রীতা ভৌমিক
প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:৫৩ এএম
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৩৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে রাহিয়ানের

ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে রাহিয়ানের

গাইবান্ধা সরকারি কলেজের পাশে প্রফেসর কলোনি সুন্দরজাহান মোড়ের বাড়িতে শুয়ে বসে দিন কাটছে ১৬ বছরের কিশোর রাহিয়ান ইসলাম সিয়ামের। গাইবান্ধা সরকারি কারিগরি শিক্ষা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র সে। প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, প্রতি রাতে জ্বর আসায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে তার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের ছররা গুলিতে আহত রাহিয়ানের ভবিষ্যৎ হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় থাকা মা-বাবাও অসুস্থতায় দিন পার করছেন।

রাহিয়ান বলে, লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। তাই এ অসুস্থ শরীর নিয়েও একদিন স্কুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রচণ্ড মাথাব্যথার যন্ত্রণায় ক্লাস না করেই বাসায় চলে আসতে বাধ্য হই। বাসায়ও লেখাপড়া করতে পারছি না।

জানা গেছে, বড় ভাই আহসান হাবীব আরিফের সঙ্গে ৪ আগস্ট দুপুরে ছাত্র আন্দোলনে যায় রাহিয়ান। গাইবান্ধা সদরে ডিসি অফিসের কাছে যেতেই পুলিশের ছররা গুলি তার বুকের বাঁ পাশে, মুখের ডান পাশে, মাথায় এবং ডান ও বাঁ হাতে লাগে। চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রাহিয়ান। সঙ্গে সঙ্গে বড় ভাই কোলে তুলে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে আহতের ভিড় ছিল। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে রক্ত বন্ধের জন্য আহতদের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছিলেন।

সেদিন রাহিয়ানের ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করে চিকিৎসক বলেছিলেন, ওকে সার্জারি কনসালট্যান্ট দেখাতে হবে। এখানে চিকিৎসা হবে না, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। কিন্তু বড় ভাই হাসপাতাল থেকে রাহিয়ানকে বাড়িতে নিয়ে যায়। মামলার ভয়ে রাহিয়ানকে হাসপাতালে চিকিৎসা করতে নেওয়া হয়নি। কিন্তু প্রচণ্ড যন্ত্রণায় টিকতে না পেরে দুদিন পর রাহিয়ানকে এসকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন সার্জারি চিকিৎসকও একই কথা বলেন। এখানে গুলি বের করা যাবে না। রক্তক্ষরণ হবে। দুদিন পর কয়েকজন ছাত্রসহকারে আবার গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রাহিয়ানকে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. আর এমের নির্দেশে অপারেশন করা হলে বুক, দুই হাত ও ঠোঁটের ওপরের অংশ থেকে পাঁচটি গুলি বের করা হয়। তার মাথা, মুখ, বুক ও পেটে এখনো সাতটি গুলি রয়েছে। মাথা থেকে গুলি বের করার চেষ্টা করলে রক্তক্ষরণ হয়। শেষে রংপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ১১ আগস্ট ছাত্ররা রাহিয়ানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলেও কোনো চিকিৎসা হয়নি সেখানে। প্যারাসিটামল, গ্যাসের ট্যাবলেট আর ক্ষতস্থানে লাগানোর জন্য একটি মলম লিখে দেন চিকিৎসক। তিন দিন এভাবেই হাসপাতালে কাটে। এরপর চিকিৎসক মাস খানেক পর আসতে বলেন। তিনি বলেন, তখন আপনা-আপনি ক্ষতস্থান পেকে গুলি বের হবে।

এদিকে ছেলের শারীরিক অবস্থা দেখে শঙ্কিত রাহিয়ানের বাবা গাইবান্ধা পৌর গোরস্তানের সরকারি খাদেম তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাহিয়ানের শরীরে ১২টি গুলি লাগে। পাঁচটি গুলি বের করলেও ক্ষতস্থানে আর ড্রেসিং করা হয়নি। ক্ষতস্থানে চাপ দিলে পুঁজ বের হয়। দেড় মাসে গুলিবিদ্ধ স্থানগুলোর যন্ত্রণাও বেড়েছে। সঠিক চিকিৎসা না পেলে ছেলের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। ওর সুচিকিৎসা দরকার। এই জেলা শহরে তা সম্ভব নয়।

মা রাহিনুর বেগমের কান্না যেন থামছেই না। তিনি বলেন, দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সবার ছোট হওয়ায় রাহিয়ান অনেক আদরের। গুলির যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতে পারে না। মা হয়ে কীভাবে ছেলের কষ্ট সহ্য করব। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাব, এমন সামর্থ্যও আমাদের নেই। ওর বাবা যা রোজগার করে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় খরচ করি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বন্দরের বহির্নোঙরে কোস্টগার্ডের অভিযান, আটক ১৬

দেড় বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে, বাস্তবায়নের পথে ৪০০ মিলিয়ন ডলার

চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া-কাউখালী সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

স্পেনের মিডফিল্ডার ওলমোকে ‘ঘুসি’, মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ

আর্জেন্টিনার জার্সি থেকে সরল ‘কাতার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ ব্যাজ

কিউআর কোড স্ক্যান করার আগে যে ৫টি বিষয় অবশ্যই দেখবেন

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে ২০২৬ উদযাপন

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের সূচি ঘোষণা, বড় সুযোগ টাইগারদের সামনে

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা

শুরুর আগেই শেষ মুস্তাফিজের দ্য হানড্রেড

১০

ফেসবুকে তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট-পেজ, সতর্ক থাকার আহ্বান

১১

প্রধানমন্ত্রীকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি

১২

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল যুবদল নেতার

১৩

সালমান শাহ হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছাল

১৪

৫ কোটি টাকার সড়ক কাজে ধীরগতি, যানজটে নাকাল মানুষ

১৫

মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ ও যানজট নিরসন হাইওয়ে পুলিশের অগ্রাধিকার

১৬

প্রিমিয়াম স্বাদের নতুন দুই আইসক্রিম বাজারে আনল পোলার

১৭

৫০তম বিসিএস / লিখিত পরীক্ষার ছয় হাজার ১৬৫ জন উত্তীর্ণ

১৮

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের সঙ্গে কমেছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

১৯

বিশ্বকাপ শেষ, ইউরো-কোপা আমেরিকা কবে কখন?

২০
X