কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৪, ০১:৪৬ এএম
আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৪, ০৯:৫৩ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

চীনে পড়তে গিয়ে প্রতারক হিসেবে দেশে ফিরেছে ওরা

নেপথ্যে চায়নিজ গুরু গিগা চিংচং
চীনে পড়তে গিয়ে প্রতারক হিসেবে দেশে ফিরেছে ওরা

রাকিবুল ইসলাম রাতুল, আসাদুজ্জামান রাজু আর মামুন হাওলাদার—এ তিন তরুণ চীনে গিয়েছিলেন উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু তারা তা শেষ না করে দেশে ফিরেছেন প্রতারণার বিদ্যা রপ্ত করে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু এই তিন শিক্ষার্থীই নন, দেশটিতে পড়তে যাওয়া অনেক শিক্ষার্থীই চায়না প্রতারক গুরুদের খপ্পরে পড়ে শিখছে প্রযুক্তিমাধ্যম প্রতারণা। এরপর তাদের নিজ দেশে পাঠিয়ে গুরুরা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

গত শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সদস্যরা ওই তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য বেরিয়ে আসে। এই প্রতারকরা অনলাইন জুয়া, মাল্টি লেভেল মার্কেটিং ও পণ্য বিক্রির নামে ভুয়া সাইট ও অ্যাপস খুলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। তাদের গুরু চায়না নাগরিক গিগা চিংচং, যিনি চীনে বসে এসব সাইট ও অ্যাপসের সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করেন। কয়েকদিন আগে এই চক্রের আরও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ওই তিন প্রতারককে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, চায়নিজরা যেহেতু এ দেশের ভাষা জানে না, তাই তারা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যারা সেখানে পড়তে যাচ্ছে তাদের প্রতারণার কাজে লাগাচ্ছে। কিছু শিক্ষার্থীকে সেখানে আবার অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে এই প্রতারণার কাজ করানো হচ্ছে। প্রতারণার টাকা সরাতে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টগুলো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিচালিত করানো হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান বলেন, ‘যে তিনজন গ্রেফতার হয়েছে, তারা চীনে গিয়ে সেই দেশের ভাষা শিখেছে। তাদের সঙ্গে চায়না প্রতারক চক্র সখ্য গড়ে তোলে। এরপর তাদের দেশে পাঠিয়ে দেয় প্রতারণার জন্য। তারা অনলাইন মাধ্যমে কিছু মানুষকে প্রলোভন দেখায়। স্বল্প সময়ে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা আয় করে সেই টাকা আবার তারা ক্রিপটোকারেন্সির মাধ্যমে চীনে পাঠাত। তারা মার্কেটিং সাইট, ব্যাটিং সাইট খুলে প্রতারণা করত।

ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ইনভেস্টিগেশন টিমের এডিসি সাইফুর রহমান আজাদ জানান, গ্রেপ্তার তিনজন অনলাইনে মাল্টি লেভেল মার্কেটিংয়ে প্রতারণা ছাড়াও অনলাইন ফাইন্যান্সিং, বিট সাইট, সি-ফাইন্যান্সিং এবং লোন অ্যাপসের মতো সাইট চালিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। এ কাজে তারা বাংলাদেশি মোবাইল ফোন অপারেটর ছাড়াও প্রতিবেশী দেশের সিমকার্ড ব্যবহার করত।

তিনি জানান, চক্রটি প্রযুক্তিতে এতটাই দক্ষ যে, বিশেষ ধরনের অ্যাপসের মাধ্যমে একটি মোবাইল ফোনেই একসঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের শতাধিক অ্যাপস খুলে প্রতারণা করছিল।

ডিবি সূত্র জানায়, প্রতারক চক্রের চায়না গুরু চীনে অবস্থান করলেও চক্রটির অনেক চায়নিজ নাগরিক বাংলাদেশে নানা জায়গায় চাকরির আড়ালে অবস্থান করছে। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

চসিকের ২২৬০ কোটি টাকার নতুন বাজেট ঘোষণা

‘হরমুজ প্রণালি ইরানের সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ’

মালদ্বীপে এক তরুণের সঙ্গে কেয়া পায়েলের ভিডিও ভাইরাল, কে এই তরুণ?

বাড়ি ফেরার পথে জুলাই শহীদের ভাই নিহত

স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার / রিমান্ডে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ দিয়েছেন অভিনেতা আলভী

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বার্তা

৫২ বছরের ঠিকানায় ইতি টানতে যাচ্ছেন সালমান?

ঝিনাইদহে দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১০

১০

পাঁচ অভিযোগ থেকে খালাস পেলেন ইনু

১১

এসএসসি পাসেই আনসার বাহিনীতে চাকরির সুযোগ

১২

শহীদ মিনারে মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ শ্রদ্ধা

১৩

আদ-দ্বীন হাসপাতালে চাকরির সুযোগ, বেতন ৪০ হাজার

১৪

স্বপ্নভাঙা ৬ কফিনে ফিরল প্রবাস জীবন

১৫

জুলাইয়ে ৬ হত্যা: ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

১৬

‘রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তেই’ কী বাদ পড়ল জার্মানি?

১৭

চমক নিয়ে ফিরছেন ইমরান-ন্যান্সি

১৮

ব্রাজিলকে বিদায় দেওয়া সেই গণক দেখলেন তার নিজের দেশই নাই

১৯

হাসপাতালে ভর্তি গীতিকার মিল্টন খন্দকার

২০
X