লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে শয্যা সংকট

বেড খালি না থাকায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। ছবি : কালবেলা
বেড খালি না থাকায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। ছবি : কালবেলা

ভয়াবহ বন্যার কবলে লক্ষ্মীপুরের পাঁচ উপজেলার বাসিন্দারা। বন্যা পরিস্থিতির অপরিবর্তীত থাকায় পানিবন্দি বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। হাসপাতালগুলোতেও বেড়েছে রোগীর চাপ।

হাসপাতালে শয্যা সংকটে মেঝেতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন রোগীরা। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নার্সসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কলেরা স্যালাইন, সিরাপ সালফুটামল, হিসটাসিন ও ডায়রিয়া এন্টিবায়োটিকসহ ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে বাহির থেকে স্যালাইনসহ ওষুধ কিনতে হচ্ছে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ১০০ শয্যার লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে খালি বেড নেই। এক একটি বেডে গাদাগাদি করে দুই তিনজন করে ভর্তি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেক রোগীই বেডে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে বিছানা বিছিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অপর্যাপ্ত নার্স সংকটে রোগী ও তাদের স্বজনদের ভিড় ঠেলে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডায়রিয়ার ওয়ার্ডের চিকিৎসা সহায়ক ব্রাদার নোমান হোসেন বলেন, ১০ বেডের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তিই আছে ৯৫ জন রোগী। একদুজন নার্স দিয়ে এতোগুলো রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা খুবই কষ্ট কর। একজনের স্যালাইন লাগাতে গেলে ১০ জন ডাকে ওষুধ দিতে। তার ওপরে স্যালাইন ও ডায়রিয়ার এন্টিবায়োটিক ওষুধ সংকট। এখন রোগীর স্বজনরা বাহির থেকে কিনে আনলে তা দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে নিচ্ছি।

দুদিন ধরে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে একই বেড ভাগ করে আরো দুই রোগীর সঙ্গে ৭ মাসের শিশু মিরাজকে নিয়ে ভর্তি আছেন মান্দারি ইউনিয়নের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তার। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, গত ১০ দিন ধরে বাড়িতে কোমড় সমান পানিতে বন্দি আছি। টয়লেট ও ডোবার নোংরা ময়লা বন্যার পানিতে একাকার। এখন আমার ৭ মাসের ছেলের জ্বর আর ডায়রিয়ায় খুব খারাপ অবস্থা। সরকারি হাসপাতেল এসে আরো অস্বস্থিতে পড়েছি। গুদাম ঘরের মত পরিস্থিতি।

একই কথা বললেন শহরের মুক্তিগঞ্জ থেকে শিশুকন্যা তাসুকে নিয়ে ভর্তি থাকা দিনমুজুর খোকন মিয়া। তিনি বলেন, বন্যার পানি পঁচে চারদিকে ডায়রিয়াসহ রোগ দেখা দিয়েছে। আমার ১০ বছরের মেয়ের ডায়রিয়ায় খুব খারাপ অবস্থা। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েও স্যালাইনসহ সব ওষুধই বাহিরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে। কিছু বললে নার্সরা বলে ওষুধ নাই।

চর লরেন্স থেকে আসা সামছুন নাহার জানান, জায়গাই পাচ্ছি না আমরা। তবুও চলাচলের স্থানে বিছানা পেতে আছে, ময়লা দুর্গন্ধ আর রোগী ভীড়ে খুই খারাপ অবস্থা। চিকিৎসাসেবা নেই বলেই চলে। প্রাইভেট হাসপাতালের মত অবস্থা সরকারি হাসপাতালে।

ডায়রিয়া বিভাগের ইনচার্জ লিলু রানী দাস বলেন, গত তিন দিনে তিন শতাধিক ডায়রিয়া ও জ্বর নিয়ে রোগী ভর্তি হয়েছে। যেভাবে রোগী ভর্তি হচ্ছে তার সবাই বন্যা আক্রান্ত এলাকার। শুক্রবার ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩২জন ভর্তি হলেও গত তিন দিনে গণহারে ডায়রিয়া, জ্বর নিয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছে। ১০ জনের বেড তো খালি নেই। মেঝেতেও হাঁটার জায়গা নেই। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালে, কলেরা স্যালাইন, সিরাপ সালফুটামল, হিসটাসিন ও ডায়রিয়া এন্টিবায়োটিকসহ ওষুধের তীব্র সংকট। যতটুকু ছিল সব রোগীদের সমহারে বন্টন হচ্ছে। রোগীরা এখন বাহির থেকে ওষুধ কিনছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এদিকে জেলার ৫টি উপজেলার বন্যাক্রান্ত ৪০০ আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বাড়ছে ডায়রিয়া, জ্বরসহ পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে মেডিকেল টিমের কর্মীরা চিকিৎসা দিলেও তা অপর্যাপ্ত। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দাসহ স্থানীয়রা।

লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন আহমদ কবির কালবেলাকে বলেন, বন্যার কারণে ডায়রিয়াসহ চারদিকে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে শুরু থেকে আশ্রয়ণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকায় ৬৪টি মেডিকেল টিমের সদস্যরা চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে রোগী বাড়ায় কলেরার স্যালাইনসহ ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দুতিন দিনের মধ্যে স্যালাইনসহ ওষুধ সরবরাহ করা হলে সংকট নিরসন করা হবে।

কালবেলা/এসআই/এমএ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এইচএসসির রসায়ন প্রশ্নে ভুল ছিল কি না জানাল শিক্ষা বোর্ড

সেনা সদস্যদের পদোন্নতিতে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আরএসএফকে ছাড় দেবে না সুদানের বাহিনী, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

কিডনি রোগে আক্রান্ত কিশোরের কাঁধে পাঁচজনের সংসার

আগামী ৩ দিন বৃষ্টি নিয়ে যে পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

ফটিকছড়িতে চলছে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল

চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

৩০ হাজার উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন করতে চায় রাশিয়া, দাবি জেলেনস্কির

কক্সবাজারে ক্রসফায়ার / একরামুল হত্যায় হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন

বার্লিনে সমকামীদের উৎসবে গাড়ি হামলা, হতাহত ১৭ 

১০

সুনামগঞ্জে কমছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা নেই

১১

এপিসি থেকে ফেলে ইয়ামিনকে হত্যা / সাবেক এমপিসহ ১৯ আসামির নামে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

১২

নেইমারের জোড়া গোল, তবে আলোচনায় ব্যতিক্রমী উদযাপন

১৩

জানা গেল এসএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ

১৪

ইরানে মার্কিন হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার কুয়েতের

১৫

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানে হাজারো শিক্ষিকার প্রতিবাদী পোস্ট 

১৬

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের জাহাজে ইউক্রেনের হামলা, নাবিক নিহত

১৭

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি: শ্রমমন্ত্রী

১৮

ছাতাবোমা / বোতামে চাপ লাগলেই ঘটত বিস্ফোরণ, বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য

১৯

সুফল আগামী বছরই / রাজশাহীর সুপেয় পানির সংকট কাটাতে দ্রুত এগোচ্ছে মেগা প্রকল্প

২০
X