মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি ছেলে-বুড়ো সবারই আকর্ষণ রয়েছে। আর যে কোনো মেলায় গেলে মিষ্টি জাতীয় খাবার না খেলে যেন মন ভরে না। কিন্তু সেই মিষ্টান্ন যদি হয় হাতি, ঘোড়া, পাখি, ফুল, পুতুলের মতো দৃষ্টিনন্দন; তা হলে তো কথাই নেই। বগুড়ার হরিপুর গ্রামে তৈরি হয় এই মিষ্টান্ন।
মিষ্টান্নগুলোকে স্থানীয় ভাষায় ছাঁচ বলা হয়। ৩০ বছর আগে রঞ্জিত চন্দ্র দাস নামে এক কারিগরের হাত ধরে এসব মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার তৈরি শুরু হয় গ্রামটিতে। পরবর্তী সময়ে তার ১৬ আত্মীয়স্বজন মিষ্টান্ন তৈরির কারখানা চালু করেন। তারা প্রত্যেকেই কারিগর, প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠানের মালিক।
কারখানা ঘুরে দেখা যায়, কেউ চিনি জ্বাল দেওয়ার কাজ করছেন। কেউ গরম শিরা দিয়ে কাঠের ফ্রেমে হাতি-ঘোড়া, মাছ ও রকমারি ফুল আকৃতির ছাঁচ তৈরি করছেন। আবার কেউ তৈরি করছেন কদমা। আবার কেউ তৈরি করছেন খাগড়াই। আশ্বিন থেকে জ্যৈষ্ঠ—এই ৯ মাস সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারখানায় মিষ্টান্ন তৈরি হয়। প্রতি বছর একেকজন কারিগর প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করেন এই কারখানা থেকে। তবে বৃষ্টির কারণে তিন মাস বন্ধ থাকে কারখানা। এই সময় তারা অন্য পেশায় নিয়োজিত হন। কারখানায় সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ১০ মণ কদমা, ১০ মণ ছাঁচ ও ৫ মণ খাগড়াই বানানো হয়। তবে মেলা উপলক্ষে এর পরিমাণ বাড়ে।
কারিগর অমল চন্দ্র দাস বলেন, মিষ্টান্ন খাবারগুলো উৎপাদনের একমাত্র উপাদান চিনি। প্রথমে কড়াইয়ে গরম পানিতে চিনি ঢেলে জ্বাল দিয়ে শিরা তৈরি করা
হয়। পরে সেগুলোকে ঢালাই করা পাটাতনে রেখে দেওয়া হয়। সেগুলো একটু ঠান্ডা হয়ে এলে হাতে বিশেষ পদ্ধতিতে টেনে লই বা খামির বানানো হয়। এরপর সুতায় কেটে প্রস্তুত করা হয় গোল গোল কদমা। আর মাছ, হাতি, ঘোড়ার জন্য ব্যবহার হয় কাঠের ছাঁচ। এজন্য এগুলোর নাম চিনির ছাঁচ।
তপন কুমার দাস নামে এক কারিগর বলেন, এক কড়াই গরম পানিতে ১০ কেজি চিনি দেওয়া হয়। জ্বাল দেওয়ার পর তা ২০০ গ্রাম কমে যায়। এখানে ৮০০ গ্রাম ওজনের কদমা ও ছাঁচ পাওয়া যায়।
সুজন চন্দ্র দাস নামে আরেকজন জানান, হরিপুরের এসব মিষ্টান্ন বগুড়ার সব উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। বগুড়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলার যে কোনো ধরনের মেলার জন্য ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মিষ্টান্ন নিয়ে যান।
শিবগঞ্জ উপজেলার বানাইল মহল্লার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী আলম প্রামাণিক জানান, শিবগঞ্জ হাট এলাকায় তার দোকান আছে। তিনি ১০-১২ বছর ধরে হরিপুর গ্রাম থেকে এ জাতীয় মিষ্টান্ন কিনে দোকানে বিক্রি করেন।