পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন ইমরান খান ও নওয়াজ শরীফ দুজনই। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিজয়ী ভাষণও দিয়েছেন। সেখানে নওয়াজ শরীফ কীভাবে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা পেয়েছেন তা উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে নওয়াজ শরীফও নিজের দল পিএমএল-এনকে বিজয়ী দাবি করেছেন। তবে তিনি যে নির্বাচনে পিছিয়ে পড়েছেন তা তার বিভিন্ন বক্তব্যে উঠে এসেছে। এ জন্য তিনি জোট সরকার গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে নওয়াজ শরীফের পক্ষ থেকে ইমরান খান সমর্থিত বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা শুরু করেছেন।
এদিকে ভোট শেষ হওয়ার দীর্ঘ ১২-১৩ ঘণ্টা পর শুরু হয় ফল ঘোষণা। এ নিয়ে রীতিমতো সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে কিসের কি, একের পর এক আসনে বাজিমাত করে যাচ্ছে ইমরান খান সমর্থীত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এখন পর্যন্ত ২৬৬ আসনের মধ্যে ভোট হয় ২৬৫ আসনে। এর মধ্যে বেশির ভাগ আসনে জয় পেয়েছেন ইমরান খানের প্রর্থীরা। তবে পূর্ণাঙ্গ ফল পেতে দুদিন পার হওয়ায় নানা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এমনকি এককভাবে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জটিলতা আরও বেড়েছে। আগামীতে কার সঙ্গে কে জোট গঠন করবে সেই সমীকরণ নিয়েও অংশ কষছেন অনেকে।
ইমরান খানকে ঠেকাতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখা হয়নি। ১০ মাস ধরে কারাবন্দি। চার মামলায় ৩৪ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ১০ বছরের জন্য নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ। তার দল পিটিআইকে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ইমরান সমর্থিতরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট করলেন। সেখানেও বাধা। প্রার্থীদের নির্বাচনী সভা করতে দেওয়া হয়নি, তাদের হামলা-মামলা দিয়ে করা হয়েছে দমনপীড়ন। এত কিছুর পরও মানুষ তাদের রায় দিয়েছেন। আর সে জনরায় ইমরানের পক্ষে। ৮ ফেব্রুয়ারির ভোটে ইমরান সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যা করে দেখালেন তা এককথায় তা অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত! ইতিহাস তো বটেই।
নির্বাচনে না দাঁড়ালেও জনগণের মাঝে ইমরান খান ও তার দল পিটিআয়ের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই জনপ্রিয়তা যে শুধু সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়, তা ৮ ফেব্রুয়ারির ভোটে পাকিস্তানিরা প্রমাণ করে দেখালেন বলে জানিয়েছেন ইমরান খান। ফলে এবারের ভোটে পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বেশ ভালো করেছেন।
মন্তব্য করুন