শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক তৎপরতা না থাকলেও বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে বেশ সরব জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন, সন্ত্রাস-দখলদারমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাসসহ ৯ দফা দাবির ভিত্তিতে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য’ গঠন করেছে ১৫টি ছাত্র সংগঠন। মূলত সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহযোগী ছাত্র সংগঠনগুলোই এই মোর্চায় যুক্ত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে কথা বলেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালবেলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোতাহার হোসেন।
কালবেলা: দেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদলের তৎপরতা নিয়ে কিছু বলুন?
রাশেদ ইকবাল খান: বর্তমানে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার ন্যূনতম পরিবেশ নেই। কারণ, একটি ফ্যাসিবাদী সরকার বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যারা জনগণের কথা বলতে চেয়েছে, তাদের দাবি নিয়ে সামনে এসেছে—তাদের বিভিন্নভাবে মামলা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনও এই পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সেখানেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সহাবস্থানের যে সংস্কৃতি ছিল, তা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। সহিংসতা চরমভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধী মতের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। ক্যাম্পাসে দাঁড়াতে দেয় না।
এরপরও ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে যখনই গেছে, তখনই ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর আঘাত এসেছে। শত শত নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছেন। নির্যাতিত অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তারপরও ছাত্রদল সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে।
কালবেলা: ছাত্র রাজনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনাদের মূল্যায়ন কী?
রাশেদ ইকবাল খান: স্বাধীনতার এত বছর পরও যখন দেশের জনগণের চাওয়া চরমভাবে অবমূল্যায়িত হয়, এখন আমাদের আর বাইরের কোনো পরাশক্তি শোষণ করছে না। আমাদের দেশ থেকেই একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। এই ব্যবস্থা দেশের জনগণ ও শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকে চরমভাবে অমূল্যায়িত করছে। এখন অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়েছে। কালো আইন এখন আইন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ছাত্ররাই আশার আলো; যারা জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারবে। বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে ছাত্র রাজনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তারাই নিজেদের অধিকার পুনরুদ্ধার করতে পারবে। আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য গড়ে তুলেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা ৯ দফা দাবি পেশ করেছি। এই ৯ দফা বাস্তবায়ন করতে পারলে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাতে পারব।
কালবেলা: নব্বইয়ের দশকে সারা ছাত্রদলের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে উঠেছিল। সে তুলনায় এখনকার অবস্থান অনেক দুর্বল মনে হয়। এর কারণ কী?
রাশেদ ইকবাল খান: এরশাদ ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হয়ে স্বৈরশাসন শুরু করেছিলেন। আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। তারা ক্ষমতায় এসে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা কায়েম করে, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করে। চরমভাবে জনগণের ওপর
দমন-নিপীড়ন চালায়। সমাজে যখন ভয় এবং গুম হওয়ার ভীতি ছড়িয়ে পড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবাদের ভাষাটা ক্ষীণ হয়ে যায়। এর পরও ছাত্রদল গত ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করে আসছে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে। রাজপথে তাদের ভূমিকা অসংখ্যবার জানান দিয়েছে। ছাত্রদলের আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই এই সরকারের পতন হবে বলে আশাবাদ রাখছি।
কালবেলা: ছাত্র রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সেখানে আপনাদের কোনো কার্যক্রম নেই কেন?
রাশেদ ইকবাল খান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কর্মসূচি নেই, এটা ঠিক নয়। বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের কর্মসূচি হচ্ছে। একটি দল যখন দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করে, তখন তাদের একটি লাঠিয়াল বাহিনী রাতারাতি দাঁড়িয়ে যায়। এই লাঠিয়াল বাহিনী তাদের বিভাগ, ক্যাম্পাসের সিনিয়র-জুনিয়র ভাইদের নির্মমভাবে নির্যাতন করে। গত বছরের ২৪ মে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের জন্য যাচ্ছিলাম। শহীদ মিনারের সামনে ৬০০-৭০০ ছাত্রলীগের বাহিনী দেশীয় অস্ত্রসহ সজ্জিত হয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরপর তিন দিন তারা আমাদের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করে। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হন। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশেই এ অবস্থা বজায় রেখেছে সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী। গণতন্ত্রের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেও তারা একদলীয় অবস্থায় নিয়ে এসেছে। আমরা এ থেকে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে চাই। এজন্য আমাদের কর্মপ্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
কালবেলা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়ার কথা, কিন্তু আপনাদের পার্টি অফিসে হয় কেন?
