জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ দিয়ে তৃণমূল ফুটবলের জট খোলার লক্ষ্য। এ জন্য সরকারি সহায়তাও পাওয়া গেছে। সিনিয়র প্রতিযোগিতার সঙ্গে ছেলে ও মেয়েদের বয়সভিত্তিক আসর নিয়ে প্রত্যাশার পারদও চড়ছে। সাড়ে চার হাজার ফুটবলারের অংশগ্রহণের এ আসর ঘিরে চ্যালেঞ্জও কম নয়!
প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসর তিনটি আয়োজন করা। কারণ বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনে নামসর্বস্ব আয়োজনের উদাহরণ আছে হাজারটা! আরেক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ) ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার (ডিএসএ) মাঝে সমন্বয় করা। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক ডিএফএ কার্যত বিকল! যদিও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম লোগো উন্মোচনের দিন জানিয়ে গেছেন, আসর বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিন আসর আয়োজনের আগে গাইবান্ধা ডিএফএ থেকে গত ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে একটা চিঠি পাঠানো হয়। সে চিঠিতে অফিসিয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বরাদ্দকৃত অর্থ না দিয়ে তা অনূর্ধ্ব-১৪ দলের ম্যানেজারের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে! এটাই প্রমাণ করে, আর্থিক বিষয়ে চ্যালেঞ্জও কম নয়! এসব চ্যালেঞ্জ জয় করতে না পারলে দারুণ এ উদ্যোগের সুফল তোলাটা কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক তারকা হাসানুজ্জামান খান বাবলু কালবেলাকে বলেছেন, ‘নিকট অতীতে ফুটবলের তৃণমূল কিন্তু আক্ষেপের এক নাম হয়ে আছে। সে আক্ষেপ দূর করতে হবে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুটি বয়সভিত্তিক আসরে অংশগ্রহণকারীরা যাতে ফুটবলটা উপভোগ করতে পারে, এটা নিশ্চিত করা জরুরি।’ ফুটবলার ও কোচ দুই ভূমিকায় জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করা এ ফুটবল বিশ্লেষক আরও বলেন, ‘তিন আসরের ডিজাইন এমনভাবে করা হোক, বাচ্চারা যাতে সবকিছু উপভোগ করতে পারে। তাদের উপভোগ্য জায়গাটা তৈরি করতে পারলেই তৃণমূলে গতি আসবে।’
রিজভী করিম রুমি, আশীষ ভদ্র, বিপ্লব ভট্টাচার্য, জাহিদ হাসান এমিলি ও আশরাফুল ইসলাম রানার মতো ফুটবলারদের উঠে আসার সিঁড়ি ছিল শেরেবাংলা কাপ ও সোহরাওয়ার্দী কাপের মতো আসর। ২০০১ সালে শুরু হয়েছিল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। সর্বশেষ আসর হয়েছে ২০২২ সালে। মধ্যবর্তী অচলাবস্থা কাটানোর আসরের সঙ্গে বালক ও বালিকাদের দুটি বয়সভিত্তিক আয়োজনের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। তারুণ্যের উৎসবের খাত থেকে সরকার এরই মধ্যে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আরও ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। বাকি ৮ কোটি টাকা এশিয়ান ফুটবল সংস্থা (এএফসি) এবং পৃষ্ঠপোষকতার খাত থেকে আহরণ করা হবে।
কাজী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের চার মেয়াদে দুঃখ ছিল জেলার ফুটবল। কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও যেখানে আলো ফেরানো যায়নি। এমনকি অর্থ বরাদ্দের পরও বেশকিছু জেলায় লিগ আয়োজন করা যায়নি। তাবিথ এম আউয়াল প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পরই এ জায়গায় সজাগ। তারুণ্যের উৎসবের কল্যাণে ভালো একটা প্ল্যাটফর্মও পাওয়া গেছে। এখন দেখা যাক, কতদূর কি করা যায়!
জেলার ফুটবলে আলো ফেরানোর প্রচেষ্টায় বেশ আত্মবিশ্বাসী বাফুফে সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী, যিনি চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজক কমিটির প্রধান। তার কথায় ‘ঢাকায় বসে প্রতিযোগিতা আয়োজন করলাম, গ্রামেগঞ্জে গেলাম না। এভাবে তো নতুন ফুটবলার তৈরি করা যাবে না। আমরা চাই তৃণমূল থেকে খেলোয়াড় উঠে আসুক।’
মন্তব্য করুন