কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০২:১০ এএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:০৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সম্পাদকীয়

নজরদারি অব্যাহত রাখুন

নজরদারি অব্যাহত রাখুন

আমাদের দেশে বর্জ্য পদার্থের একটা বিরাট অংশ হচ্ছে পলিথিন বা প্লাস্টিক। উপাদানগত দিক থেকে এই পলিব্যাগগুলো মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী, পরিবেশ ও আবহাওয়ার জন্য ক্ষতিকর। তাই পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে যাবতীয় প্লাস্টিক শপিংব্যাগ ও পলিথিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর আগে ২০০২ সালে সরকার আইন করে সাধারণ পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ করলেও মাঠপর্যায়ে আইনটির বাস্তবায়ন করা যায়নি। অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে বিগত বছরে পলিথিনের ব্যাগ পরিবেশের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাল, নালা-নর্দমায় পলিথিনের স্তূপের কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। প্লাস্টিক ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় তিন হাজার কারখানায় প্লাস্টিক ও পলিথিন তৈরি হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে দিনে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যাগ উৎপাদন হয়। বাজার মনিটরিং ও বিকল্প—দুটিকেই গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সম্প্রতি বলেছেন, আগেও পলিথিন বন্ধের উদ্যোগ অনেকখানি সফল হয়েছিল শুধু বাজার মনিটরিংয়ের কারণে। পলিথিনের বিকল্প নিয়েও কাজ চলছে। তবে দেশে সবসময়ই পলিথিনের সুস্পষ্ট বিকল্প ছিল। এখন পাট, কাপড় ও কাগজকে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন শপিংব্যাগ বন্ধে আজ (৩ নভেম্বর) থেকে উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সব জেলা প্রশাসক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পলিথিন শপিংব্যাগের ব্যবহার বন্ধে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তর গঠিত মনিটরিং কমিটির উদ্যোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও আশপাশের বিভিন্ন সুপারশপে বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের সময় এসব কথা বলেছেন মনিটরিং টিমের আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) তপন কুমার বিশ্বাস।

গত ১ অক্টোবর সুপারশপগুলোয় পলিথিন ব্যবহার বর্জন করতে নির্দেশনা দেয় সরকার; কিন্তু সেটিও পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। গত দুই মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ব্যাপক পরিমাণ পলিথিন জব্দ এবং আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে। তবু থেমে নেই এর ব্যবহার। মাঠপর্যায়ে পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে এরই মধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে হাটবাজার ও কারখানায় অভিযান চালানো হবে। এসব বিষয় কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটি।

পরিত্যক্ত প্লাস্টিক মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে বাতাস, পানি ও খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। এই অনুপ্রবেশের ফলে দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুস ও কিডনিজনিত রোগের উপক্রম ঘটে। প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরির উপকরণগুলোর মধ্যে বিসফেনল এ (বিপিএ) ও ফ্যালেটসের মতো রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এগুলো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, শ্বাসকষ্ট, প্রজনন সমস্যা ও ক্যান্সারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্য জটিলতার সৃষ্টি করে।

এই ব্যাগগুলো যখন পোড়ানো হয়, তখন ডাইঅক্সিন ও ফুরানের মতো অত্যন্ত বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত হয়। এগুলো বায়ুদূষণের মধ্য দিয়ে শ্বাসযন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাইক্রোপ্লাস্টিক যে কোনো উভচর প্রাণীর পরিপাকতন্ত্র বিনষ্ট করে দেয়, যার ফলে অপুষ্টি, অনাহার ও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুও ঘটতে পারে।

আমরা মনে করি, পলিথিনের উৎপাদন বন্ধ করা গেলে এর ব্যবহার বন্ধ করাটা নিশ্চিত করা যাবে। তবে উৎপাদন বন্ধের ব্যাপারে নজরদারি অব্যাহত রাখতে হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পরীক্ষামূলকভাবে আজ শুরু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল

ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক

দেশে কত দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে আজ

সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ আজ

রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফিরছেন কঙ্গনা

স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে : নীরব

ওরিকে স্বামী বললেন জাহ্নবী

ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত কিছু মেডিকেল মিথ

উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টি ও ভূমিধসে ৬ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ১১

জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ ও কাদেরকে গ্রেপ্তার দাবি লায়ন ফারুকের

১০

নাফ নদীতে বেপরোয়া আরাকান আর্মি, উপকূলজুড়ে আতঙ্ক

১১

খোলা হয়েছে পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিলেছে ৩২ বস্তা টাকা

১২

এক মঞ্চে কিম, পুতিন ও শি জিনপিং

১৩

ভিন্ন রূপে হানিয়া

১৪

রাজধানীতে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি

১৫

নাক ডাকা বন্ধ করার ৭ সহজ উপায়

১৬

৩০ আগস্ট : কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

১৭

আট মাসে ইরানে ৮৪১ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

১৮

চার সেনাকে খুঁজে পাচ্ছে না ইসরায়েল

১৯

জ্ঞান ফিরেছে নুরের

২০
X