

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার অঙ্গীকার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার পর এই ঘোষণা এসেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শনিবার আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ‘শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্র’ প্রতিহত করতে প্রস্তুত এবং দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিবৃতিতে ইসরায়েল ও ‘শত্রু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে’ ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার চেষ্টার জন্য দায়ী করা হয়।
সেনাবাহিনী জানায়, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বে তারা অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্থাপনা এবং জনসম্পদ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।
একই দিনে ইরানের এলিট বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানায়, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন ও দেশের নিরাপত্তা ‘লাল রেখার’ কোনো ব্যত্যয় মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে।’
গত ৩ জানুয়ারি থেকে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে শুরু হলেও তা ধীরে ধীরে শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশজুড়ে এসব বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছে, যা ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে নেটব্লকস। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই ইন্টারনেট বন্ধকে মানবাধিকার লঙ্ঘন আড়াল করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘ধ্বংসাত্মক শক্তি’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র কোনোভাবেই দুর্বৃত্তদের কাছে মাথানত করবে না।
মন্তব্য করুন