

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের এখনো তীব্র সংকট চলছে। সরকার থেকে কর ও ভ্যাট হ্রাসের ঘোষণা, ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরও স্বস্তি ফেরেনি ভোক্তা পর্যায়ে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই নগরের অধিকাংশ খুচরা দোকানে গ্যাস পাওয়া যায়নি। কোম্পানি পর্যায়ে সরবরাহ কম বলে দাবি করেছেন তারা। অন্যদিকে কোথাও সীমিত পরিমাণ গ্যাসের সিলিন্ডার থাকলেও সেগুলো বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের ৫০০-৬০০ টাকা বেশিতে।
এ ছাড়া সংকট ও দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে। রান্না ও ব্যবসা পরিচালনায় বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেড়েছে হতাশা এবং অসন্তোষ।
নগরের কোতোয়ালি, বাকলিয়া, লালদিঘি, কল্পলোক আবাসিক, বায়েজিদ, পতেঙ্গা ও অন্যান্য আবাসিক এলাকায় সরেজমিন খুঁজে দেখা গেছে, অধিকাংশ খুচরা দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি।
খুচরা দোকানিরা অভিযোগ করছেন, ডিলাররা সরবরাহ কমাচ্ছে বা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। সীমিত পরিমাণ পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্যে।
ডিলারদের দাবি, সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হতে দু-এক দিন সময় লাগে। নতুন করে সিলিন্ডার সরবরাহ হলে সেগুলোই খুচরা দোকানে যাবে, দামও কমে যাবে। অন্যদিকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করছে, সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যে ডিলারদের কাছে বিক্রি করছেন।
বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিকের ব্যবসায়ী শওকত হোসেন জানান, চলতি সপ্তাহে ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ১ হাজার ৩০০ টাকায় কিনেছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার ওই কোম্পানির গ্যাস পাননি তিনি। পরে ব্যবসার স্বার্থে ১ হাজার ৫৫০ টাকায় অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
ভোক্তা ইসমাইল সিকদার বলেন, শহরের অনেক দোকানে এলপিজি সিলিন্ডারই পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত তুলাতলী এলাকা থেকে ১৮০০ টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনতে হলো।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শাহীন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে আমাদের মতো মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। গ্যাসের দাম বাড়ায় ঘরের খরচ সামলানো দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সাধারণ ভোক্তাদের ধারণা, বাজারে চলমান সংকট ও চড়া দামের পেছনে সরাসরি দায়ী ব্যবসায়ীরা। সরকারের কঠোর নজরদারি এবং বাজার মনিটরিং কার্যক্রমের কারণে কালোবাজারি সিন্ডিকেট ভেঙে গেছে। এর ফলে কিছু অসাধু ডিলার ও ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, বাজার থেকে সিলিন্ডার সরিয়ে রাখছে এবং ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।
চট্টগ্রাম কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, এলপিজি ব্যবসায়ীরা মানুষকে জিম্মি করে পকেট কাটছে। এলসি সমস্যা থাকলে আগেই জানানো উচিত ছিল। এখানে আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর ও পাইকারি-খুচরা বিক্রেতাদের কারসাজি আছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
চট্টগ্রাম শহরে মিরসরাই জোনের এলপিজির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিজবী আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহ করছি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই।’
এলপি গ্যাসের সংকট ও মূল্য অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও কর কমানোর সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। আমদানি করা এলপিজির ওপর ভ্যাট ১৫ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদিত এলপিজির ভ্যাট ৭.৫ শতাংশে নামানো হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক ঋণ ও এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন