ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভাড়াটে সেনা হিসেবে পরিচিত ওয়াগনারের বহনকারী একটি বেসরকারি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ওয়াগনারের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। বিমানটির যাত্রী তালিকায় ওয়াগনার বাহিনীর প্রধান ইয়েভগিনি প্রিগোজিনও ছিলেন। তবে তার মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। অনেকেই এ দুর্ঘটনার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দায়ি করছেন। এর ফলে ওই সময়ে তিনি কোথায় ছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কুরস্ক যুদ্ধের ৮০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঝে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। আর এ কুরস্ক যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।
দুর্ঘটনার পর দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রাত ৯টায় পুতিনের বক্তব্য প্রচার করেছে। অন্যদিকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম রাশিয়া২৪-এর এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানে পুতিন হাজির হলে তার সাথে উপস্থিত অতিথিরা হ্যান্ডশেক করেন। এ সময় তিনি অনেকের সঙ্গে কোলাকুলিও করেন।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, কুরস্কের ওই অনুষ্ঠানে জাকজমকপূর্ণভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে আলয়শা টি-৮০ ট্যাংকের ক্রুদের সংবর্ধনা দেন পুতিন। এ ট্যাংকটি জাপোরিজঝিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনের একটি সাঁজোয়া যানকে ধ্বংস করেছিল।
উল্লেখ্য, রাশিয়ার মস্কোর টিভের অঞ্চলে একটি বেসরকারি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১০ আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে টিভের অঞ্চলের কুজেনকিনো গ্রামের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
বিধ্বস্ত হওয়া ওই বিমানে রাশিয়ার ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনও ছিলেন বলে আশঙ্কা করছে রুশ সরকারি বার্তা সংস্থা তাস।
এদিকে মস্কোর এই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পেছেনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, ‘(রাশিয়ায়) কী ঘটেছে, তা আমি জানি না। তবে আমি আশ্চর্য হয়নি। রাশিয়ায় এমন কিছু ঘটে না, যেখানে পুতিনের হাত নেই।’
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই পরিচিত ওয়াগনারপ্রধান প্রিগোজিন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করছিলেন ওয়াগনার সেনারা। এমনকি ইউক্রেনের বাখমুত শহর দখলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে ওয়াগনার বাহিনী।
তবে রুশ সামরিক নেতাদের প্রতি অসন্তোষ থেকে গত ২৩ জুন বিদ্রোহের ঘোষণা দেন প্রিগোজিন। যদিও বেলারুশের প্রেসিডেন্টের লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় সেই বিদ্রোহ থেকে সরে আসেন তিনি। এ বিদ্রোহের পর পুতিনের চক্ষুশূলে পরিণত হন প্রিগোজিন।
এ বিদ্রোহের ঘটনার পর থেকে প্রিগোজিনের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করে আসছিলেন পশ্চিমা নেতারা। কোনো রাখঢাক ছাড়াই প্রিগোজিনকে হত্যা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাইডেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন