ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে তুরস্ক। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত বোমাবর্ষণ এবং সেখানে অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আঙ্কারা। শনিবার (৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
শনিবার এক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা, যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান এবং বাধাহীন ত্রাণসহায়তা প্রবেশ করতে না দেওয়ার ফলে সৃষ্ট মানবিক ট্র্যাজেডির পরিপ্রেক্ষিতে তারা তুর্কি রাষ্ট্রদূত সাকির ওজকান তোরুনলারকে প্রত্যাহার করেছেন।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাবে গাজায় ইসরায়েলের পাল্টা হামলা শুরুর পর থেকেই তেল আবিবের কড়া সমালোচনা করে আসছে তুরস্ক। গাজায় ইসরায়েলের বিমান ও স্থল অভিযানের এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার শিশু রয়েছে।
এদিকে তুর্কি সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। এক এক্সবার্তায় ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিওর হায়াত বলেছেন, এটি সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের পক্ষে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের আরেকটি পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো হামাসকে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনে করে না তুরস্ক। উল্টো প্রায় সময় হামাসের বিভিন্ন নেতা দেশটি সফর করে থাকে। এ ছাড়া ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে আঙ্কারা।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জনরোষের মুখে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে বসেছে আরব দেশগুলো। এই যুদ্ধ শুরুর পরপরই এক সময় সম্পর্ক স্বাভাবিক করা দেশগুলোও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়নে জড়িয়েছে। এরই মধ্যে জর্ডান ও বাহরাইন দেশটি থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা স্থগিত করে দিয়েছে সৌদি আরব।
মন্তব্য করুন