সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অপারেশনের ৪ বছর পর পেট থেকে বের হলো কাঁচি

কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টার। ছবি : কালবেলা
কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টার। ছবি : কালবেলা

২০২১ সালের আগস্টে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামের প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. আল্পনা খাতুন। তখন থেকেই শুরু হয় পেটে ব্যথা। চলতে থাকে নানা ধরনের চিকিৎসা। গ্রামীণ ডাক্তারদের চিকিৎসায় কখনো ব্যথা কমে, আবার বাড়ে।

এভাবেই কেটে যায় সাড়ে ৪টি বছর। একদিন ব্যথা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায়। আল্পনাকে নেওয়া হয় খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে বের হয়ে আসে একটি কাঁচি।

এ ঘটনা ঘটেছে উল্লাপাড়া পৌর শহরে শ্যামলীপাড়া এলাকার কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) ভুক্তভোগীর স্বামী আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ডাকযোগে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০২১ সালে আমার স্ত্রীর পেটে দ্বিতীয় সন্তান আসে। ওই বছরের ১৩ আগস্ট আমাদের গ্রামের বনফুল নামে একজন মেয়ের মাধ্যমে আমার স্ত্রীকে কেয়া হসপিটালে নিয়ে যাই। দুপুরে ভর্তি করাই, বিকেলে সিজার হয়। বাচ্চাটা আসার কিছুক্ষণ পরেই ব্যথা শুরু হয়। তখন ওনারা বলেন, সেকেন্ড বেবির কারণে ব্যথা হচ্ছে। তারা ওষুধপত্র দিলে ব্যথা কমে যায়। তিন দিন পরে রিলিজ করে দেয়।

এর কিছুদিন পর পর ব্যথা হতো, বমি হতো। আমরা গ্যাসের ব্যথা মনে করে গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিই। অনেকবার এভাবে ব্যথা কমানো হয়। একদিন ব্যথা অতিরিক্ত হয়ে গেলে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে পরিস্থিতি উন্নত না হওয়ায় আমরা এনায়েতপুরে নিয়ে যাই। এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক্সরে করার মাধ্যমে জানায় পেটের ভেতরে কাঁচি রয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর অপারেশনের মাধ্যমে কাঁচি বের করেন চিকিৎসকরা।

মাটিকোঁড়া গ্রামের বনফুল জানান, আমার মা দাই হওয়ার কারণে প্রসূতি রোগীরা আসে আমাদের কাছে। ৫ বছর আগে আল্পনা খাতুনও এসেছিল। আমরা তাকে কেয়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে সিজারের মাধ্যমে তার বাচ্চা হয়। এখন দেখছি আল্পনার পেটে কাঁচি রেখেই ডাক্তার সেলাই করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কেয়া হসপিটাল এন্ড কনসালটেন্ট সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ৫ বছর আগে সিজার হওয়া ওই রোগীর কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ এখনো আমার হাতে আসেনি। অভিযোগ আসলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবন এখন মাদকসেবীদের আঁখড়া

যে কৌশলে বুঝবেন খেজুরের গুড় আসল নাকি নকল

তীব্র শীতে বেড়েছে পিঠার চাহিদা

হাইমচর সমিতির সভাপতি আজাদ, সম্পাদক মাহবুব

আমাকে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করবেন না : সাংবাদিকদের তারেক রহমান

বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন দেশ, কী হচ্ছে ইরানে

আমরা ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরতে চাই না : তারেক রহমান 

‘আমরা রাস্তা চাই না, জমি না থাকলে না খেয়ে মরতে হবে’

বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ায় তারেক রহমানকে ন্যাশনাল লেবার পার্টির অভিনন্দন 

তামিমকে এখনো ‘ভারতের দালাল’ দাবি করে নতুন করে যা জানালেন নাজমুল

১০

ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে ঝগড়ায় প্রাণ গেল মায়ের

১১

অজয় দাশগুপ্তের ৬৭তম জন্মদিন

১২

শোধনাগার বন্ধ, পানি সংকটে ৬০০ পরিবার

১৩

পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে চায় তুরস্ক 

১৪

যেসব লক্ষণে বুঝবেন আপনার শরীর বিরতি চাইছে

১৫

কারাগারে হাজতির মৃত্যু

১৬

শিয়ালের কামড়ে ঘুমন্ত বৃদ্ধার মৃত্যু

১৭

১৯ জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, থাকবে কতদিন 

১৮

বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা শাহজালাল 

১৯

চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

২০
X