৪৬তম দিনে গড়িয়েছে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধ। এতে একের পর এক নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এমনকি ইসরায়েলের নির্মমতা থেকে বাদ যাচ্ছে না কোনো শিশুও। গাজায় নিহত শিশুদের সংখ্যা জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাড়ে ৫ হাজার শিশু নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩০০ এর বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় নিহতদের সংখ্যা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের।
এর আগে জাতিসংঘের মহাসচির অ্যান্তিনিও গুতেরেস বলেন, গাজায় নিহত বেসামরিক লোকদের সংখ্যা উদ্বেগজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।
অন্যদিকে হামাসের হামলায় গাজায় ১২০০ লোক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রায় ২৪০ জন নাগরিককে জিম্মি করেছে তারা। এসব জিম্মিদের মধ্যে ৪০ জন শিশু রয়েছেন।
উল্লেখ্য গাজায় জিম্মিদের মুক্তির জন্য আলোচনা চলছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের একটি চুক্তির ঘোষণা চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে জানিয়েছে কাতার।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি দেবে ইসরায়েল। এ সময় ইসরায়েলের স্থল অভিযান বন্ধ থাকবে এবং দক্ষিণ গাজায় বিমান হামলা সীমিত থাকবে। এ ছাড়া ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি থাকা ৩০০ ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি দেওয়া হবে। এসবের বিনিময়ে ৫০ থেকে ১০০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এদের মধ্যে ইসরায়েলি ও বিদেশে বেসামরিক নাগরিক থাকলেও কোনো সেনা সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হবে।
অন্যদিকে হামাসের কর্মকর্তা ইজ্জাত আল-রিশক আলজাজিরাকে বলেছেন, কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তির মধ্যে যুদ্ধবিরতি, গাজার সব এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ এবং আহত ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয় থাকবে। জিম্মি ইসরায়েলি নারী ও শিশুদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের মুক্তির বিষয় থাকবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন