জাফর ওয়াজেদ
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

একাত্তরের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট

একাত্তরের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট

স্বাধীন স্বদেশকে মুক্ত করার ব্রতে জেগেছিল বাঙালি একাত্তর সালে। বায়ান্ন বছর আগে শত্রুকে পরাস্ত করে মুক্ত করেছিল স্বাধীন স্বদেশ। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর বাঙালির জাতির জীবনে এক মহিমান্বিত মাস। দেশকে হানাদারমুক্ত করতে বাঙালি জাতি সমগ্র লড়াইয়ে জেগেছিল। এদের মধ্যে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

প্রথম ইস্ট বেঙ্গল ছিল যশোরে। যার অধিনায়ক বাঙালি লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল জলিল এবং দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল জয়দেবপুরে। অধিনায়ক বাঙালি লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদুল হাসান খান। এ দুই রেজিমেন্টের দুই অধিনায়কই পাকিস্তানিদের কাছে বড় কোনো চাপ ছাড়াই আত্মসমর্পণ করেন। এ দুই ব্যাটালিয়ন সেনাদের কেউ কেউ পাকিস্তানিদের হাতে নিহত হলেও অধিকাংশই পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

একাত্তরের মার্চে বাংলাদেশ ছিল উত্তাল। স্বাধীনতাকামী মানুষের আকাশভেদী স্লোগানে প্রকম্পিত। শেখ মুজিবের ডাকে পুলিশ, ইপিআর, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি তখন আনুগত্য প্রকাশ করে তার নির্দেশ মেনে চলছিল। শুধু কর্মরত বাঙালি সেনারা তখনো আনুগত্য প্রকাশের পর্যায়ে ছিল না। তাদের কেউ কেউ পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা চালানোর পর। কেউ কেউ পাকিস্তান বাহিনীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। বাঙালি সেনাদের অনেকে পাকিস্তানিদের হাতে নিহত হন সে সময়ই। মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা অতুলনীয়। কিন্তু তারপরও রয়ে গেছে খাদ। সব বাঙালি সৈন্য মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছে, তা নয়। অনেকে হানাদারের সহযোগীও ছিল। পাকিস্তানেও ফিরে যায় অনেকে।

বাঙালি সৈনিকদের সমন্বয়ে গঠিত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট কী পর্যায়ে ছিল ১৯৭১ সালে বা কী অবস্থা হয়েছিল তাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দিকে তাকালে এ প্রশ্ন সামনে আসবেই। এ সৈনিকদের হালহকিকত কী দাঁড়িয়েছিল ১৯৭১ সালে, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো কাজ হয়নি তেমন। ছিল যারা সহকর্মী; তারাই শত্রুতে পরিণত হয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কাছে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের শীর্ষ কর্তারা কেউ সারেন্ডার করেন, কেউ মারা পড়েন।

ব্রিটিশকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বাঙালির অংশগ্রহণ ছিল নামমাত্র। পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭০ পর্যন্ত তাতে বাঙালির প্রতিনিধিত্ব ছিল শতকরা ৫ ভাগ। ৯৫ ভাগ পাকিস্তানির পাশে ৫ ভাগ নস্যি যেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট বা প্রতিষ্ঠানে বাঙালিরা ছিল ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায়। পুরোপুরি বাঙালি সৈনিকের গঠিত কোনো ইউনিট বা প্রতিষ্ঠানও ছিল না। একমাত্র পদাতিক বাহিনীর রেজিমেন্টগুলো ছিল পাকিস্তানিদের আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক ভিত্তিতে। প্রাদেশিক ভিত্তিতে সৈনিক রিক্রুটমেন্ট বা নিয়োগ করা হতো। অঞ্চল ভিত্তিতেই নামকরণ করা হয় রেজিমেন্টগুলোর। একাত্তর সালেও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চারটি পদাতিক রেজিমেন্ট ছিল। পাঞ্জাব রেজিমেন্ট, বেলুচ রেজিমেন্ট, ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্ট এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। এগুলোর আবার একাধিক ব্যাটালিয়ন ও ব্রিগেড ছিল। বাঙালিরা অন্য রেজিমেন্টগুলোয় কাজ করার সুযোগ পেত তা নয়। বাঙালি রেজিমেন্টেরও শীর্ষ পদসহ অন্য পদগুলো বাকি তিন রেজিমেন্ট থেকে আসা সেনাদের দখল বা নিয়ন্ত্রণে থাকত। কুমিল্লার বুড়িচংয়ের মেজর জেনারেল গণি বা টাইগার গণি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বাঙালি সৈনিক সমন্বয়ে গঠিত একমাত্র রেজিমেন্ট ছিল ইস্ট বেঙ্গল। যার ছিল মাত্র আট ব্যাটালিয়ন সৈনিক। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল ছিল নাম। এই আট ব্যাটালিয়নের মধ্যে ২৫ মার্চ ১৯৭১ পর্যন্ত পাকিস্তানের লাহোর, করাচিতে ছিল তিনটি ব্যাটালিয়ন। আর পূর্ববাংলায় পাঁচটি। এ পাঁচটি ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়কদের মধ্যে দুজন ছিলেন বাঙালি। বাকি তিনজন পাকিস্তানি উর্দুভাষী অবাঙালি।

সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে আওয়ামী লীগ—এমন হিসাবটা পাকিস্তানি সামরিক জান্তাদের ধারণার বাইরে ছিল। ‘বাঙালির হাতে পাকিস্তানের শাসনভার যে দেওয়া যায় না’—এ মতে একাট্টা ছিল সামরিক জান্তারা। তাই তারা ‘পূর্ব পাকিস্তান’ জুড়ে পাকিস্তানি সেনাবহর সংখ্যা বাড়ানোতে মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিল। ১৯৭১-এর ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানি সেনা ছিল বাংলাদেশে ১০ থেকে ১২ হাজার। ১৫ মার্চ থেকে এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। সারা বাংলায় পাকিস্তানিদের মাত্র চারটি ব্রিগেড ছিল। ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানিদের শক্তি ছিল ১৪তম ডিভিশনের কয়েকটি ব্যাটালিয়ন মাত্র।

পাকিস্তানে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের যে তিনটি রেজিমেন্ট ছিল, সেখান থেকে অনেক মেজর, ক্যাপ্টেন পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। বাকিরা ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। অনেক বাঙালি সেনা পাকিস্তানিদের হয়ে বাঙালি নিধনে নেমেছিল। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়ন, যারা ‘সিনিয়র টাইগার’ নামে পরিচিত তারা সব সেনা, অস্ত্র, রসদসহ বাঙালি অধিনায়ক লে. কর্নেল রেজাউল জলিলের নেতৃত্বে যশোরের চৌগাছায় অবস্থান করছিল। তারা ২৪ মার্চ থেকেই বার্ষিক ‘ফিল্ড এক্সারসাইজ’ উপলক্ষে সেখানে ছিল। ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরুর খবর জানার পরও তারা নির্বিকার ছিল। দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনের মুক্তিযুদ্ধের সেনা অধিনায়ক মেজর আবু উসমান চৌধুরী দুদফা পত্র পাঠান লে. কর্নেল জলিলকে। যাতে উল্লেখ করেন, ‘দেশ ও দশের লোকের নিরাপত্তা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বিপর্যস্ত। মা-বোনের ইজ্জত লুণ্ঠিত, জ্ঞানী-গুণী ও ছাত্ররা হতাহত হচ্ছে। তাই এর বিরুদ্ধে আমি আমার ইপিআর বাহিনীকে নিয়ে বিদ্রোহ করেছি। বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছি। আর কে কী করছে জানি না। কিন্তু আপনি সিনিয়র, আপনার কাছে সৈন্য আছে, হাতিয়ার আছে, আপনি আসুন, অধিনায়কত্ব গ্রহণ করুন। আমরা সম্মিলিতভাবে এদের দমন করতে সক্ষম হব।’ প্রথম দফা চিঠিটি পেয়ে কোনো জবাব না দিলে পরদিন ২৮ মার্চ একই পত্র পাঠালে কর্নেল জলিল পত্রবাহককে ‘পাগলের প্রলাপ’ বলে হেসে উড়িয়ে দেন কোনো জবাব না দিয়ে। এমনকি এ বিষয় নিয়ে পুনরায় না আসার জন্য বার্তাবাহককে সতর্ক করে দেন।

দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল জয়দেবপুরে। অধিনায়ক বাঙালি লে. কর্নেল মাসুদের রেজিমেন্টটি ২২ মার্চ থেকেই একরকম বিদ্রোহ করে। মেজর মঈনুল হোসেন চৌধুরীর অধীনে রেজিমেন্টটির এই অংশটি এরই মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার আবরারের বাঙালি নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। ২৫ ও ২৬ মার্চ ঢাকায় অপারেশন সার্চলাইট শুরুর পর তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অবস্থান ছেড়ে সরে যায়। রেজিমেন্টের অন্য দলটি মেজর শফিউল্লাহর অধীনে ক্যান্টনমেন্টের বাইরে ছিল। তারই নেতৃত্বে সেনারা বিদ্রোহ করে। এমন পরিস্থিতিতে লে. কর্নেল মাসুদ স্ত্রী, পুত্র, কন্যাসহ সেনানিবাসে নিজ গৃহে অবস্থান করছিলেন। তিনিও আত্মসমর্পণ করেন। পুরো ৯ মাস তার পরিবারটি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ছিল মেজর জিয়ার পরিবারসহ। অধীনস্থ রেজিমেন্টের বিদ্রোহের দায়িত্ব তাকে গ্রহণ করতে হবে; তিনি তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কেন, সে প্রশ্নের জবাব মেলেনি।

তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল রংপুরে। যার অধিনায়ক ছিলেন পাকিস্তানি লে. কর্নেল ফজলুর রহমান। এখানে বাঙালি সেনারা সুবিধা করতে পারেনি। অনেকে পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে বাঙালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। এমনকি গণহত্যায়ও অংশ নিয়েছিল। চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল কুমিল্লায়। যার অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল খিজির হায়াত খান পাঞ্জাবি। উপঅধিনায়ক হিসেবে মেজর খালেদ মোশাররফ ২৪ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাকে পাঠানো হয় একটি কোম্পানিসহ শমসেরনগর। আরেকটি কোম্পানি মেজর শাফায়েত জামিলের অধিনায়কত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছিল। ২৭ মার্চ শাফায়াত জামিল অধিনায়ক খিজির হায়াত খানকে আটক করেন। এ দুটি কোম্পানি প্রথমেই বিদ্রোহ করে এবং পাকিস্তানি সেনাদের ওপর হামলা চালায়। প্রায় সবাই যুদ্ধে অংশ নেন।

অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিল চট্টগ্রামে। পাঞ্জাবি লে. কর্নেল রশিদ জানজুয়া ছিলেন এর অধিনায়ক। তবে এ ব্যাটালিয়নের উপঅধিনায়ক ছিলেন বাঙালি মেজর জিয়াউর রহমান। এ বেঙ্গল ব্যাটালিয়নকেও পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানোর জন্য ২৫ মার্চের আগেই আদেশ জারি করা ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাটালিয়নের এক কোম্পানি সেনা একজন পাঞ্জাবি অফিসারের নেতৃত্বে ‘অ্যাডভান্সড পার্টি’ বা অগ্রবর্তী দল হিসেবে পাকিস্তানের খাবিয়ান সেনানিবাসে চলে যায়। ব্যাটালিয়নের একটি কোম্পানিকে কর্নেল জানজুয়ার আদেশে ‘সোয়াত’ জাহাজ থেকে গোলাবারুদ খালাস করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োজিত রাখা ছিল। অবশিষ্টাংশ লে. কর্নেল জানজুয়ার অধীনে ষোলশহর নামক স্থানে প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় পাকিস্তান পাড়ি দেওয়ার জন্য দিন গুনছিল। কোনো ব্যাটালিয়নকে দেশের এক উইং থেকে অন্য উইংয়ে পাড়ি দেওয়ার প্রাক্কালে গাড়ি, অস্ত্রশস্ত্রসহ গোলাবারুদ ইত্যাদি জমা দিতে হয় নিয়মানুযায়ী, যা বদলি স্থানে যোগদানের পর পুনরায় পূরণ করা হয়। অষ্টম ইস্ট বেঙ্গলের এই ব্যাটালিয়নটির এ অবস্থা তখন। শুধু সৈনিকদের দৈনন্দিন প্রশিক্ষণের জন্য ন্যূনতম গাড়ি ও হাতিয়ার ছিল। এই ব্যাটালিয়নটি পুরোপুরি যুদ্ধোপযোগী ছিল না। সব মিলিয়ে রেজিমেন্টের প্রায় তিনশ বাঙালি তখন চট্টগ্রামে ছিল।

অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়নের মাত্র তিনটি কোম্পানি ২৫ মার্চ ষোলশহরে অবস্থান করছিল। পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার আনসারী রেজিমেন্টের অধিনায়ক জানজুয়াকে নির্দেশ দেন, যে কোনো মূল্যেই হোক সব অবরোধ পরিষ্কার করতে হবে। নির্দেশানুযায়ী জানজুয়া অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে ষোলশহর থেকে সেনানিবাস পর্যন্ত সব ব্যারিকেড সরানোর কাজে নিয়োগ করলেন। হাজার হাজার জনতার বাধা সত্ত্বেও সেনারা ব্যারিকেড সরাতে বাধ্য হলো। রাত ৯টার মধ্যে তারা সব সরায়। এ ব্যাটালিয়নকে ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত করে রাখা এবং বাঙালি অফিসারদের সৈনিকদের কাছ থেকে পৃথক করে রাখা, এমনকি সুযোগমতো হত্যা করার উদ্দেশ্যে ব্রিগেডিয়ার আনসারী ও জানজুয়ারা পরিকল্পনা করেন। তাই ২৫ মার্চ সন্ধ্যার পর ষোলশহর থেকে ব্যাটালিয়নের ‘সি’ কোম্পানিসহ মেজর মীর শওকতকে ট্রানজিট ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মেজর জিয়াকে চট্টগ্রাম বন্দরে রিপোর্ট করার জন্য বলা হয়। এই বাঙালি সেনারাই পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। সঙ্গে ইপিআর বাহিনী। তারা পাকিস্তানি বেশকিছু সেনাকে হত্যা করে। এ ব্যাটালিয়নটি চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধযুদ্ধ গড়ে তুলেছিল। তারা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রামকে ধরে রাখে। কালুরঘাটে হেরে গিয়ে পিছু হটে। এখানে ক্যাপ্টেন হারুন আহমদ চৌধুরী গুরুতর আহতাবস্থায় দুজন সহযোদ্ধার সহায়তায় পেছনে সরে আসেন। আর আহতাবস্থায় লে. শমসের মবিন চৌধুরী পাকিস্তানিদের হাতে ধরা পড়েন। তিনি পুরো ৯ মাস ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বাধীনতার পর তাকে জার্মানি পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য।

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাকিস্তানে যে তিনটি রেজিমেন্ট ছিল, সেখান থেকে অনেক মেজর ক্যাপ্টেন পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। বাকিরা ১৯৭৪ সালে দেশে ফেরত আসেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেও পুরো যুদ্ধকালে প্রতিরোধ গড়েছিল স্থায়ীভাবে সর্বত্র।

লেখক : মহাপরিচালক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় যাবেন না

৫ মার্চ : নামাজের সময়সূচি

সারিয়াকান্দিতে অপহৃত স্কুল শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

বগুড়ায় মাটি খুঁড়তে গিয়ে তিনটি গ্রেনেড উদ্ধার

টাকা-ডলার অদলবদলে রিজার্ভের পালে হাওয়া

শিশু ধর্ষণ মামলায় মাহেন্দ্র চালকের যাবজ্জীবন

সেপটিক ট্যাংকের গর্তে মাটি চাপা পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ফোনে কথা বলার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু

চাঁদার দাবিতে ৪ তরমুজ চাষিকে কুপিয়ে জখম

চট্টগ্রামের সুগার মিলের আগুন পুড়ল এক লাখ টন চিনি

১০

কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতায় পরিস্কার পানি থেকে বঞ্চিত লক্ষাধিক মানুষ

১১

দণ্ডিত মেজর হাফিজ আত্মসমর্পণ করবেন মঙ্গলবার

১২

মেহেরপুরে ৫ ঘণ্টায় ১ তালাক

১৩

রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

১৪

তিনশ একর প্যারাবন ২১ দখলদারের কবলে

১৫

১০ মাসে হাতে কোরআন লিখলেন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী

১৬

সংসদে ১০ মিনিটের জন্য নিজেকে বিরত রাখলেন লতিফ সিদ্দিকী 

১৭

চট্টগ্রামের সুগার মিলের আগুন নিয়ন্ত্রণে

১৮

রমজানে চাকরিজীবীদের কর্মঘণ্টা কমালো আমিরাত

১৯

রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক পেলেন সাতক্ষীরার বায়েজিদ হোসেন 

২০
X