বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি) অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে মার্কিন সরকার। গত ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংস্থাটির অর্থায়ন তিন মাসের জন্য বন্ধ করেন। অর্থায়ন স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠান ইউএসএআইডির অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পে নতুন করে ভ্যাট অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, ইউএসএ সরকারের চুক্তির ধারাবাহিকতায় এ ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ইউএসএআইডির অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের পণ্য সরবরাহ বা সেবা গ্রহণের বিপরীতে নতুন করে ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এই প্রজ্ঞাপনে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২-এর ১২৬ ধারার ২ উপধারা অনুসারে এই ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে অলাভজনক এই সংস্থাটির নতুন প্রকল্পের কেনাকাটা থেকে শুরু করে কোনো ধরনের সেবা গ্রহণে ভ্যাট দিতে হবে না। আর সরকার টু সরকার চুক্তির আওতায় এই সুবিধা পেয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের ভ্যাট পলিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল সন্ধ্যায় কালবেলাকে বলেন, ইউএসএআইডির এই সুবিধা আগে থেকেই ছিল। নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ইউএসএআইডির বিভিন্ন প্রকল্পে কেনাকাটা হয়ে থাকে। এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হারের ভ্যাট হয়ে থাকে। আর নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এসব সুবিধা দেওয়া হয়। আর যেসব প্রকল্প শেষ হয়ে যায়, তা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। মূলত এটি একটি রুটিন কাজ।
কারণ হিসেবে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এই অব্যাহতি মূলত সরকার টু সরকারের একটি চুক্তির আওতায় সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ইউএসএআইডির যেসব প্রকল্প রয়েছে, সবগুলোতে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পেয়ে আসছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
জানা গেছে, গত ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশের পর বাংলাদেশের কয়েক হাজার এনজিও কর্মী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। এরই মধ্যে অনেক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। তারা নিয়ম অনুযায়ী তিন মাস বেতন পাবেন না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বাংলাদেশে ইউএসএআইডির অর্থায়নে চলমান প্রকল্পের কাজ বন্ধ বা স্থগিত করায় খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, গণতন্ত্র ও সুশাসন, পরিবেশ, জ্বালানি এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও গতি হারিয়েছে। এমনকি বিদেশি অর্থ বন্ধের ঘোষণায় অনেক এনজিও খরচ কমানোর নীতি অনুসরণ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। কয়েকটি এনজিও এরই মধ্য নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে নীতি তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও বিগত বছরগুলোতে উন্নয়ন সংস্থাগুলোর বিদেশি সহায়তা ধারাবাহিকভাবেই কমেছে। বিদেশি সহায়তানির্ভর প্রকল্পের কর্মীদের গণহারে ছাঁটাইয়ের নোটিশে অস্থিরতা বিরাজ করছে সংস্থাগুলোয়। এরই মধ্যে এই অর্থায়ন স্থগিতের কারণে বাংলাদেশে ডায়রিয়া চিকিৎসার অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির প্রায় দেড় হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে।