বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২
লিটন ইসলাম, ঢাবি
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৫, ০৭:৫২ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ নথি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
অনিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রায় নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ নথি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠার পর থেকে কাগজের ওপর নির্ভরশীল হলেও ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কিছু শাখায় ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া লাগে। তবে অবহেলিত অবস্থায় রয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটির সার্টিফিকেট, মার্কশিট ও ট্রান্সক্রিপ্ট সেবা শাখাগুলো। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) না থাকা, জরাজীর্ণ পরিবেশ, কাগজে নির্ভরশীল হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব নথি।

এ তিন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত গরমের কারণে রুমগুলোর আর্দ্রতা বেড়ে যায়। যার ফলে ৪০ থেকে ৫০ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হওয়া সাবেক শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট, মার্কশিট ও ট্যাবুলেশন শিটসহ গুরুত্বপূর্ণ সব নথি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শত বছরের পুরোনো নথির অনেকগুলো আবার ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।

সার্টিফিকেট শাখায় কর্মরত সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ২০২২-২৩ সাল থেকে আমরা প্রিন্ট সার্টিফিকেট দিচ্ছি। কিন্তু এর আগের অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত যারা সার্টিফিকেট নিতে আসতেছে, তাদের হাতে লেখা সার্টিফিকেট দিতে হচ্ছে। ২০২৩ সালে এখানে কম্পিউটার দেওয়া হয়। এর আগে ২০২২ সালে আমরা অন্য জায়গা থেকে সার্টিফিকেট প্রিন্ট করে নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের দিতাম।

সার্টিফিকেট শাখার এক কর্মচারী ১৯৬২ সালের একটি ফাইল দেখালেন। যেখানে দেখা যায়, ফাইলের সব পাতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক পাতা টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। তিনি জানালেন, এসি না থাকায় অতিরিক্ত গরমে এ অবস্থা হয়েছে।

মার্কশিট ট্যাবুলেশন শাখার সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ লোকমান হোসেন জানান, আমাদের এখানে ১০ হাজারের অধিক ট্যাবুলেশন শিট রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোর শিক্ষার্থীদের প্রতি সেমিস্টারের ফল নিয়ে তৈরি করা হয় এসব ট্যাবুলেশন শিট। এর মধ্যে অনেক শিট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সের শিটগুলো নষ্ট হচ্ছে বেশি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে এরকম হচ্ছে। পাশাপাশি এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে বিকল্প হিসেবে নেই কোনো ব্যবস্থা।

জানা যায়, সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য প্রতিদিন ২০০টির বেশি আবেদন জমা হয় সার্টিফিকেট শাখায়। এর মধ্যে ১০০ থেকে ১৫০ জনকে প্রিন্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। বাকিগুলো হাতে লেখা সার্টিফিকেট দিতে হয়। তিন শাখা মিলিয়ে প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সেবা নিতে এসব শাখায় আসেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল আর্কাইভ হলে যুগ যুগ ধরে এসব কাগজপত্র টিকে থাকবে। এতে করে এসব শাখার কাজে যেমন গতিশীলতা আসবে পাশাপাশি কাজের চাপও কমবে। যার যা তথ্য দিতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিপদে পড়বে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী কালবেলাকে বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও ডিজিটাল আর্কাইভ না হওয়ায় অনেক মূল্যবান নথি নষ্ট হচ্ছে। যদি কোনো দুর্ঘটনা হয়, তাহলে এসব নথি দেওয়ার উপায় থাকবে না। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে এসব শাখার কাজেও গতি আসবে, পাশাপাশি সেবার মানও বাড়বে। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতেছি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। তিনি কালবেলাকে বলেন, এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও বিশ্ববিদ্যালয়ের। আমি এ বিষয়ে শাখা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। পুরোপুরি সমাধান না করতে পারলেও আপাতত যতটুকু পারা যায় ততটুকু করব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কবে নামছে বাংলাদেশ, কারা প্রতিপক্ষ—জানাল আইসিসি

এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

শীর্ষ ৩ পদে কত ভোট পেয়ে জিতল ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল

জকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জয়

জুলাইয়ে বীরত্ব : সম্মাননা পেল ১২শ আহত, শহীদ পরিবার ও সাংবাদিক

পাকিস্তানের আকাশসীমায় অসুস্থ হওয়া বিমানের যাত্রীর মৃত্যু, তদন্তের মুখে পাইলট

ফারহানের ফিফটিতে লঙ্কান দুর্গে পাকিস্তানের দাপুটে জয়

আয় ও সম্পদ নিয়ে অপপ্রচার, মুখ খুললেন নাহিদ ইসলাম

৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে

১০

ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যায় মামলা, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

১১

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আবছারকে কারাদণ্ড

১২

‘সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ির বাইরে থাকতে পারবে না’

১৩

এবার আর্থিক সহায়তা চাইলেন হান্নান মাসউদ

১৪

‘জুলাই বার্তাবীর’ সম্মাননা পেলেন কালবেলার আমজাদ

১৫

দুই বন্ধুর একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, একসঙ্গেই মৃত্যু

১৬

সুন্দরবনে ফাঁদে আটক হরিণ উদ্ধার, শিকারি গ্রেপ্তার

১৭

তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে জুলাই আন্দোলন করেছি : রাশেদ

১৮

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যা

১৯

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস বাস্তবায়ন কতদূর?

২০
X