কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৪, ০৬:০৬ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০৬:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বোরকা পরে গাজার শরণার্থী ক্যাম্পে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা

বোরকা পরে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা গাজায় গিয়েছিলেন। প্রতীকী ছবি
বোরকা পরে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা গাজায় গিয়েছিলেন। প্রতীকী ছবি

ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের উদ্ধারে নাটকীয় পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছিল ইসরায়েল। জিম্মিদের উদ্ধারে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের তৎপরতা ছিল অবিশ্বাস্য।

তারা হিজাব-নিকাব পরে ফিলিস্তিনি মুসলিম সেজে তিন গুণ বেশি টাকায় শরণার্থী ক্যাম্পে বাসা ভাড়া নেন।

নিজেদের পরিচয় দেন ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি হিসেবে। বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় তাদের সঙ্গে ছিল লেপ, তোশক, মাদুরসহ ঘরের নানা জিনিসপত্র। কথাও বলেছে আরবিতে, ঠিক গাজার বাসিন্দাদের মতোই।

‘ইসরায়েলের জিম্মি উদ্ধারের ভেতরের গল্প’ শিরোনামে অভিযানের আগের এমনই এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম দ্য জিউস ক্রনিকল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ জুন এক তরুণীসহ চার জিম্মি উদ্ধারের মূল অপারেশনে যাওয়ার আগে দীর্ঘ ১৯ দিন নিবিড়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিচার-বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। আর এ জন্য সাধারণ মানুষের বেশে নারী ও পুরুষ গোয়েন্দা নিযুক্ত করা হয়। বিষয়টি দৃঢ়ভাবে গোপন রাখে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

মূলত, নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পে চার জিম্মি রয়েছে গোয়েন্দারা এমন তথ্য পান ১২ মে। এরপর অভিযানের পরিকল্পনা যুদ্ধ মন্ত্রিসভায় তোলে আইডিএফ। অনুমোদন পাওয়ার পর শুরু হয় ছদ্মবেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ। একইসঙ্গে চলে ড্রোন ফুটেজ সংগ্রহ। পরে সেসব তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে সহযোগিতা নেওয়া হয় এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের।

জিম্মিদের অবস্থান নিশ্চিত হতে দীর্ঘ ১৯ দিন ক্যাম্পে অবস্থান করে গোয়েন্দারা। এর মাঝেই জিম্মিদের উদ্ধারে প্রশিক্ষণ নেয় ইসরায়েলের ২৮ কমান্ডো। ৬ জুন সেখানে অভিযান চালানোর আগের রাতেই গুপ্তচরদের ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ওই দিন বেলা ১১টায় শুরু হয় অভিযান।

প্রথমে আরগামনি নামে জিম্মি তরুণীকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে ইসরায়েলে পাঠানো হয়। আর হত্যা করা হয় হামাসের পাহারাদারকে। বাকি তিনজনকে উদ্ধারে অন্য একটি ভবনে গেলে সেখানে চরম হামলার মুখে পড়ে ইসরায়েলি কমান্ডোরা। সেখানে প্রায় ৩০ হামাস যোদ্ধা মেশিনগান ও গ্রেনেড দিয়ে কমান্ডোদের ওপর চরম হামলা চালান। পাল্টা হামলায় হত্যা করা হয় নুসেইরাত ক্যাম্পের নিরীহ প্রায় ৩০০ ফিলিস্তিনিকে।

এদিকে যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসরায়েল এই অভিযান সফল করেছে, তা তাদের দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বা এআই প্রযুক্তি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ইসরায়েলের হাতে ছিল না।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হামাসের ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটি উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহার করে ড্রোন ফুটেজ, স্যাটেলাইট চিত্র ও ডেটা বিশ্লেষণের বড় সুবিধা দিয়েছে ইসরায়েলকে। এর সবই ছিল এআইনির্ভর। যার ফলেই জিম্মি উদ্ধারের এ অভিযান সফল হয়েছে বলে মনে করেন ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

শীতে কাঁপছে তেঁতুলিয়া, তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রিতে

আজও বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা

রুমিন ফারহানার উঠান বৈঠকে ধাক্কা লাগা নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ

সিলেটে তিন বাসের সংঘর্ষ, নিহত ২ 

রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে ৪ লাখের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের যোগদান, বেতন কত?

পাকিস্তানে ট্রাক খালে পড়ে পরিবারের ১৪ জন নিহত

নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রার্থীর কর্মী নিহত

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা ‘গিলে’ নিচ্ছে চাঁদ

জরুরি বৈঠকে জামায়াত

১০

ওজন কমাতে সকালের শুরুটা হোক সঠিক খাবার দিয়ে

১১

বিএনপি ক্ষমতায় এলে নদীভাঙন রোধে উদ্যোগ নেওয়া হবে : নুরুদ্দিন অপু

১২

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

১৩

ঘরে আগুন লাগার ঝুঁকি কমাতে জেনে নিন

১৪

আংশিক মেঘলা ঢাকার আকাশ, তাপমাত্রা কত?

১৫

বিএনপিতে যোগ দিলেন জাপার শতাধিক নেতাকর্মী

১৬

ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প

১৭

শনিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৮

১৭ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৯

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনায় গাজা শাসনে নতুন কমিটি গঠন

২০
X