দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনা-বেতাগী-ঢাকা রুটের অনির্দিষ্টকালের জন্য লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ ও পণ্য পরিবহনে ব্যয় বেড়েছে। এতে বেড়ে গেছে পণ্যের দাম। বেকার হয়ে পড়েছেন লঞ্চ ও ঘাট শ্রমিকরা। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ঘাট ইজারাদাররা।
গত সোমবার বরগুনা নদীবন্দর থেকে ‘রাজহংস-৮’ লঞ্চ রাত ৮টায় বেতাগী লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয় এ রুটের লঞ্চ চলাচল। সেই থেকে তিন দিন ধরে এ রুটে লঞ্চ চলছে না।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, লঞ্চ বন্ধ হওয়ায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিতে পড়েছেন। ফলে বিকল্প মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করে নিয়ে আসায় বাড়তি ব্যয়ের চাপ এখন পড়েছে সাধারণ মানুষের ঘাড়ে।
বেতাগী পৌর শহরের কাপড় ব্যবসায়ী হারুন-অর-রশীদ বলেন, লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প পথে মাল পরিবহনে ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে বেশি দামে পণ্য বিক্রয়ে বাধ্য হচ্ছি।
ঢাকা-বরগুনা রুটে চলাচলরত এম কে শিপিং লাইন্স কোম্পানির বরগুনা ঘাটের ম্যানেজার এনায়েত হোসেন বলেন, আগে এই পথে চলাচলকারী একেকটি লঞ্চে বরগুনা নদীবন্দর ঘাট থেকেই প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ যাত্রী হতো। বর্তমানে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ২০০-৩০০ যাত্রী হচ্ছে। যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে।
বেতাগী লঞ্চঘাট শ্রমিক মো. সাহারুল হাওলাদার বলেন, আমার মতো অনেকেই বেকার হয়ে গেছে। আয় রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছি।
বেতাগী বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পরেশ চন্দ্র কর্মকার বলেন, এই পথের লঞ্চ চলাচল অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। প্রাচীন এই নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওযায় ব্যবসা-বাণিজ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
গতকাল বুধবার সরেজমিন বেতাগী লঞ্চ স্টেশনে গেলে দেখা যায়, যে সময়টায় সেখানে যাত্রীরা ভিড় করতেন, সেই সময়টায় যেন জনশূন্য ও খাঁ খাঁ করছে। পরিণত হয়েছে যেন বিরাণভূমিতে।
বরগুনা-বেতাগী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী একাধিক যাত্রী বলেন, লঞ্চে চলাচলের মতো সুবিধা দেশের আর কোনো বাহনে নেই। এতে যাতায়াত খুবই আরামদায়ক ছিল। বন্ধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের দাবি, বরগুনা-বেতাগী-ঢাকা রুটের স্বাভাবিক ও সবসময় যেন আগের মতো লঞ্চ চলাচল করে। বরগুনা জেলা যাত্রীকল্যাণ সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সঞ্জীব দাস বলেন, বরগুনা জেলার ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে লঞ্চ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শুধু কম ভাড়াই নয়, লঞ্চ ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক। এভাবে লঞ্চ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণায় আমরা ব্যথিত হয়েছি।
এম কে শিপিং লাইন্স কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মাসুম খান বলেন, আমরা ঢাকা-বরগুনা রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি ট্রিপে দেড় থেকে ২ লাখ টাকার লোকসান হয়। গত মাসে ৩৮ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এত লোকসান দিয়ে আর লঞ্চ চলাচল করাতে পারছি না। জ্বালানির দাম কিছুটা কমলে হয়তো পুষিয়ে থাকতে পারতাম।
বরগুনা নদীবন্দর কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, আমাদের না জানিয়েই হঠাৎ করে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ করার পর আমি এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।
মন্তব্য করুন