কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০১:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রেসিডেন্ট আসাদ পতনের মাস্টারমাইন্ড কে এই জুলানি?

সিরিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতেও দক্ষতা দেখিয়েছেন আল-জোলানি। ছবি : সংগৃহীত
সিরিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতেও দক্ষতা দেখিয়েছেন আল-জোলানি। ছবি : সংগৃহীত

সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ এবং বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হলেন আবু মোহাম্মদ আল-জুলানি।

বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর এই নেতা শুধু সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় নয়, বরং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতেও দক্ষতা দেখিয়েছেন। আসাদ সরকারের পতন নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে, তখন জুলানির পরিচয় ও তার কৌশল নিয়ে আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

আবু মোহাম্মদ আল-জুলানির পরিচয়

আবু মোহাম্মদ আল-জুলানি, যার প্রকৃত নাম আহমেদ হুসাইন আল-শারা, জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮২ সালে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। তার পরিবার ১৯৮৯ সালে সিরিয়ায় ফিরে আসে এবং দামেস্কের উপকণ্ঠে বসবাস শুরু করে।

তরুণ বয়সে তার জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। তবে, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকে হামলার সময় তিনি সেখানে আল-কায়েদায় যোগ দেন এবং মার্কিনবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাকে আটক করে এবং কারাগারে রাখে। তবে ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর সময় তিনি মুক্ত হন এবং তখন থেকেই সিরিয়ায় বিদ্রোহী আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

গৃহযুদ্ধে তার ভূমিকা

জুলানি প্রথমে আল-কায়েদার শাখা হিসেবে আল-নুসরা ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠা করেন। তার নেতৃত্বে এই গোষ্ঠী সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। একসময় তিনি ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির সঙ্গে কাজ করতেন।

তবে ২০১৩ সালে বাগদাদির সঙ্গে মতবিরোধ হলে জুলানি আল-কায়েদার সঙ্গেই থেকে যান এবং আল-নুসরা ফ্রন্টকে নতুনভাবে সংগঠিত করেন।

২০১৬ সালে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা ক্রমেই দুর্বল হতে থাকলে, জুলানি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ার চেষ্টা করেন। তিনি আল-নুসরা ফ্রন্টের নাম পরিবর্তন করে জাভাত ফাতেহ আল-শাম রাখেন।

পরে ছোট ছোট বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে একত্রিত করে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) প্রতিষ্ঠা করেন।

আসাদ সরকারের পতনে তার ভূমিকা

সাম্প্রতিক সময়ের বিদ্রোহী অভিযানে জুলানি ছিলেন মূল কৌশলবিদ। বিদ্রোহীরা প্রথমে আলেপ্পো এবং পরে হামা শহর দখল করে। এরপর ১২ দিনের মধ্যেই তারা রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করে এবং আসাদের শাসনের অবসান ঘটায়। এই পুরো অভিযানেই জুলানির নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তার কৌশল ছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের একটি শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে নিয়ে আসা। জুলানির পরিকল্পনা এবং নেতৃত্ব বিদ্রোহী যোদ্ধাদের মনোবল বাড়িয়েছে এবং আসাদের অনুগত বাহিনীর পতন ত্বরান্বিত করেছে।

এইচটিএসের শাসনব্যবস্থা

২০১৭ সালে জুলানির নেতৃত্বে ইদলিবে ‘সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্ট’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা কার্যত এইচটিএস-এর প্রশাসনিক শাখা। এই সরকারের অধীনে ইদলিব পরিচালিত হলেও তাদের কঠোর শাসননীতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। বিরোধীদের দমন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জুলানির ভবিষ্যৎ ভূমিকা

বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা কেমন হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে, জুলানি সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর একমাত্র গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার রাজনৈতিক এবং সামরিক কৌশল কীভাবে সিরিয়ার নতুন যুগ গড়ে তুলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

জুলানির জীবন ও নেতৃত্বের কাহিনি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং সামরিক কৌশল নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে প্রভাবিত করতে পারে।

সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা আজ

রাজউক অধ্যাদেশ জারি, বোর্ড সদস্য হবেন ৭ জন

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই সম্ভব নয় : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সিজিএসের সংলাপ / ‘মিন্টো রোডে সচিবদের ফ্ল্যাট বিলাসবহুল হোটেলকেও ছাড়িয়ে গেছে’

ঢাবিতে ধানের শীষের পক্ষে ছাত্রদল নেতার শুভেচ্ছা মিছিল 

জবি শিক্ষার্থীদের বিশেষ বৃত্তির তালিকা প্রকাশ

এক্সপ্রেসওয়েতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে টোল দিতে হবে না ঢাবি শিক্ষার্থীদের

ভাসানীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গণভোটকে ‘হ্যাঁ’ বলুন

জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশে অস্ত্রসহ আটক ২

ম্যানইউকে বিদায় বলছেন ক্যাসেমিরো

১০

একটি দল প্রবাসীদের ব্যালট পেপার দখল করে নিয়েছে : তারেক রহমান

১১

বিপিএল ফাইনালকে ঘিরে বিসিবির বর্ণিল আয়োজন

১২

রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তনে ধানের শীষই ভরসা : রবিউল

১৩

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল এমপি প্রার্থীর

১৪

ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় জনতার ঢল

১৫

প্রবাসীদের নিয়ে জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস

১৬

নির্বাচনে এমএফএসের অপব্যবহার রোধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-বিকাশের সমন্বয় কর্মশালা

১৭

আন্দোলনে এনসিপি নেতাদের কী অবদান, প্রমাণ চেয়ে জিএম কাদেরের চ্যালেঞ্জ 

১৮

স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা, অভিযুক্ত দম্পতিকে খুঁজছে পুলিশ

১৯

বিগত ১৫ বছর নির্বাচনের নামে প্রহসন করা হয়েছিল : তারেক রহমান

২০
X