যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আজ শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
‘পার্টিগেট কেলেঙ্কারির’ ঘটনায় প্রিভিলেজেস কমিটির এক প্রতিবেদনের জেরে শুক্রবার তিনি এ ঘোষণা দেন।
এদিকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে প্রিভিলেজেস কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি হাতে পান জনসন। তার ভাষ্য, ওই প্রতিবেদন হেঁয়ালি, অসত্য ও পক্ষপাতে পরিপূর্ণ।
এ নিয়ে এক বিবৃতিতে জনসন বলেন, কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এমন একটি প্রমাণও হাজির করতে পারেনি যাতে প্রমাণ হয় যে, আমি জেনেশুনে বা বেপরোয়াভাবে সেই বিধি ভঙ্গ করেছি।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়টি পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি বলেন, পার্লামেন্ট ত্যাগ করা খুবই দুঃখজনক; অন্তত এই মুহূর্তে। তবে সর্বোপরি আমি আতঙ্কিত যে আমাকে অগণতান্ত্রিকভাবে একটি তীব্র পক্ষপাতমূলক কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জোর করে বহিষ্কার করা হতে পারে।
এই ‘পার্টিগেট কেলেঙ্কারিই’ মূলত প্রধানমন্ত্রী জনসনকে ডুবিয়েছে। ওই কেলেঙ্কারি নিয়ে কয়েক মাসের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, তিনি ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে করোনা মহামারি চলাকালীন ডাউনিং স্ট্রিটে মদের পার্টি করেছেন। যেখানে ওই সময়ে বাকি যুক্তরাজ্যকে ঘরের ভেতরে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।
এ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ এবং জনসনের বিরুদ্ধে বার বার মিথ্যাচারের অভিযোগ উঠতে থাকায় তার সরকারের অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ আরো বেশ কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। প্রবল চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন জনসনও।
ঋষি সুনাক বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন