প্রদীপ মোহন্ত, বগুড়া
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৪, ০২:১৯ এএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৭:৩০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মিষ্টান্ন

নিমেষেই হয়ে যাচ্ছে ‘হাতি ঘোড়া’

নিমেষেই হয়ে যাচ্ছে ‘হাতি ঘোড়া’

মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি ছেলে-বুড়ো সবারই আকর্ষণ রয়েছে। আর যে কোনো মেলায় গেলে মিষ্টি জাতীয় খাবার না খেলে যেন মন ভরে না। কিন্তু সেই মিষ্টান্ন যদি হয় হাতি, ঘোড়া, পাখি, ফুল, পুতুলের মতো দৃষ্টিনন্দন; তা হলে তো কথাই নেই। বগুড়ার হরিপুর গ্রামে তৈরি হয় এই মিষ্টান্ন।

মিষ্টান্নগুলোকে স্থানীয় ভাষায় ছাঁচ বলা হয়। ৩০ বছর আগে রঞ্জিত চন্দ্র দাস নামে এক কারিগরের হাত ধরে এসব মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার তৈরি শুরু হয় গ্রামটিতে। পরবর্তী সময়ে তার ১৬ আত্মীয়স্বজন মিষ্টান্ন তৈরির কারখানা চালু করেন। তারা প্রত্যেকেই কারিগর, প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠানের মালিক।

কারখানা ঘুরে দেখা যায়, কেউ চিনি জ্বাল দেওয়ার কাজ করছেন। কেউ গরম শিরা দিয়ে কাঠের ফ্রেমে হাতি-ঘোড়া, মাছ ও রকমারি ফুল আকৃতির ছাঁচ তৈরি করছেন। আবার কেউ তৈরি করছেন কদমা। আবার কেউ তৈরি করছেন খাগড়াই। আশ্বিন থেকে জ্যৈষ্ঠ—এই ৯ মাস সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কারখানায় মিষ্টান্ন তৈরি হয়। প্রতি বছর একেকজন কারিগর প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করেন এই কারখানা থেকে। তবে বৃষ্টির কারণে তিন মাস বন্ধ থাকে কারখানা। এই সময় তারা অন্য পেশায় নিয়োজিত হন। কারখানায় সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ১০ মণ কদমা, ১০ মণ ছাঁচ ও ৫ মণ খাগড়াই বানানো হয়। তবে মেলা উপলক্ষে এর পরিমাণ বাড়ে।

কারিগর অমল চন্দ্র দাস বলেন, মিষ্টান্ন খাবারগুলো উৎপাদনের একমাত্র উপাদান চিনি। প্রথমে কড়াইয়ে গরম পানিতে চিনি ঢেলে জ্বাল দিয়ে শিরা তৈরি করা

হয়। পরে সেগুলোকে ঢালাই করা পাটাতনে রেখে দেওয়া হয়। সেগুলো একটু ঠান্ডা হয়ে এলে হাতে বিশেষ পদ্ধতিতে টেনে লই বা খামির বানানো হয়। এরপর সুতায় কেটে প্রস্তুত করা হয় গোল গোল কদমা। আর মাছ, হাতি, ঘোড়ার জন্য ব্যবহার হয় কাঠের ছাঁচ। এজন্য এগুলোর নাম চিনির ছাঁচ।

তপন কুমার দাস নামে এক কারিগর বলেন, এক কড়াই গরম পানিতে ১০ কেজি চিনি দেওয়া হয়। জ্বাল দেওয়ার পর তা ২০০ গ্রাম কমে যায়। এখানে ৮০০ গ্রাম ওজনের কদমা ও ছাঁচ পাওয়া যায়।

সুজন চন্দ্র দাস নামে আরেকজন জানান, হরিপুরের এসব মিষ্টান্ন বগুড়ার সব উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। বগুড়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলার যে কোনো ধরনের মেলার জন্য ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মিষ্টান্ন নিয়ে যান।

শিবগঞ্জ উপজেলার বানাইল মহল্লার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী আলম প্রামাণিক জানান, শিবগঞ্জ হাট এলাকায় তার দোকান আছে। তিনি ১০-১২ বছর ধরে হরিপুর গ্রাম থেকে এ জাতীয় মিষ্টান্ন কিনে দোকানে বিক্রি করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মালদ্বীপ প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণ সহজ করতে হাইকমিশনের উদ্যোগ

নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল গ্রেপ্তার

ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল

রাজধানীতে দুপুরের মধ্যে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা

গরিবের ডাক্তার সামির হোসেন মিশু গ্রেপ্তার

১৮ কোটি টাকার হাসপাতাল এখন শিয়ালের আবাসস্থল

বাঁচা-মরার লড়াইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবেন নেইমার

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, বাড়ছে আতঙ্ক

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েছে যেসব দল

সকাল থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

১০

পানামার বিদায়, টিকে রইল ক্রোয়েশিয়া

১১

সড়কে প্রাণ গেল ২ কিশোরের

১২

বিমানবন্দরে প্লেনের ভেতরে তিন ঘণ্টা আটকা ব্রাজিল দল

১৩

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

১৪

আজকের নামাজের সময়সূচি

১৫

চাঁদপুরে ৭ কেজি গাঁজাসহ আটক ৩

১৬

আজ স্বর্ণ-রুপা যে দামে বিক্রি হচ্ছে

১৭

রেকর্ডের দিনে মেসিকে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন রোনালদো

১৮

ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা

১৯

বগুড়ার সেই ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন নিয়ে গণশুনানি, জনদাবি ও বিক্ষোভ

২০
X