১৩ বছরেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) চিকিৎসক নিবন্ধন সনদ নবায়ন করেননি সেন্ট্রাল হসপিটালের আলোচিত চিকিৎসক ডা. সংযুক্তা সাহা। সরকারি তথ্য বলছে, ২০০০ সালে ডা. সংযুক্তা সাহা বিএমডিসির নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করেন। পাঁচ বছর পরপর সনদ নবায়ন করতে হয়। ২০১০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর এই চিকিৎসকের সনদ নবায়নের মেয়াদ শেষ হয়। ১০ বছরেও আর সনদ নবায়ন করা হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ব্যস্ততার কারণে তিনি নিবন্ধন সনদ নবায়ন করতে পারেননি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর পরীবাগের নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমার নিবন্ধন নেই, বিষয়টি এমন নয়। নিবন্ধন আছে, তবে সেটি রিনিউ করা হয়নি। বিএমডিসিতে রিনিউয়ের একটা ফি দিতে হয়, এটা গত বছর থেকেই অনলাইন সিস্টেম ছিল, এটি আমি জানতাম না। আমি তো আমার বাসায় আসারই সময় পাই না। সাধারণত নতুন চাকরির ক্ষেত্রে আমাদের কাগজপত্র ঠিক করতে হয়, আমার নতুন কোনো চাকরি হয়নি, তাই কাগজপত্র ঠিক করা হয়নি। যখন থেকে আমি মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে বিভাগীয় প্রধান ছিলাম, তখন নিবন্ধনের বিষয়গুলো তারাই হ্যান্ডেল করত। কাগজপত্র নিয়ে তারাই রিনিউ করে নিয়ে আসত। সেন্ট্রাল হসপিটালে আসার পর সেটি আর হয়ে ওঠেনি।
গণমাধ্যমে বেশি কথা বলার ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মিডিয়ায় বেশি কথা বলে আমি কনফিউশনের সৃষ্টি করতে চাই না। এরই মধ্যে কোটি কোটি মানুষ কনফিউজড। এক টিভি বলে এ কথা, ওই টিভি বলে আরেক কথা। আসলে আমি নিজেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে গেছি। আমার পক্ষে এখন কথা বলাও সম্ভব হচ্ছে না।
ডা. সংযুক্তা সাহা বলেন, আমি কখনো রোগীকে অনুমতি ছাড়া ফেসবুক লাইভে আনিনি। বরং রোগীরাই আমার লাইভে এসে কথা বলতে বারবার রিকোয়েস্ট করতেন। যেসব রোগীকে আমি লাইভে নিয়ে এসেছি, তারা স্বপ্রণোদিত হয়েই এসেছেন। তারা উল্টো আমাকে রিকোয়েস্ট করতেন যে, প্লিজ প্লিজ ম্যাডাম, আমাকে আপনার লাইভে নেন। আমাকে অন্য জায়গায় বলেছিল অপারেশন করতে; কিন্তু আমি আপনার কাছে করাব বলে চলে এসেছি। কথাগুলো আমাকে লাইভে এসে বলার সুযোগ দিন। আবার কেউ কেউ এসে বলতেন, আমাকে তো আমার হাজব্যান্ড ছেড়ে দিতে চেয়েছিল, সে অবস্থায় আপনার চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করেছি। কথাগুলো মানুষকে জানানোর সুযোগ দিন। এরকম অনেক রিকোয়েস্ট আসত আমার কাছে। আমি কখনোই কারও অনুমতি ছাড়া তাদের লাইভে নিয়ে আসিনি। ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে আমি জনসচেতনতামূলক কাজ করতাম।
গত ৯ জুন সেন্ট্রাল হসপিটালে সিজারিয়ান সেকশনে সার্জারির সময় নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং মা মাহবুবা রহমান আঁখির অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। গত ১৮ জুন দুপুরে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আঁখি। জানা গেছে, গত তিন মাস ধরে অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। প্রসব ব্যথা ওঠায় গত ৯ জুন রাত ১২টা ৫০ মিনিটে সেন্ট্রাল হাসপিটালে তার অধীনে মাহবুবাকে ভর্তি করা হয়।
স্বজনের অভিযোগ, সার্জারির আগে বলা হয়েছিল ডা. সংযুক্তা সাহা অপারেশন করবেন; কিন্তু ওই সময় ডা. সংযুক্তা দেশে ছিলেন না। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের জানায়, তিনি আছেন এবং অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) কাজ করছেন। পরে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তখন অস্ত্রোপচার করে বাচ্চা বের করা হয়। পরদিন মারা যায় শিশুটি। এ ঘটনায় আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা ও মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে ১৪ জুন ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন।
মন্তব্য করুন