

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের (এজেকে) প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন। শনিবার ইসলামাবাদে দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে এজেকে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়। খবর আরব নিউজের।
এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রোববার বিকেল ৪টায় মীরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
সুলতান মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন কাশ্মীরের একজন প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনীতিক। ২০২১ সালে তিনি এজেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি একাধিকবার আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সুলতান মাহমুদ চৌধুরী আজাদ কাশ্মীরের জনগণের সেবায় সারাজীবন কাজ করেছেন এবং কাশ্মীর ইস্যুতে তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা।
১৯৫৫ সালের ৯ আগস্ট মীরপুরের চিচিয়ান গ্রামে জন্ম নেওয়া সুলতান মাহমুদ চৌধুরী রাওয়ালপিন্ডিতে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাজ্যে গিয়ে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে দেশে ফিরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুসলিম কনফারেন্স, পাকিস্তান পিপলস পার্টির এজেকে শাখা ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের এজেকে শাখার নেতৃত্বও দেন তিনি।
এজেকে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লন্ডন, নিউইয়র্ক, ব্রাসেলস ও বার্লিনসহ বিভিন্ন শহরে তিনি বিক্ষোভ ও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। তিনি একমাত্র এজেকে নেতা যিনি ভারত-শাসিত কাশ্মীর সফরের অনুমতি পেয়েছিলেন এবং শ্রীনগরের লালচকে জনসভায় বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, কাশ্মীরিদের ওপর ভারতের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সুলতান মাহমুদ চৌধুরী সবসময় সোচ্চার ছিলেন। কাশ্মীর প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন