রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৩:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কুকুরের তাড়া খেয়ে ভ্যানচালককে পেটালেন ম্যাজিস্ট্রেট

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

রাজবাড়ীতে কুকুরের ধাওয়াকে কেন্দ্র ক‌রে ভ্যানচালককে হাত বেঁধে পেটা‌নোর অভিযোগ উঠেছে এক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজবাড়ী আদালতের এক‌টি ক‌ক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় নির্যাতিত ভ্যানচালক সদর থানায় মামলা করেন। তবে মামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।

ভুক্তভোগী ভ‌্যানচালক মো. আফজাল খান রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের বাড়াইজুড়ি গ্রামের মৃত আনছের খানের ছেলে। বর্তমানে তি‌নি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চি‌কিৎসাধীন। অভিযুক্ত সুমন হোসেন রাজবাড়ীর ১ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় আমি কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। এর বাইরে আমি আর কিছু বলতে পারবো না।

এজাহারে আফজাল খাঁ উল্লেখ করেন, ম্যাজিস্ট্রেট সুমন হোসেনের শ্বশুরবাড়ি আমাদের এলাকায় হওয়ায় তিনি মাঝেমধ্যে তার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। গত ৩০ জানুয়ারি তিনি তার পরিবার নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় হাঁটাচলা করা অবস্থায় একটি বেওয়ারিশ কুকুর তাকে ধাওয়া করে। তিনি পরবর্তীতে ওই বেওয়ারিশ কুকুরের মালিকের খোঁজ করলে অজ্ঞাত ব্যক্তি কুকুরটি আমার বলে তাকে জানায়। পরে তিনি থানা পুলিশের মাধ্যমে আমাকে তার সেরেস্তায় ডেকে পাঠান। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে আমি ও আমার মেঝ ভাই মো. সাহেব আলী খান জেলা ও দায়রা জজ আদালত বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় তার চেম্বারে গেলে তিনি আমাকে ওই কুকুরের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আমি তাকে বলি, কুকুরটি আমার না এবং কুকুরটি কার তাও আমি জানি না। তখন তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার সেরেস্তায় থাকা একটি দড়ি দিয়ে আমার হাত পিঠমোড়া করে বাঁধেন এবং আমাকে একটি চেয়ারের উপর উপুড় দিতে বলেন। আমি তার কথা মতো চেয়ারের উপরে উপুড় দিলে তিনি একটি কাঠের রুল দিয়ে আমার পিঠে আনুমানিক ৩০টি আঘাত করেন। এতে আমার পিঠে রক্তজমাট ও ব্যথাযুক্ত জখম হয়। তখন সুমন হোসেন বলেন যে, ওই কুকুরটি যদি এলাকায় আবার দেখা যায় এবং আমি যদি এই বিষয় নিয়ে কাউকে জানাই তবে তিনি আমার নামে মামলা দিয়ে আমাকে জেল খাটাবেন। পরে আমার ভাই আমাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

নির্যাতিত ভ্যানচালক আফজাল খাঁ বলেন, বাড়াইজুড়ি বেলতলা বাজারে দুটি বেওয়ারিশ কুকুর থাকে। অনেক মানুষই কুকুর দুটিকে খাবার দেয়। আমিও বাজারে ভ্যান চালাই। কুকুর দুটিকে দেখলে আমি মাঝেমধ্যে রুটি-বিস্কুট দেই। কিন্তু কুকুর দুটি আমার পোষা কুকুর না। সেই কুকুর ম্যাজিস্ট্রেট সুমন হোসেনকে তাড়া করায় উনি আমাকে ওনার খাস কামড়ায় ডেকে আমার হাত পিঠমোড়া করে বেঁধে চেয়ারে বসিয়ে পিটিয়েছে। এ ঘটনায় আমি সন্ধ্যার দিকে সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছি।

ওই ভ্যানচালকের ভাই মো. সাহেব আলী খান বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজবাড়ী সদর থানার এসআই আসাদ আমার ভাই আফজালকে খুঁজতে আমাদের বাড়িতে যান। তবে সেসময় আফজাল বাড়িতে ছিলো না। শনিবার সকালে আমি আমার ভাইকে সাথে নিয়ে থানায় এসআই আসাদের কাছে গিয়ে আমার ভাইকে খোঁজার বিষয়ে জানতে চাই। তখন এসআই আসাদ বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট সুমন স্যার তাকে পাঠিয়েছিলেন। এসময় এসআই আসাদ ম্যাজিস্ট্রেট সুমন স্যারকে ফোন করলে তিনি বিকেলে আমাদের জেলা ও দায়রা জজ আদালত বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় তার খাস কামড়ায় যেতে বলেন।

‘বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আমরা সেখানে যাওয়ার পর তিনি আফজালকে তার কক্ষে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে মারপিট করেন। আমি তখন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আমার ভাই খুড়িয়ে খুড়িয়ে হেঁটে বাইরে বের হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করে। এসময় আমি আমার ভাইকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেই। তখন থানা থেকে আমাদের ফোন করা হলে আমরা থানায় গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সুমন হোসেনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করি। পরে আমার ভাইকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমি মোটরসাইকেল নিয়ে আমার শ্বশুরবাড়ি যাই। মোটরসাইকেলে আমার স্ত্রীও ছিল। হঠাৎ একটি কুকুর আমাদের তাড়া করে। এতে আমরা অনেক ভয় পেয়ে দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পাই। এসময় স্থানীয় লোকজন জানায় কুকুরটি আফজাল খা’র এবং কুকুরটি প্রায়ই পথচারীদের তাড়া করে। যে কারণে আমি পুলিশ দিয়ে আফজাল খাকে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য খবর পাঠাই। শনিবার বিকেলে তিনি আমার এখানে আসেন।

তিনি আরও বলেন, ওই কুকুরের বিষয়ে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি স্বীকার করেন যে কুকুরটি তার। আমি তাকে ওভাবে রাস্তায় কুকুর ছেড়ে দিতে নিষেধ করি। যে কুকুরের মালিক আছে সেই কুকুর কাউকে কামড়ালে নিয়মিত মামলা হতে পারে। এ বিষয়টি আমি তাকে বলে আইনগতভাবে একটু ভয়ও দেখাই। যাতে এ বিষয়ে সে একটু সিদ্ধান্ত নেয়। কেন সে আমার এখান থেকে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে তা আমার বোধগম্য নয়।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) শরীফ আল রাজীব বলেন, এ ধরনের একটি ঘটনা আমি শুনেছি। তবে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না তা বলতে পারছি না। বিষয়টি আমি একটু খোঁজ নিয়ে দেখছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জীবন বদলে দিতে পারে এমন ৫ অভ্যাস

সাতসকালে বোমা বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল একজনের

কেমন থাকবে আজ ঢাকার আবহাওয়া

রাজশাহীর ৬ আসনে হলফনামা / ‘ধার ও দানের’ টাকায় নির্বাচন করবেন ৮ প্রার্থী

মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখার ৪ কার্যকর অভ্যাস

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

আবারও বিশ্বসেরা আফগানিস্তানের জাফরান

আজ থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নিহত

শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে তেঁতুলিয়া

১০

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

১১

আকিজ গ্রুপে বড় নিয়োগ

১২

বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

১৩

৮ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৪

মুরাদনগরে ঝাড়ু মিছিল

১৫

নওগাঁয় বিএনপি প্রার্থীকে শোকজ

১৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হলের নাম পরিবর্তন

১৭

সাবেক ছাত্রদল নেতার ওপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগ

১৮

জবির হল সংসদে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত প্যানেলের জয়

১৯

বিজয়ী হয়ে যা বললেন রিয়াজুল

২০
X