নির্ধারিত সময়ের ৯০ সেকেন্ড আগে কলেজের ভর্তি পরীক্ষার খাতা নিয়ে নেওয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার একদল শিক্ষার্থী। তারা প্রত্যেকে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই কোটি ওয়ান দাবি করেছেন। আগামী বছর এই ভর্তি পরীক্ষা আবার দিতে এই পরিমাণ অর্থ তাদের খরচ হবে। খবর বিবিসির।
গত মঙ্গলবার অন্তত ৩৯ জন শিক্ষার্থী সরকারের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছেন। তাদের দাবি, তাদের প্রথম পরীক্ষা ছিল কোরিয়ান বিষয়ের ওপর। এ দিন রাজধানী সিউলের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঘণ্টা বেজেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। এরপরও পরীক্ষক তাদের খাতা নিয়ে যায়।
অবশ্য পরের পরীক্ষা শুরুর আগেই নিজেদের ভুল শনাক্ত করেন শিক্ষকরা। এই দিনই মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় তাদের ওই দেড় মিনিট সময় দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই দেড় মিনেটে তারা উত্তরপত্রে দাগ টানতে পেরেছেন শুধু। তাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের খবরে বলা হয়, এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা এতটাই হতাশ হয়ে যায়, তারা বাকি পরীক্ষায় মনোযোগ দিতে পারেনি। এমনকি কেউ কেউ হাল ছেড়ে বাড়ি চলে যায়।
শিক্ষার্থীদের আইনজীবী কিম উ-সুক স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন, শিক্ষকদের এই ভুলের কারণে শিক্ষার্থীদের বাকি পরীক্ষার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ জন্য ক্ষমা চায়নি।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ায় পরীক্ষা শেষের আগে ঘণ্টা বাজানোর ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এমনকি এ ধরনের ঘটনায় মামলাও প্রথম নয়। ২০২১ সালের ভর্তি পরীক্ষায় দুই মিনিট আগে ঘণ্টা বাজানোর অভিযোগ মামলা করলে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শিক্ষার্থীদের ৭০ লাখ ওয়ান ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিউলের একটি আদালত।
মন্তব্য করুন