মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হঠাৎ ৬৩ শিক্ষকের বেতন বন্ধ 

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

উচ্চতর গ্রেড বাতিলের জটিলতায় মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৩ সহকারী শিক্ষকের বেতন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ৪৩টি বিদ্যালয়ের এসব শিক্ষক অক্টোবর মাসের বেতন তুলতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জানা গেছে, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে নিয়োগ পাওয়া এসব শিক্ষক ১০ বছর পূর্তিতে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত হন। সেই অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু কোনো পূর্ব ঘোষণা বা লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই হঠাৎ অক্টোবর মাসের বেতন বন্ধ হয়ে যায়।

বেতন বন্ধের কারণ নিয়ে জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পরস্পরকে দায় দিচ্ছে। এ বিষয়ে গত বুধবার শিক্ষকরা জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে গেলে অডিট অফিসার মেহেদী হাসান শরীফের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে ওই কর্মকর্তা অশোভন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শিক্ষকরা জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাতের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

নৈরপুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রের কথা বলে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে উচ্চতর গ্রেড বাতিলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এরপর উপজেলা শিক্ষা অফিস বেতন বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। হঠাৎ দেখি অক্টোবরের বেতন বন্ধ।’

ইদ্রাকপুর ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা খালেদা আক্তার বলেন, ‘চাকরিতে ১০ বছর পর আমরা উচ্চতর গ্রেডে যাই। দীর্ঘদিন সেই বেতনই পাচ্ছিলাম। কিন্তু এই মাসে বেতন তুলতে গিয়ে দেখি সব বন্ধ। এতে পরিবারে চরম আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।’

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা তাহমিনা বেগম বলেন, ‘আমরা মাসিক বেতনের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু এক মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’

কেওয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিতাই দাস বলেন, ‘গত মাসের বেতন পাইনি, সামনের মাসগুলোতেও পাব কিনা তা অনিশ্চিত। সংসার, সন্তানের পড়াশোনা— সব কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিট অফিসার মেহেদী হাসান শরীফ কালবেলাকে বলেন, ‘শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা গালাগালির অভিযোগ মিথ্যা। বরং তারা ২০-২৫ জন একত্র হয়ে আমাকে হুমকি দিয়েছে। তাদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসের চিঠির ভিত্তিতে।’

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মোমিন মিঞা কালবেলাকে বলেন, ‘জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের লিখিত নির্দেশেই সাময়িকভাবে বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রেড উন্নীতকরণ সংক্রান্ত সমস্যায় এটি হয়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আশা করছি ১৫–১৬ দিনের মধ্যেই শিক্ষকরা আগের গ্রেডে নিয়মিত বেতন পেয়ে যাবেন।’

কালবেলা/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইতিহাস গড়ে ডিগ্রি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

নেচার ইনডেক্সে দেশে গবেষণায় শীর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আটকের পর ৫ দফা দাবি জানালেন রাহুল গান্ধী

সাভার পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে নিজ অর্থায়নে ড্রেনেজ সংস্কারে বিএনপি নেতা

স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

স্পেনের ওপর বাজি ধরে বড় অঙ্কের অর্থ জিতলেন মিয়া খলিফা

৩ জেলায় বন্যার ঝুঁকি, ২ বিভাগে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত ইরান-পাকিস্তান

স্বর্ণপদক পেলেন জাবির অধ্যাপক ড. শামীম কায়সার

ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

১০

নিজের অজান্তেই নামাজে যে ৫টি ভুল করেন অনেকেই

১১

৪০০ বোতল ফেনসিডিল গায়েবের অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

১২

এবার জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতি! ট্রাম্পের ‘আনুগত্যের পুরস্কার’ পাচ্ছেন ইনফান্তিনো?

১৩

জামায়াত এমপির সেই ভিডিও নিয়ে ঢাবি শিক্ষিকা মোনামীর পোস্ট

১৪

কঠিন বিপদের সময় দোয়া কবুল হয় যে আমলে

১৫

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক

১৬

ভারতে বন্যায় ২৪ ঘণ্টায় ২১ জনের মৃত্যু

১৭

প্রবাসীর সংসার ছেড়ে সাবেক প্রেমিকের সঙ্গে পালালেন মরিয়ম

১৮

হবিগঞ্জে হত্যাচেষ্টার মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন

১৯

ফাইনালের হাফটাইম শোতে কত পারিশ্রমিক নিলেন শাকিরা?

২০
X