চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৫, ১০:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

 ‘পাহাড়খেকো কাউন্সিলর’ জসিম শিবির ও ছাত্রদল কর্মী হত্যা মামলারও আসামি

গ্রেপ্তারের পর জহুরুল আলম জসিম। ছবি : কালবেলা
গ্রেপ্তারের পর জহুরুল আলম জসিম। ছবি : কালবেলা

পাহাড়খেকো হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসিম শিবির ও ছাত্রদল কর্মী হত্যা মামলারও আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সিএমপির বিভিন্ন থানায় মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হত্যা মামলা, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে তিনটি, চাঁদাবাজির দুটি, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে একটি, বিস্ফোরক আইনে দুটি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে দুটি মামলা আছে। এ ছাড়া অন্যান্য ধারায় আছে আরও ছয় মামলা।

শুক্রবার (৭ মার্চ) সকালে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্স মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন নগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম।

গ্রেপ্তার জহুরুল আলম জসিম চসিকের ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। এ ছাড়া তিনি উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।

উপপুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৬ জুলাই নগরের ষোলশহর ও মুরাদপুর এলাকায় জসিমের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় সেদিন ছাত্রদল কর্মী ওয়াসিম আকরাম, শিবির কর্মী ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. ফারুক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। হামলায় ৪০ থেকে ৫০ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। জসিম জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার যৌক্তিক আন্দোলনে হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণ করেন, আমাদের তদন্তে যার সত্যতা পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রীকে ছাড়াতেই জসিম নিজেই ধরা দিয়েছেন— এমন প্রশ্নে উপপুলিশ কমিশনার আমিরুল বলেন, ‘এটা হাস্যকর স্টেটমেন্ট। আমি নিজে সেখানে ছিলাম। তিনি আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।’ গত বুধবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন জসিম। পরদিন সকালে তাকে চট্টগ্রাম আনা হয়।

তিনি আরও বলেন, এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে কাউন্সিলর জসিমের খোঁজে নগরীর আকবর শাহ থানার এ কে খান মোড়ে ‘গ্রিন গুলবাহার টাওয়ার’ নামে একটি ১৪তলা আবাসিক ভবন ঘিরে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। রাতভর ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েও জসিমকে তারা খুঁজে পায়নি। পরদিন দুপুরে ডবলমুরিং থানা পুলিশ ওই টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে আবারও অভিযান চালিয়ে জসিমের স্ত্রী তাসলিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার অভিযোগে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মাসুদুজ্জামানের উদ্যোগে দোয়া

সরকারি চাকরি ছেড়ে আসা খাইরুলের মনোনয়নপত্র বাতিল

ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ায় ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম মহানগরের ৭ হটস্পট

মাদুরোকে রাখা কুখ্যাত কারাগার নিয়ে অজানা তথ্য

জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিতকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ-উত্তেজনা

হাড়কাঁপানো শীতেও বর্ষার ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া ছড়াচ্ছে আতঙ্ক

মদ, সমুদ্র আর ভুল প্রস্তুতি: যেভাবে অ্যাশেজ হারাল ইংল্যান্ড

ভেনেজুয়েলার দুই মন্ত্রীকে ধরতে মিলিয়ন ডলার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ ইসির

প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে ‘পরকীয়া’র গুঞ্জন নিয়ে যা বলেছিলেন শাহরুখ 

১০

দেশে স্বাভাবিক সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : এ্যানি

১১

মিঠুনের ঝড়ো ফিফটিও বৃথা, শেষ ওভারের নাটকে ঢাকার হার

১২

মাসে ৫ দিনের বেশি কাজ করি না : রুনা খান

১৩

পরিচালকের ভুলে ২০ বছর ধরে আড়ালে ‘রুক্মিনী’ নাম

১৪

ভেনেজুয়েলাকে শোধরানোর সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

১৫

বাংলাদেশের ম্যাচ সরানোর ব্যাপারে যা ভাবছে আইসিসি

১৬

সাবেক এমপিকে বহিষ্কার করল বিএনপি

১৭

বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে শোকজ

১৮

২ দফা কমে বাড়ল স্বর্ণের দাম

১৯

ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

২০
X