কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৯:৫৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

একদিনে উত্তর গাজায় ফিরলেন ৩ লাখ ফিলিস্তিনি

এক ফিলিস্তিনি তরুণী বলেন, ‘আমরা আমাদের ঘরবাড়ি আবার তৈরি করব। এমনকি যদি বালি আর কাদামাটি দিয়েও করতে হয়, তবুও।’ ছবি : সংগৃহীত
এক ফিলিস্তিনি তরুণী বলেন, ‘আমরা আমাদের ঘরবাড়ি আবার তৈরি করব। এমনকি যদি বালি আর কাদামাটি দিয়েও করতে হয়, তবুও।’ ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ১৫ মাসব্যাপী ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরে এসেছেন ৩ লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) গাজার জনসংযোগ দপ্তর এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপি।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের কারণে উত্তর গাজার বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ এতদিন উপত্যকার দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অবশেষে ৪৭০ দিন পর তারা নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে আসছেন।

ধ্বংসস্তূপে ফেরা মানুষের উচ্ছ্বাস

ইসরায়েলি বোমা হামলায় উত্তর গাজার বেশিরভাগ বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। তবুও নিজেদের এলাকায় ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। সোমবার সকাল থেকেই নেৎজারিম করিডোর দিয়ে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ঘরে ফিরতে শুরু করেন।

অনেকেই ঘোড়া বা গাধার গাড়িতে তাদের সামান্য মালপত্র নিয়ে ফিরেছেন। গাজা সিটির প্রধান সড়কের একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের সামনে টাঙানো ছিল ‘গাজায় স্বাগতম’ লেখা একটি ব্যানার।

২২ বছর বয়সী লামিস আল ইওয়াদি নামের এক তরুণী দীর্ঘদিন পর নিজ এলাকায় ফিরে বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন। এতদিন মনে হয়েছিল আমি মৃত। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে আমি আবার জীবিত হয়েছি।’

ধ্বংসস্তূপ ঘিরে হতাশ না হয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ‘আমরা আমাদের ঘরবাড়ি আবার তৈরি করব। এমনকি যদি বালি আর কাদামাটি দিয়েও করতে হয়, তবুও।’

প্রয়োজন ১ লাখ ৩৫ হাজার তাঁবু

হামাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, উত্তর গাজায় ফিরে আসা ফিলিস্তিনিদের জন্য সাময়িক আশ্রয় হিসেবে অন্তত ১ লাখ ৩৫ হাজার তাঁবুর প্রয়োজন।

দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি

২০২৩ সালের ৭ আগস্ট ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে ১৫ মাসে নিহত হয়েছেন ৪৭ হাজার ৩ শতাধিক ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি। পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাধ্য হয়েছেন।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুদ্ধবিরতি

যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর পর থেকেই বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা তাদের ঘরে ফেরা শুরু করেছেন।

ধ্বংসের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন করে গাজা উপত্যকা গড়ে তোলার জন্য ফিলিস্তিনিদের এই প্রত্যাবর্তন এক নতুন আশা এবং প্রতিজ্ঞার বার্তা বহন করছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নির্বাচিত সরকার এলেও সব সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না : মতিউর রহমান

ভালো নির্বাচন না হলে দেশ ও জনগণকে খেসারত দিতে হবে : দুদু

পত্রিকা অফিসে আগুন দেওয়া ব্যক্তিরা জুলাইয়ের চেতনা ধ্বংসে লিপ্ত : নূরুল কবির

এলাকাবাসীর ধাওয়া খেলেন রিপাবলিক বাংলার সাংবাদিক

নতুন প্রাকৃতিক চিনি ‘ট্যাগাটোজ’ নিয়ে বিজ্ঞানীদের আশাবাদ

ঢাকায় ঐতিহাসিক সাফা আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ঝরল জামায়াত কর্মীর প্রাণ

গুম-খুনের বিভীষিকাময় সময়ের অবসান হয়েছে : তারেক রহমান 

টস জিতে ভারতের বিপক্ষে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি প্রার্থীর

১০

জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে আফগানিস্তানের বিশ্বকাপ নায়ক

১১

ওজন মাপা বন্ধ করে প্রাধান্য দিন ফিটনেসকে

১২

ওসমানী হাসপাতালে হামলা, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

১৩

শোকজ নোটিশের লিখিত জবাব মামুনুল হকের

১৪

জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত

১৫

ভারতকে হারিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

১৬

২ লাখ ২১ হাজার কেজি স্বর্ণ তুলল সৌদি আরব

১৭

কর্নেল অলির বিরুদ্ধে মামলা, জামায়াতের বিবৃতি

১৮

পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তনের কথা জানাল ইসি

১৯

কালবেলার সাংবাদিকের ওপর হামলা, ৩ দিনেও নেই গ্রেপ্তার

২০
X