কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শ্রমিকদের আন্দোলনে উভয় সংকটে মালিকরা

রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।
রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কারখানা খোলা ও বন্ধ রাখার বিষয়ে উভয় সংকটে পড়েছেন মালিকরা। তাদের মতে, কারখানা বন্ধের কারণে একদিকে সময়মত রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে খোলা রাখলে বা বন্ধের রাখলে আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের পুঁজিকরে একটি চক্র কারখানা আক্রান্ত করছে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ঋণখেলাপি হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। আর এ পরিস্থিতিকে অস্থির সময়ে অভিহিত করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবাসায়ী নেতারা। প্রয়োজনে শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় ‘নো ওয়ার্ক, নো পে’ বা ‘কাজ নেই, মজুরি নেই’ এই নিয়ম কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তবে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিকরা। মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে নিম্নতম মজুরি বোর্ড বা সরকার যে সিদ্ধান্ত দিবে তা মালিকরা মেনে নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি মাসে (নভেম্বরে) বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। সে পর্যন্ত শ্রমিকদের অপেক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন মালিকরা।

বুধবার (১ নভেম্বর) তৈরি পোশাকের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএয়ের আয়োজনে পোশাকশিল্পে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিষয়ে পোশাক কারখানার মালিকেদের এক জরুরি আলোচনায় সভায় এসব বিষয়ে তারা কথা বলেন। রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিল্প পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পোশাক কারখানার মালিক আবদুস সালাম, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদীসহ ২০০ জনেরমত কারখানা মালিক উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নিম্নতম মজুরি নির্ধারনের আগে আন্দোলনের নামে যারা বিশৃঙ্খলাকা তৈরি করছে তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশপাশি চলমান অস্থিরাতা না থামলে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন বলেও তারা ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতকে কলঙ্কিত করতে দেশি বিদেশি চক্র কাজ করছে বলে দাবি করেন উদ্যোক্তারা। সভায় সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন কারখানা মালিকরা শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কারখানা বন্ধের দিনকে সাধারণ ছুটি হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করেন। এবং কাজে উপস্থিত না থাকলে শ্রমিকদের মজুরি না দেওয়ার জন্য সভায় প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজিএমইএর পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম বলেন, যারা কারখানায় নৈরাজ্য করবে এবং আইনের বাহিরে গিয়ে যারা অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি করবে। তাদেরকে আমরা কোন অংশে ছাড় দেবো না।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম মান্নান কচি বলেন, আমার শ্রমিক ভাই-বোনেরা হেলমেট পরেনা। তারা হেলমেট পরে পুলিশেল সাথে মারামারি করছে। যারা মারামারি করছেন, কারখানা জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, তাঁরা সবাই বহিরাগত। যারা দেশের অগ্রগতি চান না, তারা এসব কাজ করছেন। বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি হা–মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, কারখানা ভাঙচুর হলে বা শ্রমিকেরা কাজে না গেলে ১৩(১) ধারা বাস্তবায়নে সবাইকে একমত হতে হবে। এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হবে, সবাই তা মানবে। এ ছাড়া শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় এলাকাভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে এলাকায় সমস্যা হবে, সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতিমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে কিছু ভিডিও ফুটেজ হস্তান্তর করা হয়েছে; এসব ভিডিওতে কারখানায় হামলার প্রমাণ আছে। এফআইআরও করা হয়েছে কিন্তু এখনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। তিনি জানান, আশুলিয়ায় হা–মীমের চারটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এই অস্থির সময়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন।

চলামান পরিস্থিতে অনেক শিল্প উদ্যোক্তা ঋণখেলাপি হওয়া আশঙ্কা প্রকাশ করে সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, চলমান সংকটের কারণে অনেক পোশাক কারাখানা মালিক হারিয়ে যাবেন।

বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘শ্রম আইন অনুসারে এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের মজুরি ও বাৎসরিক মজুরি বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) হচ্ছে। নতুন মজুরি নির্ধারিত হলে সেটিও মানা হবে। আমরা জানিয়েছি, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকেই নতুন কাঠামোয় মজুরি দেওয়া হবে। ফলে সেই সময়ের আগেই এ ধরনের আন্দোলন, সহিংসতা ও ভাঙচুর অগ্রহণযোগ্য। এগুলো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ ও শিল্পের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা প্রয়োগ করবেন পোশাকমালিকেরা। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় এ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। আগামীকালও (আজ) এটি চালু থাকবে এবং পরবর্তীকালে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে।

শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা বলা হয়েছে, বেআইনি ধর্মঘটের কারণে কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকলে এবং সে রকম পরিস্থিতিতে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রাখলে কারখানামালিকেরা কারখানা বন্ধ রাখতে পারবেন এবং এই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি দিতে হবে না।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন

এমবাপ্পেকে ঠেকাতে ৩ গোলকিপার!

চুয়াডাঙ্গায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

স্ত্রী-নবজাতক সন্তান হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হাজতি, মানবিক উদ্যোগ কারা কর্তৃপক্ষের

হত্যার পর ফেলে দেওয়া হয়েছিল নদীতে, ৬ দিন পর ভেসে উঠলো লাশ

ইরানের তেল বিক্রির অনুমতি দিল যুক্তরাষ্ট্র

হোয়াটসঅ্যাপ প্রধানের পদ ছাড়লেন ক্যাথকার্ট, দায়িত্বে কুনাল শাহ

অস্ট্রিয়া-আর্জেন্টিনা ম্যাচে কে জিতবে, কি বলছে অপ্টা?

৯০ বছর বয়সেও লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা আব্দুর রফ

বৃষ্টিতে ধসে পড়ল কালভার্ট, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ

১০

ফেনীতে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কমিটি ঘোষণা 

১১

তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হলো মমতাকে, বিদ্রোহীদের নতুন কমিটি গঠন  

১২

সাতক্ষীরায় শিক্ষা কর্মকর্তাকে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

১৩

মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জুলাইতে পরিশোধ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

১৪

মাজারের ৭০০ বছরের ‘রীতি ভাঙলেন’ ডিসি সারওয়ার

১৫

বোরোর উৎপাদন ব্যয়ের চড়া মূল্যে দিশাহারা কৃষক

১৬

নারায়ণগঞ্জে আ.লীগকে প্রতিহত করতে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি

১৭

কণ্ঠশিল্পী মমতাজের জামিন চেম্বার আদালতে স্থগিত

১৮

দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক এনসিপির

১৯

স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় ছাত্রদল নেতা অনিক গ্রেপ্তার

২০
X