বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৪, ০৬:০১ পিএম
আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ০৬:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

গাজীপুরের একটি রিসোর্টে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা। ছবি : কালবেলা
গাজীপুরের একটি রিসোর্টে আয়োজিত কর্মশালায় বক্তারা। ছবি : কালবেলা

যৌনপল্লী উচ্ছেদ হওয়ায় ভাসমান যৌনকর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। যৌনকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সন্ত্রাসী এমনকি এলাকাবাসীর কাছেও বিভিন্নভাবে নির্যাতিত এবং হয়রানির শিকার হচ্ছে। তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই কাজের জায়গাটিকে মানবিক এবং স্বচ্ছ করা প্রয়োজন৷

বুধ ও বৃহস্পতিবার (১-২ মে) গাজীপুরের একটি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত ‘যৌনকর্ম : পেশা বা কর্ম? নারী আন্দোলনের অমীমাংসিত বিষ ‘ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন নারীপক্ষ এবং সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়া যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে৷

কর্মশালায় রংপুর থেকে আসা যৌনকর্মী ইসমত আরা আলো বলেন, রংপুরে কোনো যৌনপল্লী নেই। যৌনকর্মীরা রাস্তায় থাকেন। তাদের নানাভাবে নির্যাতিত হতে হয়। আমরা যে নিজের আনন্দের জন্য যৌনকর্ম করি না। পেটের টানে করি। ৫০ টাকা পেলে ১০ টাকা দিয়ে কনডম কিনি না। এক কেজি চাল কিনি।

গবেষক ও নারীপক্ষের সদস্য মাহীন সুলতান বলেন, যৌনকর্মীরা দেশের নাগরিক, তাদেরও মৌলিক অধিকার আছে। যৌনকর্মীদের দাবি আদায়ে যখন আন্দোলন শুরু হলো, তখন যৌনকর্মীদের মধ্যেও এই ধারণাটা ছিল না যে এটা একটা কাজ। তারা ভাবতো তারা নষ্ট। আন্দোলনের একটা বড় অর্জন এখন সবাই বলে এটা যৌনকর্ম। যিনি এই কাজটা করেন, তিনি যৌনকর্মী, পতিতা নন।

নারীপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ফিরদৌস আজীম বলেন, যৌনকর্মীদের সঙ্গে এক প্লেটে খাব না। এক সঙ্গে বসব না। এই ধারণা ভাঙতে হবে। যৌনকর্মকে ট্রাফিকিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়। দুটো ভিন্ন জিনিস। দেশ থেকে যে ছেলেরা যাচ্ছে, তাদের আমরা ট্রাফিকিং বলি না, বলি কাজের সন্ধানে যাচ্ছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে বলি ট্রাফিকিং৷ এই বিষয়গুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

নারীপক্ষের সদস্য শিরীন হক বলেন, আমি আর যৌনকর্মী একই জায়গার মানুষ। আমাদের মধ্যে কেবল একটা লাইন আছে৷ আমি কিছু সুযোগ সুবিধা নিয়ে জন্মেছি বলে আমি এখানে, আর সে কিছু সুযোগ সুবিধা নিয়ে জন্মায়নি বলে সে ওখানে। তার জীবনে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে সে ওখানে৷ সেও নারী। আমিও নারী। তাহলে তার সঙ্গে সংহতি জানাতে সমস্যা কোথায়।

উৎস বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মাহবুবা মাহমুদ বলেন, যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই কাজের জায়গাটাকে মানবিক এবং স্বচ্ছ করা দরকার।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, আমাদের যৌনকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হতে হবে।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া যৌনকর্মীরা তাদের জন্য সরকারের কাছে পৃথক জায়গা বরাদ্দের দাবি জানান। একই সঙ্গে এই কর্মে জড়িত নারীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং তাদের সন্তানদের জন্য শিশু যত্ন কেন্দ্রের ব্যবস্থা করার আহবান জানান। স্বাগত বক্তব্য দেন নারী পক্ষের রীতা দাশ রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জাহানারা খাতুন জলি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

শীর্ষ ৩ পদে কত ভোট পেয়ে জিতল ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল

জকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জয়

জুলাইয়ে বীরত্ব : সম্মাননা পেল ১২শ আহত, শহীদ পরিবার ও সাংবাদিক

পাকিস্তানের আকাশসীমায় অসুস্থ হওয়া বিমানের যাত্রীর মৃত্যু, তদন্তের মুখে পাইলট

ফারহানের ফিফটিতে লঙ্কান দুর্গে পাকিস্তানের দাপুটে জয়

আয় ও সম্পদ নিয়ে অপপ্রচার, মুখ খুললেন নাহিদ ইসলাম

৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে

ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যায় মামলা, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আবছারকে কারাদণ্ড

১০

‘সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ির বাইরে থাকতে পারবে না’

১১

এবার আর্থিক সহায়তা চাইলেন হান্নান মাসউদ

১২

‘জুলাই বার্তাবীর’ সম্মাননা পেলেন কালবেলার আমজাদ

১৩

দুই বন্ধুর একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একসঙ্গেই মৃত্যু

১৪

সুন্দরবনে ফাঁদে আটক হরিণ উদ্ধার, শিকারি গ্রেপ্তার

১৫

তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে জুলাই আন্দোলন করেছি : রাশেদ

১৬

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যা

১৭

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস বাস্তবায়ন কতদূর?

১৮

জকসু নির্বাচনে ৬৬৬ ভোটে এগিয়ে শিবির প্যানেলের ভিপি প্রার্থী

১৯

ফেসবুকে অস্ত্র উঁচিয়ে পোস্ট, সেই যুবক আটক

২০
X