকারের কাছে পৃথক জায়গা বরাদ্দের দাবি জানান। একই সঙ্গে এই কর্মে জড়িত নারীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং তাদের সন্তানদের জন্য শিশু যত্ন কেন্দ্রের ব্যবস্থা করার আহবান জানান। স্বাগত বক্তব্য দেন নারী পক্ষের রীতা দাশ রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাহানারা খাতুন জলি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফেসবুকে স্ট্যাটাসের এক ঘণ্টা পর ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু

এই গাছ আমাদের অক্সিজেন দেবে, জীবন ও দেশ বাঁচাবে: এমপি মান্নান 

দেশের সব মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি

বাজেট ব্যবসাবন্ধব, বড় চ্যালেঞ্জ রাজস্ব আদায়: বিপিজিএমইএ

পশ্চিমবঙ্গে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন

আনচেলত্তির যে ‘ভুল’ পরিকল্পনায় ব্রাজিলের ভরাডুবি

পাহাড় বা ভূমিধস থেকে বাঁচার দোয়া

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল শুরু

ময়মনসিংহে রুবেল হত্যা: ৪ আসামি গ্রেপ্তার, ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি

বৈরী আবহাওয়ায় সাগরে ট্রলার ডুবে ৬ জেলে নিখোঁজ 

১০

গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের পরিবেশ রক্ষা ও পানিদূষণ রোধের নির্দেশ

১১

৬ বছরের আইনি লড়াই / ৩০ লাখ টাকা পেল কারখানায় হাত হারানো সেই নাঈম

১২

বড়কুঠি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে: ভূমিমন্ত্রী

১৩

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৪০

১৪

বিশেষ শিশুদের সহায়তায় প্রয়াস ও বুয়েট ইইই বিভাগের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

১৫

কিশোরগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৩

১৬

মসিকের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নেই নতুন কোনো কর

১৭

শ্রীলঙ্কার কারাগারে বন্দিদের সংঘর্ষ, নিহত ২৫

১৮

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি মুলতবি

১৯

চক্ষুসেবায় মেগা প্রজেক্ট ও বৈশ্বিক সম্মেলনের কো-হোস্ট হচ্ছে বাংলাদেশ

২০
X