মোটরসাইকেল আটক করায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় সার্জেন্টসহ চার ট্রাফিক পুলিশ আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় নগরীর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে হামলায় কনস্টেবল মোস্তফা রক্তাক্ত জখম হয়েছে। এ ছাড়া সার্জেন্ট মনিরুল হাসানসহ আরও দুই কনস্টেবল আহত হয়। কনস্টেবল মোস্তফাকে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আটক শিক্ষার্থীরা হলেন- হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আনভির ইসলাম ও রমজান হোসেন সোহাগ। এরা সকলেই কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য অসিম দেওয়ানের লোক বলে জানা যায়। আটকের প্রতিবাদে রাত ১১টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সোয়া আটটার দিকে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে সার্জেন্ট মনিরুল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র বহনকারী একটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। তখন গাড়ির কোনো কাগজপত্র না থাকায় মামলা দিয়ে গাড়িটি আটক করে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মনিরুল। তখন একজন পুলিশকে উদ্দেশ করে বলে, ‘আজকে পুলিশ পেটাব।’ এই কথা বলে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। সোয়া আটটার দিকে ১৫-২০ জন ছাত্রকে নিয়ে পুলিশ ওপর হামলা চালায় তারা। হামলার ঘটনার সময় সার্জেন্ট মনিরুল ও কনস্টেবল মোস্তফা জামাল পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা সার্জেন্ট মনিরুলের ওয়ারলেস কেড়ে নিয়ে তা দিয়ে মনিরুলকে মারধর করে। এ সময় পুলিশ সদস্য মনিরুলের বডি অন ক্যামেরাও ছিনিয়ে নেয় তারা। এই ঘটনার ভিডিও করার অপরাধে কনস্টেবল মোস্তফাকেও বেদম মারধর করে।
হামলার শিকার সার্জেন্ট মনিরুল হাসান বলেন, আটক গাড়ির কোন কাগজপত্র ছিল না। এ ছাড়া চালকের মাথায় হেলমেট ও লাইসেন্স ছিল না। তাই নিয়ম অনুযায়ী মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে। এ সময় তারা হুমকি দিয়ে চলে যায়। কিছু সময় পর একদল ছাত্র এসে নিজেদের ছাত্রলীগ ও তাদের পুলিশ লীগ বলে হামলা করে। তারা বডি ক্যামেরা ও ওয়ারলেস সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় অন্যরা এসে তাদের উদ্ধার করে। একজন বিশেষ শাখার দারোগা ক্যামেরা ও ওয়ারলেস সেট উদ্ধার করেছে। সার্জেন্ট মনিরুল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা করা হবে। গ্রেপ্তার তিনজনকে কোতোয়ালি মডেল থানা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এদিকে থানা হেফাজতে থাকা ছাত্রদের মুক্তির দাবিতে ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে ববি শিক্ষার্থীরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঘটনাস্থলে বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান মুকুলসহ তার দল উপস্থিত হয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ওসি আবদুর রহমান মুকুল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছিল। আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি। শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন রাত সাড়ে ১১টায় জানান, এ ঘটনায় তিন ছাত্রকে পুলিশ নিজ হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন