কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ

দিনমজুরের ছেলে থেকে শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট, ছিলেন সশস্ত্র বিদ্রোহী

শ্রীলংকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েক। ছবি : সংগৃহীত
শ্রীলংকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েক। ছবি : সংগৃহীত

গণবিক্ষোভের মুখে সরকার পতনের দুই বছর পর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পেল ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা। এতে জয়ী হয়েছেন বামপন্থি রাজনীতিবিদ অনুরা কুমার দিসানায়েকে। নতুন মুখ অনুরার উত্থান নিয়ে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। কারণ, শ্রীলংকার গতানুগতিক রাজনৈতিক পরিবারে তার বেড়ে ওঠা নয়।

অনুরা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা একজন দিনমজুর এবং তার মা একজন গৃহিণী। তিনি একসময় বিদ্রোহী হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন।

তিনি দেশটির রাজনৈতিক জোট ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার তথা এনপিপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম দফার ভোটে দিশানায়েক পান ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ ভোট অন্যদিকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাজিথ প্রেমাদাসা পেয়েছিলেন ৩২ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট। দ্বিতীয় দফার ভোটে তারা ৫৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ ও ৪৪ দশমিক ১১ শতাংশ ভোট পান।

দেশের রাজনীতিতে প্রেমাদাসা ভারতপন্থি ও দিশানায়েক চীনপন্থি হিসেবে পরিচিত। দিশানায়েক শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে অনুরাধাপুরা জেলার থাম্বুতেগামা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

জনতা বিমুক্তি পেরামুনা তথা জেভিপি প্রধান দিশানায়েক ১৯৮৭ থেকে ৮৯ সালের মধ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জয়াবর্ধনে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিলেন। তে পরিচালিত করেছিল। ১৯৯৫ সালে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র সমিতির জাতীয় সংগঠক এবং পরে জেভিপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে নিযুক্ত হন দিশানায়েক। ১৯৯৮ সালে তিনি জেভিপির পলিট ব্যুরোর সদস্য হন।

২০০৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাহিন্দা রাজাপাকসের ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্সের সঙ্গে জোট গঠন করে জেভিপি। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যে একটি নির্বাচনি প্রচারণায় ভাষণ দিতে গিয়ে দিসানায়েক তাদের আশ্বস্ত করেন যে সংবিধানের ৯ নং অনুচ্ছেদে, যা বৌদ্ধধর্মকে সবার ওপরে স্থান দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তার ‘ঐশ্বরিক সুরক্ষা’ রয়েছে এবং এতে যেকোনো সংশোধনীর বিরুদ্ধে তাদের গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে।

দিশানায়েকের জেভিপি ভারত থেকে আসা তামিল বংশোদ্ভূত এস্টেট শ্রমিকদের ‘ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের হাতিয়ার’ বলে অভিযুক্ত করেছিলেন। এ ছাড়াও ভারতের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও বিরোধিতা করেছিল তার দল। এর আগে তামিল বিদ্রোহের সময় দিশানায়েকের জেভিপি তামিলদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরোধিতা করেছে। এমনকি এলটিটিই এর বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কান সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধ ও নৃশংস সামরিক অভিযানকে সমর্থন দিয়ে গেছে দিশানায়েকের নেতৃত্বাধীন জেভিপি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জামায়াতের এমপি প্রার্থীর বাসার সামনে ককটেল হামলার অভিযোগ

যে কারণে স্থগিত হলো ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন / বাংলাদেশের ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষতির আশঙ্কায় কলকাতা

সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনকে ঠেলে পাঠিয়েছে বিএসএফ

শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরণ করলেন নুরুদ্দিন অপু

পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৭

১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত 

শিপিং করপোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা 

ঢাকার তিন জায়গায় সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের অবরোধ, তীব্র যানজট

জামায়াত প্রার্থীর সভায় আ.লীগ নেতার বক্তব্য

১০

রাফসান-জেফারের বিয়ের ছবি প্রকাশ্যে

১১

স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস, রেকর্ড গড়েছে রুপাও

১২

ক্ষমা চাইলেন সিমিওনে

১৩

বিস্ফোরক মামলায় আ.লীগ নেতা মশিউর গ্রেপ্তার

১৪

বিইউএফটি ন্যাশনাল ক্যারিয়ার ফেস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত

১৫

রায়েরবাজারে অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৯ সদস্য আটক

১৬

নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিকদের যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা 

১৭

বলিউড থেকে বিদায় নেবেন আনুশকা শর্মা!

১৮

ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

১৯

সায়েন্সল্যাব অবরোধ

২০
X