রাশেদ ইকবাল খান: ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেই এ পর্যন্ত এসেছে। আমরা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, সারা দেশের সব শিক্ষার্থীর দাবি আদায়ে সোচ্চার আছি। আরও সোচ্চার হতে চাই। কিন্তু এই সরকার ও তাদের সহযোগীরা ভিন্ন কোনো মত, দল, পথ সহ্য করতে পারে না। তারা ফ্যাসিবাদী। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি ক্যাম্পে রূপান্তর করেছে। গেস্টরুমকে নির্যাতনের কারখানা বানিয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি সুন্দর নিরাপদ ও ভয়মুক্ত ক্যাম্পাস উপহার দেব।
কালবেলা: অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কেমন?
রাশেদ ইকবাল খান: সবার সঙ্গে আমাদের হৃদ্যতাপূর্ণ আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে। সারা দেশের সব রাজনৈতিক দল যেমন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, ঠিক একইভাবে ১৫টি ছাত্র সংগঠন নিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্রঐক্য করেছি। এর বাইরেও কিছু ছাত্র সংগঠন সরকারের বিরুদ্ধে তাদের
আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ রাখছি। তারাও হয়তো আমাদের প্ল্যাটফর্মে আসবেন। আমরা একসঙ্গে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাব এবং দেশের মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার করব।
কালবেলা: ২০০১ সালে ছাত্রদলের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য গঠন করা হয়েছিল। সেখানে আপনাদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরও ছিল; কিন্তু এবার ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যে তারা নেই কেন?
রাশেদ ইকবাল খান: রাজপথে যারা সোচ্চার রয়েছে, যারা এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে তাদের সবাইকেই আমরা স্বাগত জানাই। রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার সঙ্গে যারা একমত হয়েছে, আমরা তাদের গুরুত্ব দিয়েছি। যারা রাজপথে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে আমরা তাদের গুরুত্ব দিয়েছি। যাদের সঙ্গে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছি তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা জোট করেছি। আমাদের সঙ্গে ইসলামী সংগঠন নেই তা নয়, আমাদের সঙ্গে ইসলামী সংগঠন রয়েছে। বাকিদের আমরা বলেছি আপনারা রাজপথে আপনাদের অবস্থান স্পষ্ট করুন। তাদের সবার জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে।
কালবেলা: আমাদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে তাতে, কর্মী সংকটের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক হলে ছাত্রদলের কমিটি দিতে পারেননি। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যভুক্ত অনেক সংগঠনের বাস্তবে তেমন কোনো তৎপরতা নেই। তাদের নিয়ে আদৌ আন্দোলন সফল হবে কি না—সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
রাশেদ ইকবাল খান: আমরা ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলে রয়েছি। দেশের মানুষের ভোটাধিকার এবং অধিকার আদায়ে লড়াই করছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কোনো রকম সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। তার পরও এখনো জাতীয়বাদী ছাত্রদল দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে আমাদের বড় পরিসরে কমিটি রয়েছে। আমাদের কোনো কর্মী সংকট নেই। সারা দেশে কমিটি না থাকা ইউনিটের সংখ্যা খুবই কম। আগের কমিটির সময় আমরা সারা দেশে উপজেলা, পৌরসভা এবং কলেজে দেড় হাজারের বেশি কমিটি করেছি। জেলা কমিটি গঠন করে যাচ্ছি।
আমরা যে সংগঠনগুলোর সঙ্গে জোট করেছি তারা প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ জায়গায় স্বতন্ত্র। আমরা আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ও সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পেরেছি। সরকারের কৌশল হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যারাই কথা বলবে, তাদেরই তারা যে কোনো কৌশলে বিতর্কিত করবে। দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ছাত্র সংগঠন খুব বেশি নেই। যেগুলো আছে তার অধিকাংশই আমাদের সঙ্গে রয়েছে।
কালবেলা: আন্দোলনের সাফল্য ও ঐক্য নিয়ে নিয়ে আপনাদের নিজেদের মধ্যেই প্রশ্ন আছে—এটা কি সত্য?
রাশেদ ইকবাল খান: আন্দোলন-সংগ্রামের ভবিষ্যৎ সফলতা অবধারিত। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। এখন দেশের মানুষ, দেশের সব শিক্ষার্থী তাদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার রয়েছে। আশা করছি, চলমান আন্দোলনে শতভাগ সফল হবো।
কালবেলা: নতুন কমিটি গঠন নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর বেশিরভাগই নেতিবাচক। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?
রাশেদ ইকবাল খান: এটা সম্পূর্ণভাবে দলের সিদ্ধান্তের বিষয়। দলের হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তা আমাদের সবার জন্য মঙ্গলজনক। সে সিদ্ধান্তকে আমরা বরণ করে নেব।
কালবেলা: ছাত্রদলের অভ্যন্তরে এত গ্রুপিং, বিভাজন কেন?
রাশেদ ইকবাল খান: এই বিষয় সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি একমত নই। ছাত্রদল গণমানুষের ছাত্র সংগঠন। একই পরিবারে যদি পাঁচ ভাই থাকে তাহলে একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক ক্ষেত্রে সবাই এক হতে পারে না। তাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকে। ঠিক ততটুকুই আমাদের মধ্যেও রয়েছে। যেটা সৌন্দর্য প্রকাশ করে। এর বাইরে দেশ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সবাই একমত।
কালবেলা: সামনে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আপনাদের ভাবনা কী?
রাশেদ ইকবাল খান: আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, জনগণ ও ছাত্রসমাজের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে সেই অবস্থান থেকে ছাত্রদের মুক্তি দেওয়া। ক্যাম্পাসে সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা। শিক্ষার মান নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা ৯ দফা দাবি পেশ করেছি। এই ৯ দফাকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজকে নিয়ে এই সরকারের পতনের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ গড়তে চাই।
কালবেলা: আপনাদের অধিকাংশ কর্মসূচি রাজনৈতিক। সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আপনাদের কর্মসূচি আছে কি না?
রাশেদ ইকবাল খান: রাজনীতি আমাদের সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। অপরাজনীতির কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অকালে জীবন হারাতে হয়। অপসংস্কৃতির চর্চা হয়। প্রতিভার বিকাশ হয় না। সবকিছু রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশে যখন একটি ফ্যাসিবাদী সরকার থাকে তখন তার পতন ঘটানো সর্বপ্রথম কাজ। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটানোর পর জনগণের ভোটে যে সরকার গঠন হয়, সেই সরকারের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করে। সেজন্য আমরা আগে এই সরকারের পতন ঘটানোর জন্য কাজ করছি। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়েও আমরা মাঠে রয়েছি।
কালবেলা: একাডেমিক দিক থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অনেকটা পিছিয়ে। এ বিষয়ে কিছু বলবেন?
রাশেদ ইকবাল খান: এ বিষয়ে আমি পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করছি। ছাত্রদল মেধাবীদের ছাত্র সংগঠন। ছাত্রদল স্মার্ট একটি ছাত্র সংগঠন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতীতে তাদের মেধার প্রমাণ দিয়েছে, বর্তমানেও দিচ্ছে, ভবিষ্যতেও দেবে।
কালবেলা: আপনাদের সংগঠনে নারী নেতৃত্ব অনেক কম। এটা কেন? মেয়েদের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
রাশেদ ইকবাল খান: এ বিষয়েও আমি দ্বিমত পোষণ করছি। আমাদের সংগঠনে প্রচুর নারী নেতৃত্ব রয়েছে। নারীরা আমাদের সঙ্গে রাজনীতি করছে। আমাদের নারী নেতৃত্ব অন্য যে কোনো সংগঠনের চেয়ে বেশি সমৃদ্ধ।
কালবেলা: আপনাকে ধন্যবাদ।
রাশেদ ইকবাল খান: আপনাকে এবং কালবেলাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।