

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহউদ্দীন আলমগীর রাসেলের বিরুদ্ধে দেড় বছর পর মামলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত একটি ঘটনায় তাকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি করেন সুজন মিয়া নামের এক ব্যক্তি। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানাধীন ঢাকা-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের সোহাগপুর হাইওয়ে থানার সামনে মহাসড়কের ওপর এই ঘটনা ঘটে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ওই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, মারধর, ভীতি, সন্ত্রাস ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এজাহারে আরও বলা হয়, মামলার বিবাদীরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং অর্থ জোগানদাতা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে বাধা প্রদান করেন। এ সময় তারা মারধর, হত্যার চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট ভাঙচুর করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এই মামলায় ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে সালাহউদ্দীন আলমগীর রাসেলকে। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী। দীর্ঘসময় ধরে নির্বাচনী এলাকায় নানা উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত।
বাদী সুজন মিয়া এজাহারে দাবি করেন, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ঘটনার দিন আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের আহ্বানে তিনি স্থানীয় ছাত্র-জনতার সঙ্গে মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উল্লেখিত আসামিসহ আরও ১০০ থেকে ১৫০ আওয়ামী সন্ত্রাসী লোহার রড, লাঠি, চাইনিজ কুড়াল, শর্ট রিভলবার ও পিস্তল নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আসামিরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে এবং কয়েকজন আসামি লোহার রড, লাঠি ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মামলার বিষয়ে বাদী সুজন মিয়ার বক্তব্য জানতে নানাভাবে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়ক আল আমিন কালবেলাকে বলেন, দেড় বছর পর এই ধরনের মামলা করা হয়েছে। এই মামলা রুজু করার আগে তদন্ত করে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা রুজু করতে হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের হয়রানি হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত হয় এমন কাজ থেকে দেশের স্বার্থে সবার বিরত থাকা উচিত।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর মামলার বিষয়ে বলেন, এ মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষেই আমার অবস্থান ছিল। কোনো ধরনের অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আমার সম্পৃক্ততা কিংবা ফান্ডিংয়ের প্রমাণও কেউ দিতে পারবে না। কারণ আমি সারা জীবন কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না।
মামলার বাদী সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে দায়ের মামলার বাদী মো. সুজন মিয়া প্রকৃতপক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো নেতা নন। নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো প্রার্থীকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মামলা একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও নির্বাচনী স্বচ্ছতার জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
মন্তব্য করুন