কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৩, ০২:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কাসেম সুলেইমানির মূর্তি নিয়ে উত্তপ্ত সৌদি-ইরান সম্পর্ক

খেলার মাঠে আবক্ষ মূতি। ছবি : এক্স
খেলার মাঠে আবক্ষ মূতি। ছবি : এক্স

দীর্ঘ ৭ বছরের অচলায়তন ভেঙে চলতি বছরের মার্চে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোড়া দেয় সৌদি-ইরান। এরপর ধাপে ধাপে সম্পর্ক উন্নয়ন করে যাচ্ছিল উপসাগরীয় দেশ দুটি। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে নতুন টানাপোড়েন শুরু হয়ে গেছে। যার মূলে রয়েছে মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি জেনারেল কাসেম সুলেইমানির একটি আবক্ষ মূর্তি।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, সোমবার এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লীগের একটি ম্যাচে মাঠে নামার কথা ছিল সৌদি আরবের ক্লাব ইত্তেহাদ ও ইরানের সেপাহান এফসির। ইরানের নাগাশ-ই জাহান স্টেডিয়ামে ম্যাচটি গড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু মাঠের প্রবেশপথে রাখা হয়েছিল ইরানি জেনারেল কাসেম সুলেইমানির একটি আবক্ষ মূর্তি, যা ক্ষুব্ধ করে সৌদি ক্লাবটিকে। এর জেরে মাঠে নামবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় সৌদির ক্লবটি। ফলে, ম্যাচটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে হয় আয়োজকদের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন সময় ম্যাচটি স্থগিত করা হলো, যখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মেরামতে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিল রিয়াদ-তেহরান। তবে, এ ঘটনা নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সৌদি-ইরান। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সৌদি আরবকে ক্ষুব্ধ করবে।

চলতি বছরের মার্চে চীনের মধ্যস্থতায় তিক্ত ভুলে গিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয় মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ সৌদি-ইরান। এর আগে, সাপে-নেউলে সম্পর্কের কারণে দেশটির মধ্যকার জাতীয় ও ক্লাব পর্যায়ের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হতো।

গেল মাসে দীর্ঘ অচলায়তন ভেঙে সৌদি ও ইরানের ফুটবল দল ও ক্লাবগুলো একে অন্যের মাঠে খেলার ঐতিহাসিক এক চুক্তি করে। যার অধীনে গেল ১৯ সেপ্টেম্বর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্লাব আল নাসের তেহরানে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলে। এর আগে, ২০১৬ সালে সবশেষে ইরানের মাটিতে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলেছিল সৌদির একটি ক্লাব।

সোমবারের মূর্তিকাণ্ডের পর বিষয়টি নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে- এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন-এফসি। যেখানে বলা হয়, খেলোয়াড়, দর্শক ও ম্যাচসংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিব্ধ তারা। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি তদন্ত করে দেখবে তারা।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের অভিজাত কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সুলেইমানি। যিনি দেশের বাইরে ইরানের প্রভাব বাড়াতে বিভিন্ন অভিযানের নেতৃত্ব দিতেন। ইরানিদের চোখে সুলেইমানি ছিলেন মহানায়ক। তবে, নিহত ওই জেনারেলকে সন্ত্রাসী হিসেবেই দেখত যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্র সৌদি আরব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাপার সঙ্গে জোটে যাওয়া নিয়ে যা বলল ইসলামী আন্দোলন

ফাইনালে না হারা ‌‘এলিট’ কোচ তারা

‘নেতানিয়াহুর সঙ্গে ছবি তুলতেও এখন আর কেউ আগ্রহী নন’

একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ইসলামী আন্দোলনের, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাল জামায়াত

বায়রার নির্বাচনের তপশিল স্থগিত 

উত্তরায় বহুতল ভবনে আগুনের সূত্রপাত যেভাবে

বিমানবন্দর থেকে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

সবার আগে বিপিএল থেকে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিদায়

গাড়িচাপায় পাম্প শ্রমিকের মৃত্যু, যুবদলের সাবেক নেতা আটক

বিএনপি সবসময় ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাস করে : সেলিমুজ্জামান

১০

বিশ্বকাপের আগেই বড় চমক দেখাল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ

১১

নোবেল পুরস্কারের প্রলোভনেও নড়লেন না ট্রাম্প, হতাশ মাচাদো

১২

বেরিয়ে এলো মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য

১৩

নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘এনপিএ’র আত্মপ্রকাশ

১৪

৩২ আসনে কাদের সমর্থন দেবে, জানাল ইসলামী আন্দোলন

১৫

ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে সহকারী হাইকমিশনে নিয়োগ

১৬

ক্রিকেটারদের বহিষ্কারের স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় আসিফপত্নী

১৭

সরকারের কাজ জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা : আমীর খসরু

১৮

মির্জা আব্বাস-পাটওয়ারীকে মেঘনা আলমের বার্তা

১৯

ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২,৬৭৭

২০
X