প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:১০ পিএম
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভিজিটিং কার্ডে ডেকে নেয় খদ্দের

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

‘স্মৃতিময় জীবনে আপনি কি একা? কোনো চিন্তা নেই। শতভাগ নিরাপদে এসি-নন এসি রুম। আপনি যদি মেয়ে নিয়ে আসেন, তাহলে রেট কম। আর আমাদের থেকে নিতে চাইলে রেট কিছুটা বেশি। মেয়ে ভেদে ভাড়া কমবেশি হতে পারে। আর হ্যাঁ, আসার আগে অবশ্যই ফোন দিয়ে আসবেন।’

এমনসব তথ্যসংবলিত রং-বেরঙের ভিজিটিং কার্ড চোখে পড়ে রাজধানীর পথেঘাটে। এমন কার্ড ইদানীং বেশি পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে মিরপুরের ফুটপাত-ফুটওভারব্রিজ, রাস্তা, কিংবা অলিতে-গলিতে। প্রতিটি কার্ডেই বড় করে লেখা মোবাইল নম্বরের পাশাপাশি থাকে একজন ভাইয়ের নাম। শাওন ভাই, সুমন ভাই, সাজু ভাই, সোহাগ ভাই- ভাইয়ের যেন কোনো শেষ নেই। তবে কারা এই ভাইয়েরা? কী তাদের কাজ, কেনই বা এমন অফার? জানতে আগ্রহী হয় কালবেলা টিম।

এরপর পরিচয় গোপন করে তাদের ফোন দেওয়া হলে প্রথমেই ভেসে আসে একজন নারীর কণ্ঠ। পরে তাদের সার্ভিস সম্পর্কে জানতে চাইলে ধরিয়ে দেন একজন পুরুষকে।

তিনি আমাদের বলেন, শেওড়াপারায় চলে আসেন। শতভাগ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া যদি ইনজয় করতে চান? ইনজয় করার মতো মেয়ে আছে। যত ধরনের ফ্যাসিলিটি আছে দিব। ঘণ্টা ১৫০০, ২০০০, ২৫০০ টাকা এবং নাইট আছে ৪০০০-৫০০০ টাকা।

পরে তাদের দেওয়া অস্থায়ী স্থান শেওড়াপারায় যাই আমরা। তবে সেখানে যাওয়ার পরপরই ঘুরে যায় গল্পের মোড়। হয়ত কোনোভাবে সন্দেহ হয় তাদের। ফলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফোন দিলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর আমরা ফোন দেই অন্য আরেকটি কার্ডের নম্বরে।

সেখানে ফোনটি রিসিভ করেন সাজু ভাই নামে একজন। যেতে বলেন মিরপুর-১০ শাহ আলী মার্কেটের সামনে। সেখানে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেন এবং একই কথাই বুঝিয়ে বলেন, শতভাগ নিরাপত্তাসহ উপভোগের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে।

এদিকে পড়ে থাকা এ ধরনের ভিজিটিং কার্ডের কারণে বিরক্ত স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানদার ও পথচারীরা। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে। তারা বলছেন, দেহ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রটি সাধারণ মানুষকে ভয়ানক ফাঁদের জালে আটকাতে পাড়া-মহল্লা-অলি-গলিসহ রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখছে ভিজিটিং কার্ড।

এ বিষয়ে আইনগত কোনো সুরাহা আছে কি না, তা জানতে যোগাযোগ করা হয় মিরপুর এরিয়ার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে। তবে তারা কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহ দেখাননি।

রাতের আঁধারে কিংবা নিরিবিলি সময়ে স্থান বুঝে রঙ-বেরঙের এই ভিজিটিং কার্ড এমনভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, যাতে সহজেই পথচারীদের নজরে পড়ে। না বুঝে এই পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন অনেকেই।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হঠাৎ কথা বলতে পারছেন না শবনম ফারিয়া

গাজায় বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবে আলোচনা চলছে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্পিরিট পানে আরও দুজনের মৃত্যু

ফারহান-কেয়া জুটিতে আসছে ‘ইউ অ্যান্ড মি ফরএভার’

সাড়ে ৪ বছর পর হারানো সিংহাসন ফিরে পেলেন কোহলি

রাফসান-জেফারের ছবিতে সাফার আবেগঘন মন্তব্য

চবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ চায় ছাত্রদল

ইসলামপন্থার একবক্স নীতি বহাল রাখতে আলোচনা চলমান : ইসলামী আন্দোলন

নতুন কর্মসূচি দিয়ে সড়ক ছাড়লেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা

মানুষ আমাকে ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে : তাহেরী

১০

মস্তিষ্কে স্ট্রোক ও কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে সংকটাপন্ন হুজাইফা

১১

গোধূলিতে নতুন ‘অস্ত্র’ পেলেন গার্দিওলা

১২

স্ত্রীর দাবিতে ইউপি সদস্যের বাড়িতে ২ নারী, ঘরে আছে আরেক বউ

১৩

অনুদানের টাকা ফেরত দিচ্ছেন তাজনূভা জাবীন

১৪

ফুরফুরে মেজাজে পরী

১৫

সর্বকালের সর্বোচ্চ দামে স্বর্ণ, রেকর্ড গড়ল রুপা

১৬

কাতারের মার্কিন ঘাঁটি ছাড়তে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা

১৭

নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক অফিসে গুলি-ভাঙচুর

১৮

ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কোনো প্রেমিক নেই : মিমি চক্রবর্তী

১৯

একযোগে ‘সুখবর’ পেলেন বিএনপির ১৩ নেতা

২০
X