স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

সেমিতে মুখোমুখি সেনেগাল-মিশর

সেমিতে মুখোমুখি সেনেগাল-মিশর

আফ্রিকান নেশন্স কাপের প্রথম সেমিফাইনালে মিশরের সামনে সেনেগাল। মহাদেশীয় দুই পরাশক্তি ছাপিয়ে লড়াইয়ের আগে শিরোনামে মোহামেদ সালাহ ও সাদিও মানে। ২০২১ সালে সেনেগালকে প্রথম শিরোপা এনে দেওয়া মানেকে হতাশ করে ক্যারিয়ারের প্রথম আফ্রিকান মুকুট মাথায় তুলতে মরিয়া সালাহ!

দুই তারকা এক সময় লিভারপুলের সতীর্থ ছিলেন। অ্যানফিল্ডের দিনগুলোতে তাদের অম্লমধুর সম্পর্কের কথাও শোনা গেছে। অতীতে বিভিন্ন দ্বৈরথে সাদিও মানের সামনে স্বপ্ন বিসর্জন দেওয়ার হতাশায় পুড়তে হয়েছে সালাহকে। সে হিসেবে এবারের দ্বৈরথটা প্রতিশোধেরও। মজার বিষয় হচ্ছে, আফ্রিকার অন্যতম সেরা দুই ফুটবলারের মাঝে মিলও অনেক।

মানে ও সালাহ দুজনেরই বয়স এখন ৩৩। মহাদেশের দুই প্রান্তে মাত্র ৬৬ দিনের ব্যবধানে তাদের জন্ম। মানে সেনেগালের কাসামান্সে এক ইমামের সন্তান। পরিবার ফুটবল পছন্দ করত না বলে ১৫ বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছেড়ে ডাকারে চলে যান। সালাহর জন্ম নীল নদের পাড়ের নাগরিগে। পরিবার অতটা কঠোর না হলেও কায়রোর ক্লাবে অনুশীলনের জন্য প্রতিদিন ৩-৪ ঘণ্টার বাস ভ্রমণ করতে হতো। তিনিও মানের মতো ১৫ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে রাজধানীতে চলে আসেন। তাদের ক্যারিয়ারের পথচলা অনেকটা একই রকম। দুজনই নিজ দেশে বড় বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পে অর্থায়ন করেছেন।

এই জুটি লিভারপুলে প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অনেক সাফল্য পেয়েছেন। ২০২২ সালের আফ্রিকান নেশন্স কাপ ফাইনালের স্মৃতি এই ম্যাচে নতুন এক রোমাঞ্চ যোগ করেছে। সালাহ এবারের টুর্নামেন্টে ৪ গোল করেছেন, মানের গোল মাত্র একটি। দুজনই হয়তো আগের মতো ক্ষিপ্র নেই, কিন্তু তাদের ফুটবল মেধা এখনো অম্লান।

তারা পড়ন্ত মহাতারকা হতে পারেন, কিন্তু তারা এখনো মহাতারকাই। সেনেগাল বনাম মিশর মানেই ‘মানে বনাম সালাহ’—এই আলোচনা এড়ানো অসম্ভব। আর তাঞ্জিয়ারে সালাহর সামনে সুযোগ আসছে ইয়াউন্দে ও ডাকারের পেনাল্টির ক্ষত মুছে ফেলার। দুই দফায় সালাহর মিশরের বিরুদ্ধে ভাগ্যনির্ধারক ছিল মানের গোল।

এবারের দ্বৈরথের আগে ২০১৪ সালের বাছাইপর্বেও মানের সেনেগাল দুবার মিশরকে হারিয়েছিল। দুজনের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের মধ্যে সালাহ মাত্র একবার জয়ের মুখ দেখেছেন—সেটি ছিল বিশ্বকাপের প্রথম লেগের ম্যাচ। দুই লেগের দ্বৈরথে শেষ পর্যন্ত মিশর হেরে যায়। সম্ভবত এ কারণেই বুধবার তাঞ্জিয়ারে সালাহর বিশেষ কিছু প্রমাণ করার আছে।

বর্ণিল ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব সাফল্য পেলেও সালাহ এখনো আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিততে পারেননি। এ প্রসঙ্গে লিভারপুল তারকা বলছিলেন, ‘এমনকি মিশরের কেউ এই ট্রফি জেতার জন্য আমার চেয়ে বেশি মরিয়া নয়। আমি প্রায় সব ধরনের পুরস্কারই জিতেছি। এটিই সেই শিরোপা, যার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ সাদিও মানে বলছিলেন, ‘এই পর্যায়ে এসে কোনো কিছুই আমাকে অবাক করে না। যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। এ কারণেই মনোযোগ সর্বোচ্চ স্তরে রাখতে হবে। ম্যাচে যা-ই ঘটুক না কেন, আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাজিলে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মার্কিন সংগীতশিল্পী অলিভার ট্রি নিহত

মাঠে নামছে বিশ্বকাপের ফেভারিট স্পেন, কখন-কীভাবে দেখবেন

বেনজিরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক : আকতারুল

৩০ বছর বয়সের পর ত্বক ও চুল বদলে যায় কেন? আসল কারণ জানুন

গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ

নবম পে-স্কেল, বেতন-ভাতায় চূড়ান্ত বরাদ্দ!

পাকিস্তানে পুলিশের গুলিতে অস্ট্রেলীয় শিশুর মৃত্যু

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মার তীব্র ভাঙন

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ / ‘উধাও’ হওয়া গ্রাহকের ৫ লাখ টাকা বুঝিয়ে দিল ইসলামী ব্যাংক

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যেসব শীর্ষ নেতাদের হারিয়েছে ইরান 

১০

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ‘বড় বিজয়’ ইরানের

১১

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র / প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে শনাক্ত ত্রুটি ‘উদ্বেগজনক নয়’ : এনপিসিবিএল

১২

লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইতালি গেলেই ফেরত পাঠানো হবে

১৩

ভারতের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নতুন নির্দেশনা

১৪

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া

১৫

বাধ্যতামূলক জিপিএস সিস্টেমের আওতায় আসছে গণপরিবহন

১৬

প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন, আত্মহত্যার হুমকি

১৭

আয়াতের পৃথিবীটা একটি হুইলচেয়ারের অপেক্ষায়

১৮

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ

১৯

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলন্ত তরুণকে গুলি ও ২ জনকে হত্যা মামলার রায় ২৮ জুন

২০
X