শেখ হারুন
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:২২ এএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:০৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

রেলস্টেশন আছে, ব্যবহার নেই

চালু হয়নি দুই প্রকল্পের ৯ স্টেশন
রেলস্টেশন আছে, ব্যবহার নেই

যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রেলস্টেশন নির্মাণ করা হলেও তার কোনো ব্যবহার নেই। নির্মাণের পর চালু হয়নি স্টেশন। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে ভবনের দরজা-জানালা। এমনকি স্টেশনের মালপত্রও হচ্ছে নষ্ট। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় জঙ্গলে ছেয়ে যাচ্ছে আবাসিক ভবনগুলো। অকেজো হয়ে পড়ে আছে সোলার সিস্টেম। চুরি হয়ে গেছে রেলের ক্লিপ; নষ্ট হয়ে গেছে কাঠের স্লিপার। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৯টি স্টেশনের এমন বেহাল অবস্থা।

জানা গেছে, কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া সেকশন পুনর্বাসন এবং কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ২ হাজার ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি শেষ হয় ২০১৮ সালে। প্রকল্পের আওতায় ১৯টি রেলস্টেশন নির্মাণ এবং সংস্কার করা হয়। এ ছাড়া লাকসাম এবং চিনকী আস্তানার মধ্যে বিদ্যমান সিঙ্গেল লাইন সেকশনকে ডাবল লাইন ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের কাজও একই বছর শেষ হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে খরচ হয় ১ হাজার ৮১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

প্রকল্প দুটির আওতায় রেললাইন নির্মাণসহ ৩০টি স্টেশন নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি এই দুই প্রকল্পের ৯টি স্টেশন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে স্টেশনগুলো। এতে অর্থের অপচয় হচ্ছে।

সম্প্রতি আলোচ্য দুই প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। ওই দুই প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে। প্রকল্পটি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়েও যার সত্যতা মিলেছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনায় জানা গেছে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার ফলে নষ্ট হচ্ছে স্টেশনগুলোর ভবনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, চুরি হয়ে গেছে রেল ক্লিপ, ভেঙে গেছে স্লিপার। অকেজো হয়ে পড়ে আছে সিগন্যালিং সিস্টেম। প্রকল্প এলাকায় রেলের জায়গা দখল করে করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া সেকশনের পাঁচটি স্টেশন জনবলের অভাবে বন্ধ আছে। এমনকি স্টেশনের ভবনগুলো নির্মাণের পর থেকে ব্যবহার হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকার ফলে স্টেশন ভবনের গ্রিল, দরজা ও অন্য মালপত্র নষ্ট হচ্ছে। সিগন্যালিং সিস্টেমও অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্টেশনগুলোতে প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও জনবল না থাকায় যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। ফলে এসব স্টেশন কাউন্টার থেকে কোনো টিকিট বিক্রি হয় না। যাত্রীরা ট্রেনে উঠে টিকিট সংগ্রহ করেন।

এদিকে, গোপালগঞ্জের গোবরা, বরাশী, চন্দ্রদিঘলিয়া, ছোট-বাহিরবাগ এবং চাপতা রেলস্টেশনে

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য তিনটি করে গ্যাংহাট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু জনবল না থাকায় তা পড়ে আছে। ফলে গ্যাংহাট চত্বরে আগাছা ও জঙ্গলের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনগুলোর জানালা, দরজা ও অন্যান্য অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায়

কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া ঘাট সেকশনের স্টেশন-ভবনগুলোতে সোলার পাওয়ার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। সেগুলো অকেজো বা নষ্ট হয়ে গেছে। অব্যবহৃত ভবনের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে প্রকল্পের রেললাইনের যন্ত্রাংশসহ অন্য মালপত্র।

এদিকে, পিপিআর লঙ্ঘন করে কেনাকাটা, ঠিকাদারকে অবৈধ সুবিধা, স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ না করা, অস্তিত্বহীন কাজের নামে ব্যয় দেখানোসহ নানা অনিয়মে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৫৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার ৭১টি অডিট আপত্তি ওঠে। এর মধ্যে আটটি আপত্তি নিষ্পত্তি হলেও বাকি ৬৩টি অডিট আপত্তি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে এই প্রকল্পে এখনো ৫৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে।

লাকসাম এবং চিনকী আস্তানার মধ্যে বিদ্যমান সিঙ্গেল লাইন সেকশনকে ডাবল লাইন ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামে ১১টি স্টেশন নির্মাণ এবং সংস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে নওটি, শর্শাদি, কালীদাহ, মুহরীগঞ্জে চারটি স্টেশন নির্মাণের পর চালুই হয়নি। এ ছাড়া শর্শাদি স্টেশনে একটি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে, যেটিতে বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা গেছে। অপরিচ্ছন্ন অবস্থার কারণে স্টেশনের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ভবনটি মেরামত বা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো সচল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে আইএমইডি।

দখল হয়ে গেছে রেলের জায়গা: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাকসাম এবং চিনকী রেললাইনের গুনবতি স্টেশনে রেল কর্তৃপক্ষ ছাড়াও বহিরাগত কিছু লোক রেলের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে কিছু দোকান-মার্কেট নির্মাণ করেছে, যা অপসারণ করা প্রয়োজন। প্রকল্পের আওতায় ১২টি স্টেশনে কম্পিউটার বেজড সিগন্যালিং সিস্টেম স্থাপন করা হলেও চারটি স্টেশনের সিগন্যালিং সিস্টেম নষ্ট এবং অকেজো অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া লাকসাম-চিনকী আস্তানা সেকশনে অনুমোদনহীন ২৯টি লেভেলক্রসিং রয়েছে, যেগুলো দিয়ে পথচারী পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রকল্প দুটির বন্ধ স্টেশনগুলোর বিষয়ে আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবস্থা দেখে মনে হয়েছে এগুলো কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই করা হয়েছে। ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনিভিপ্রেত। সরকারি অর্থে নির্মিত এসব অবকাঠামো যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমইডি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নামাজ শেষে বসে থাকা গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

রাকসু নির্বাচনে সাইবার বুলিংরোধে ৫ সদস্যের কমিটি

১৮ মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণায় শঙ্কা দূর হয়েছে : যুবদল নেতা আমিন

আহত নুরের খোঁজ নিলেন খালেদা জিয়া

বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণে ৩১ দফার বিকল্প নেই : লায়ন ফারুক 

চবির নারী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

অবশেষে জয়ের দেখা পেল ম্যানইউ

আ.লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ

আসিফের ঝড়ো ইনিংসও পাকিস্তানের জয় থামাতে পারল না

১০

খুলনায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে হামলা, আহত ১৫

১১

বাবা-মেয়ের আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল, মুগ্ধ নেটিজেনরা

১২

ডাচদের বিপক্ষে জয়ে যে রেকর্ড গড়ল লিটনরা

১৩

সাকিবের রেকর্ডে ভাগ বসালেন লিটন

১৪

বিএনপিপন্থি ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নতুন কমিটি নিয়ে নানা অভিযোগ

১৫

জয়ের কৃতিত্ব কাদের দিলেন লিটন?

১৬

চায়ের দোকানে আ.লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১৭

ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে যা বললেন তাসকিন

১৮

বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল থেকে জাপা অফিসে ভাঙচুর

১৯

প্রতিটি জেলা থেকে ট্যালেন্ট হান্ট চালু করবে বিএনপি : আমিনুল হক 

২০
X