মেঘনা নদীর নির্মাণাধীণ তীররক্ষা বাঁধ সময়মতো নির্মাণ না হওয়ায় সারা বছর অল্পতেই জোয়ারের পানিতে ডুবে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতির উপকূল। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ হলে জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা পেত বলে দাবি উপকূলের বাসিন্দাদের।
গত কয়দিন থেকে পূর্ণিমার প্রভাবে মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে পানিতে ডুবেছে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর উপকূলীয় এলাকা।
বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলের দিকে জোয়ারের পানি উপকূলে ঢুকতে শুরু করে। এতে জেলার রামগতি এবং কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। জোয়ারের পানিতে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, ফসলি জমি, নিচু ঘরের ভিটা তলিয়ে যায়। রাত ৮টার পর পানি নামতে শুরু করে।
এ ছাড়া সোমবার (২২ জুলাই) এবং মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) একইভাবে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, টানা তিনদিন উপকূল প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগ এবং ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন তারা। ক্ষেতের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। হাঁস-মুরগি এবং গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। গৃহস্থালির রান্নার কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
অভিযোগ, মেঘনা নদীর নির্মাণাধীন তীররক্ষা বাঁধ সময়মতো নির্মাণ না হওয়ায় প্রতি বছর জোয়ারের পানিতে ডুবতে হচ্ছে। দ্রুত বাঁধ নির্মাণ হলে জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা পেত উপকূলের বাসিন্দারা।
কমলনগরের চরমার্টিন এলাকার বাসিন্দা জালাল আহমেদ বলেন, জোয়ারের পানিতে তাদের বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। যাদের ঘরের ভিটা নিচু, তাদের ঘরে পানি ঢুকেছে। এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকার অনেকেই ক্ষেতে আমনের বীজতলা তৈরি করেছে। জোয়ারের পানিতে ডুবে সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুজ জাহের বলেন, রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। পুকুর ডুবে মাছ ভেসে গেছে।
উপকূলের বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, দিনে এবং রাতে মিলিয়ে প্রতিদিন দুবার জোয়ার ওঠে। রাতের বেলা জোয়ারে হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। খাঁচার ভেতরে থাকা অনেকের মুরগি পানিতে ডুবে মারা যায়।
চরমার্টিন কালভার্ট এলাকার গৃহবধূ মরিয়ম বলেন, জোয়ারের সময় খাটের ওপর বসে থাকি। চুলোয় পানি ঢুকে পড়েছে। রান্নার কাজ করা যায় না। শিশু সন্তানসহ পরিবারের লোকজনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, জোয়ারের তোড়ে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে লোকালয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ বছর অসময়ে (আগাম) জোয়ারের পানিতে উপকূল প্লাবিত হয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার মো. ফারুক হোসেন বলেন, বাঁধ ভেঙে সৃষ্টি হওয়া খালের মুখ সংস্কারের কাজ খুব শিগগিরই করা হবে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে জোয়ারে সৃষ্ট হওয়া খাল নিয়ে যে সমস্যা তা সমাধান করা হবে।
মন্তব্য করুন