শেখ হারুন
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৪, ০২:৩৩ এএম
আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২৪, ০৮:৩৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে নির্ভরশীল প্রবীণ বাড়ছে

বিবিএসের জরিপ
দেশে নির্ভরশীল প্রবীণ বাড়ছে

দেশে বয়স্ক বা বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সাধারণত মানুষের বয়স যত বাড়তে থাকে, তার কর্মক্ষমতা তত কমতে থাকে। সেই মানুষ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে শুরু করে। এই হিসেবে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমছে। অর্থাৎ প্রবীণ নির্ভরশীল মানুষ বাড়ছে। পাশাপাশি নির্ভরশীল শিশু-কিশোরের হারও বাড়ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও এই বৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে এ কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবেই দেশে নির্ভরশীল মানুষের হার বাড়ছে। বর্তমানে দেশে নির্ভরশীল মানুষের হার ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৫১ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ ৪ বছরের ব্যবধানে নির্ভরশীল মানুষের হার বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

নির্ভরশীলদের মধ্যে বেশি বেড়েছে প্রবীণদের হার। ২০১৯ সালে দেশে প্রবীণ নির্ভরশীল মানুষের হার ছিল ৮ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে বেড়ে হয়েছে ৯.৪ শতাংশ। ২০১৯ সালের মতোই ২০২০ সালেও প্রবীণ নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধির হার ছিল ৮ শতাংশ। ২০২১-২২ সালে তা বেড়ে হয় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের প্রবীণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে দেশে নির্ভরশীল শিশু-কিশোর ছিল ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে বেড়ে হয়েছে ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ। ১৪ বছর পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের নির্ভরশীল হিসেবে গণ্য করা হয়।

বর্তমানে দেশে ৬৫ ঊর্ধ্ব বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬২৬ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে শুধু ২০২২ সাল ছাড়া প্রতিবছরই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৯ সালে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ছিল ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ২০২১ সালে ছিল ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ, ২০২২ সালে তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

মোট জনসংখ্যার মধ্যে পুরুষের তুলনায় নারী বেশি থাকলেও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে নারীর চেয়ে পুরুষ বেশি। ২০২৩ সালে দেশে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ ছিল মোট পুরুষ জনগোষ্ঠীর ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০১৯ সালে যা ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে দেশে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নারী ছিল মোট নারী জনগোষ্ঠীর ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ২০১৯ সালে যা ছিল ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।

শহরের তুলনায় গ্রামে প্রবীণ নির্ভরশীল বেশি। গ্রামে প্রবীণ রয়েছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ, যেখানে শহরে রয়েছে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। বৃদ্ধির হারও শহরের তুলনায় গ্রামে বেশি। গত চার বছরে গ্রামে প্রবীণ নির্ভরশীল বেড়েছে এক শতাংশের বেশি। শহরে বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

দেশে শুধু যে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে, তা নয়। ৫০ বছরের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও বেড়েছে। বিবিএস বলছে, ২০১৯ সালে দেশে ৫০ থেকে ৬৫ বছর বয়সের মানুষের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশে উঠেছে।

এদিকে দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে মানুষের গড় বয়সও বেড়েছে। ২০১৯ সালে দেশের মানুষের গড় বয়স ছিল ২৮ দশমিক ৯৬ বছর। ২০২৩ সালে তা ২৯ দশমিক ২৬ বছরে উন্নীত হয়েছে। তবে পুরুষের তুলনায় নারীর গড় বয়স বেশি। অর্থাৎ পুরুষের চেয়ে নারীরা বাঁচে বেশি দিন। ২০২৩ সালে দেশের নারীদের গড় বয়স ছিল ২৯ দশমিক ৪২, আর পুরুষের ২৯ দশমিক শূন্য ৯ বছর।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের মোট জনসংখ্যার বেশিরভাগ এখনো তরুণ। কিন্তু ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে সংকট তৈরি হতে পারে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ কালবেলাকে বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের যত্ন ও সহায়তার জন্য দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান সুবিধাগুলো একেবারেই যথেষ্ট নয়। সরকারে কিছু সামাজিক সুরক্ষার আওতায় ভাতার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু বয়স্ক ভাতা সবাই পাচ্ছে না। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো আরও প্রসারিত করতে হবে। অর্থাৎ আস্তে আস্তে সর্বজনীনের দিকে যেতে হবে, যাতে সব বয়স্ক মানুষ ভাতা পায়। এরই মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার সর্বজনীন পেনশন চালু করেছে। সরকার শুধু সামাজিক কর্মসূচি দিয়ে পারবে না। যাদের সক্ষমতা আছে তাদের সর্বজনীন পেনশনে অংশগ্রহণ করা উচিত। তবে সরকার যে কর্মসূচিগুলো চালু করেছে সেগুলো যেন কার্যকর হয় সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধ জনসংখ্যা বাড়ার তথ্য আমাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে, এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। তা না হলে হঠাৎ করে একসময় করোনার মতো মহামারি চলে আসবে। তখন শুধু ঠেকানোর কাজ ছাড়া কিছুই করতে পারব না। এখনো সময় আছে, পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার। কারণ ২০৪০-৫০ সালের দিকে আমাদের প্রবীণ জনসংখ্যা আরও বাড়বে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেসিকে কেন ছাড়? ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ

এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে কোন ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক খেলা দেখেছে?

ওপিসিডব্লিউ’র পরিদর্শক দল কর্তৃক ৩ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন 

ঢাকা থেকে যুবলীগ নেতা আটক 

দাবি রাশেদ খাঁনের / জামায়াতের নেতারা বিনা জামানতে কোটি কোটি টাকা ঋণ পায়

গ্রুপ পর্বে নেইমারকে পাচ্ছে না ব্রাজিল? যা বলছেন চিকিৎসকরা

সংসদে ‘কাঁচা রাস্তা’ বলার ব্যাখ্যা দিলেন জেবা আমিন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান বাতিল 

নারী বাদিকে দেখেই ওসির মন্তব্যে ‘আপনি সেই মাল’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১০

এআই ডিপফেকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে প্রীতি জিন্টা

১১

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

১২

সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন অর রশীদ আর নেই

১৩

স্টেডিয়ামের পরিছন্নতা কর্মীদের বেতন বাড়ালেন তামিম

১৪

দেশি বিনিয়োগেই ভরসা খুঁজছে বিডা

১৫

‘এত ঋণখেলাপি থাকলে তো জনগণ ঋণখেলাপিদের সংসদ বলবে’

১৬

যেসব দেশে আটকে আছে ইরানের ১০০ বিলিয়ন ডলার

১৭

নতুনদের বরণে এমআইএসটি-তে উদযাপিত হলো ′ফ্রেশার্স ডে - ২০২৬′

১৮

ওয়ালটনের পিসিবিএ রপ্তানি শিপমেন্ট উদ্বোধন

১৯

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো অবহেলা বরদাশত করবে না সরকার : প্রতিমন্ত্রী

২০
X