যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে এবার চীনের সহাতায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছে সৌদি আরব। আজ শুক্রবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
এরই মধ্যে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা চায়না ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার করপোরেশন (সিএনএনসি) কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমান্তের কাছে সৌদি আরবকে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব করেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে কয়েক বছর ধরে দেশীয় পারমাণবিক শক্তি শিল্পের বিকাশের চেষ্টা করছে সৌদি সরকার। তবে সৌদির এমন প্রচেষ্টায় বেশ কিছু শর্ত দিয়ে রেখেছে অন্যতম মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এমন বিমাতাসূলভ আচরেণে হতাশ হলেও সৌদি কর্মকর্তারা আশা করছেন, চীনা প্রতিষ্ঠানের এমন প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন তাদের শর্ত শিথিল করতে পারে। এমনকি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা নিজস্ব ইউরেনিয়াম মজুত না করার বিষয়ে যে শর্ত রয়েছে সে অবস্থান থেকেও সরে আসতে পারেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, চীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বানালে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে রিয়াদের এমন শর্তের মুখে পড়তে হবে না।
এ বিষয়ে জানতে সিএনএনসি, চীন ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তারা সাড়া দেয়নি।
ওয়াশিংটনের উদ্বেগ সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করেছে সৌদি ও চীন। গত ডিসেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সৌদি আরব সফর করেন। এরপর জুন মাসে রিয়াদে দুদিনের আরব-চীন ব্যবসায়িক সম্মেলনের সময় ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি ঘোষণা করেছে দুই দেশ।
এ ছাড়া সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে বেইজিং। সৌদি আরব ও ইরানের বহু বছরের শত্রুতা নিরসনে চলতি বছরের শুরুতে একটি চুক্তির মধ্যস্থতাও করে দেশটি। এই চুক্তির পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই শক্তিধর দেশের বৈরিতার অবসান হয়।
মন্তব্য করুন