

সিরাজগঞ্জ যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কে প্রাইভেটকার থামিয়ে ডাকাতির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় হলেও এখন পর্যন্ত রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। রাতে মহাসড়কে পুলিশের ৪টি টহল টিম দায়িত্বে থাকলেও সবার নজর এড়িয়ে এ ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার ভিকটিমের খোঁজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডাকাতদের শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম মহাসড়কের কোনো এক স্থানে একদল দেশীয় অস্ত্রধারী ডাকাত চলন্ত প্রাইভেটকার থামিয়ে লুটপাট করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় সার্ভিস লেনে এই ডাকাতির ঘটনাটি ঘটতে পারে।
ঘটনার সময় পেছনে একটি প্রাইভেট কার থেকে ফজলে রাব্বি নামে এক ব্যবসায়ী মোবাইলে ডাকাতির ভিডিও ধারণ করে নিজের ফেসবুকে আপলোড করেন। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাইভেটকার থেকে দুজন ব্যক্তি বের হয়ে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে হাত উঁচিয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছেন। এ সময় এক ডাকাত পাঞ্জাবি পরা বয়স্ক একজনকে আঘাত করছিলেন। ঘটনার সময় পাশ দিয়ে ট্রাক, বাস ও প্রাইভেটকার অতিক্রম করলেও কেউ সেখানে দাঁড়ায়নি।
এদিকে দিনভর অনুসন্ধান করেও ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এখন পর্যন্ত কোনো ভিকটিমও অভিযোগ দেয়নি বলে জানান কর্মকর্তারা।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার এএস আই শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার দায়িত্ব ছিল নলকা মোড় থেকে সীমান্ত বাজার পর্যন্ত। এই এলাকায় কোনো ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।
একই থানার এসআই শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি কোনাবাড়ি থেকে সীমান্ত বাজার পর্যন্ত টহল দায়িত্বে ছিলাম। আমার এলাকায় কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।
ঝাঐল ওভারব্রিজের পূর্বপাশ থেকে যমুনা সেতুর গোলচত্বর পর্যন্ত টহলের দায়িত্বে থাকা এসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা ঝাঐল ওভারব্রিজের পশ্চিমপাশে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার এএসআই রমজান আলী বলেন, আমার ডিউটি ছিল কোনাবাড়ি-ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায়। ১১টা ৪০ মিনিটে ৯৯৯ থেকে অ্যাক্সিডেন্টের ফোন পাই। তখন ঝাঐল ওভারব্রিজ এলাকায় এসে ভাঙা কাচ ও কয়েকটা পাথর পেয়েছিলাম। তা ছাড়া সেখানে কাউকে পাইনি। সম্ভবত ছিনতাইকারীরা গাড়িতে পাথর দিয়ে ঢিল দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের টহল এরিয়া দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার। ছিনতাইকারীরা রাস্তার নিচে জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে আমাদের গাড়ি ফলো করে। দেখা যায় যে, আমরা যখন একদিকে যাই, ওরা তখন বিপরীত দিকে যায়।
তিনি আরও বলেন, আমরা তো ঝাঐল ওভারব্রিজের পাশে সার্ভিস লেনের পুরোনো রাস্তা দিয়ে রাতে গাড়ি যেতে দিই না। রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়। তবে রাতে দফায় দফায় বালুর ভারী ট্রাকগুলো ব্যারিকেড তুলে দেয়। প্রতি রাতে ৫/৭ বার করে ব্যারিকেড দিতে হয়। প্রাইভেটকারটি হয়তো পুরোনো ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। সেখানেই ছিনতাই হতে পারে।
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সেই সকাল থেকে খুঁজছি, কোনো হদিস পাচ্ছি না। কোনো ভিকটিম আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু পাচ্ছি না। ঘটনাস্থল ঝাঐল ওভারব্রিজ কি না সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ ভাঙা কাচের টুকরো পুরো মহাসড়কজুড়েই রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (যমুনা সেতু সার্কেল) রবিউল ইসলাম বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে, ভিডিওটা আমার কাছেও আছে আমিও দেখছি। আমাদের পার্টিগুলো রাতে যে ডিউটি পালন করে। কোনো পার্টির কাছে রাতে যদি কেউ শেয়ার করত, তাহলে আমরা কনফার্ম হতে পারতাম। ওই রকম রোড ডিভাইডার তো সারা রাস্তাতেই আছে, এ জন্য আমরা প্যাসিফিকভাবে বলতে পারছি না। নলকা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত আমাদের ৪টা পার্টি সারারাত ডিউটি করে। আমাদের পার্টির কাছে যদি রাতেই কেউ বলত, তাহলে কিছু না হোক অন্তত স্থানটি শনাক্ত করা সম্ভব হতো।
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন, আমরা এখনো অভিযোগ পাইনি, ভিকটিমকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আমরা ভিকটিমকে উদ্ধার করে অভিযোগ নিয়ে এটা বের করব। তার পরও আমরা তদন্ত কাজ শুরু করছি এবং ডাকাতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন