পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র-চীন ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ওয়াশিংটন-মস্কোর সঙ্গে বেইজিংয়ের অন্তর্ভুক্তিকে অযৌক্তিক এবং অবাস্তব বলে সমালোচনা করেছে চীন।
সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আমরা যেটা করার চেষ্টা করছি, সেটি হলো পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বড় একটি লক্ষ্য। রাশিয়া এতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং আমি মনে করি চীনও এতে রাজি হবে। আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের আরও বিস্তার ঘটতে দিতে পারি না। ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গু জিয়াকুন বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক
সক্ষমতা মোটেই সমপর্যায়ের নয়। দুই দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও পারমাণবিক নীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে আমরা নো-ফার্স্ট-ইউজ-পলিসি (প্রথমে পারমাণবিক হামলা না করা) অনুসরণ করি এবং আমাদের পারমাণবিক কৌশল কেবল আত্মরক্ষামূলক। তাই বেইজিং কোনো দেশের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়াবে না। তাই, সর্বোচ্চ সংখ্যক পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোকেই নিরস্ত্রীকরণে বিশেষ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
অস্ত্র গবেষণা সংস্থা ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টের এক গবেষণায় জানা গেছে, রাশিয়ার মোতায়েনকৃত ও মজুত পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা প্রায় চার হাজার ৩০০, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০। অন্যদিকে, চীনের কাছে প্রায় ৬০০ পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে, যা তাকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তি বানিয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আলাস্কা বৈঠকের এক দিন আগে ওয়াশিংটন-মস্কো নতুন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির প্রস্তাব দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রের ঝুঁকি কমাতে এরই মধ্যে সম্পাদিত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলোর মেয়াদ যখন শেষের দিকে এসে পড়ছে, তখন পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার আধুনিকায়নের দিকে ঝুঁকছে তিন বৈশ্বিক পরাশক্তি চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
যেমন, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সম্পাদিত নিউ স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটির (নিউ স্টার্ট) মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক ওয়ারহেড ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ওপর সীমা আরোপ করে। রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করলে তারাও বসে থাকবে না।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় যুক্ত করতে চাইলেও তারা এতে রাজি হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বার্ষিক মূল্যায়ন বলছে, চীন তার পারমাণবিক নীতি আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মন্তব্য করুন