মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের শক্তিমান লেখক। তিনি ১৯০৮ সালের ১৯ মে বাবার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের কাছে মালবদিয়া গ্রামে। বাবা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের গ্র্যাজুয়েট। তিনি সেটেলমেন্ট বিভাগে চাকরি করতেন এবং শেষ জীবনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে বিএসসিতে ভর্তি হয়ে পাঠ অসমাপ্ত রেখেই পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন। তিনি সহোদরের সঙ্গে যৌথভাবে ‘উদয়াচল প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং হাউস’ পরিচালনা করেন ১৯৩৪ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত। একই সঙ্গে তিনি বঙ্গশ্রী পত্রিকার সহকারী সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া কিছুদিন ভারত সরকারের ন্যাশনাল ওয়ার ফ্রন্টের প্রভিন্সিয়াল অর্গানাইজার এবং বেঙ্গল দপ্তরে প্রচার সহকারী পদেও কর্মরত ছিলেন। তার জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন। সাহিত্যের মাধ্যমে মার্কসের শ্রেণি-সংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে তিনি ছিলেন একজন দক্ষ শিল্পী। শহরের পাশাপাশি গ্রামজীবনের দ্বন্দ্বসংকুল পটভূমিও তার উপন্যাস ও গল্পে গুরুত্ব পেয়েছে। অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও ২২৪টি গল্প রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য রচনা জননী, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মানদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা ইত্যাদি। ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তার মৃত্যু হয়।