

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানোর অনুরোধ ঘিরে ক্রিকেট প্রশাসনে শুরু হয়েছে হিসাব–নিকাশ। প্রশ্ন একটাই—আইসিসি যদি সত্যিই ম্যাচগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেয়, তাহলে আর্থিকভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিসিসিআই?
প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিষয়টি যতটা রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বলে মনে হচ্ছে, আর্থিক দিক থেকে ততটা বড় ধাক্কা নাও হতে পারে—বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সম্প্রচার আয়ের ক্ষেত্রে। তবে স্থানীয় আয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন
বাংলাদেশের নির্ধারিত ম্যাচ ও ভেন্যু
সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ভারতে। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ কলকাতার ইডেন গার্ডেনে—ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে, নেপালের বিপক্ষে।
ইডেন গার্ডেনের ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৩ হাজার, আর ওয়াংখেড়ের ৩৩ হাজার। চার ম্যাচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টিকিট বিক্রির সুযোগ ছিল।
টিকিটের দাম ও সম্ভাব্য আয়
আইসিসির টিকিট নীতিমালা অনুযায়ী, ভারতীয় ভেন্যুতে ম্যাচের টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য শুরু হচ্ছে ১০০ রুপি থেকে। সরকারি টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে দেখা গেছে—
তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, এই টিকিটগুলোর মালিকানা আইসিসি বিজনেস করপোরেশনের (আইবিসি)। বিসিসিআই এখানে মূলত হোস্ট হিসেবে ম্যাচ আয়োজন–সংক্রান্ত সুবিধা ও কিছু স্থানীয় আয়ের অংশ পায়, পুরো গেট কালেকশন নয়।
তাহলে বিসিসিআইয়ের ক্ষতি কোথায়?
বিশ্লেষকদের মতে, বিসিসিআইয়ের সম্ভাব্য ক্ষতি সীমিত থাকবে মূলত তিনটি জায়গায়—
সম্ভাব্য তিনটি দৃশ্যপট
দৃশ্যপট–এ:
যদি ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বদলে অন্য ম্যাচ না দেওয়া হয়, তাহলে সম্ভাব্য গেট আয়ের ঝুঁকি থাকতে পারে আনুমানিক ৭ থেকে ৩০ কোটি রুপির মধ্যে। এটি নির্ভর করবে দর্শক উপস্থিতি (৬০–৯০ শতাংশ) ও গড় টিকিট মূল্যের ওপর।
দৃশ্যপট–বি:
যদি ম্যাচ সরানোর পর ভারতীয় ভেন্যুতে অন্য ম্যাচ দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতি অনেকটাই কমে যাবে। তবে ইংল্যান্ডের মতো দলের ম্যাচ বদলে কম আকর্ষণীয় ম্যাচ এলে দর্শক আগ্রহে পার্থক্য হতে পারে।
দৃশ্যপট–সি:
আইসিসি যদি শুধুই ভেন্যু বা তারিখ অদলবদল করে, কিন্তু ভারতের মোট ম্যাচ সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখে, তাহলে আর্থিক ক্ষতি প্রায় নগণ্যই হবে। তখন বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে লজিস্টিক ও পুনঃপরিকল্পনার খরচে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে সরানো হলেও বিসিসিআইয়ের বড় কোনো কেন্দ্রীয় বিশ্বকাপ আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ক্ষতি হলে তা হবে সীমিত আকারে এবং পুরোপুরি নির্ভর করবে আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর—ম্যাচ সরানো, বদলি ম্যাচ দেওয়া নাকি শুধু সূচি পুনর্বিন্যাস।
এখন নজর একটাই জায়গায়—আইসিসির সিদ্ধান্তে। সেটিই ঠিক করবে, বিষয়টি বাস্তব ক্ষতি নাকি কেবলই হিসাবের খাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে।
মন্তব্য করুন