

শরীয়তপুর-৩ আসন (ডামুড্যা-গোসাইরহাট–ভেদরগঞ্জ) থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু জানিয়েছেন, সব ভেদাভেদ ভুলে সমাজে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করতেই তাকে শরীয়তপুরে পাঠিয়েছেন তারেক রহমান।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ হলইপট্টি শ্রী শ্রী কান্তি বাসন্তি পূজা মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় মিয়া নুরুদ্দিন অপু বলেন, আমাদের মধ্যে আজ যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়েছে, তা যেন অটুট থাকে এই আহ্বান জানাই। আগামী দিনে শরীয়তপুরে কোনো ধরনের হিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি আমরা আসতে দেব না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সবাই এক পরিবার। অবহেলিত শরীয়তপুরকে একটি গর্বিত শরীয়তপুর হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু বলে কোনো শব্দ নেই। হিন্দু-মুসলিম আমরা সবাই মানুষ। এ দেশের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।
এর আগে তিনি গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ হলইপট্টি শ্রী শ্রী কান্তি বাসন্তি পূজা মন্দির ও শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ দুর্গা মন্দির কমিটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের অবসান ঘটান। বুধবার দুপুরে মন্দির কমিটির প্রতিনিধি, স্থানীয় সুধীজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে পারস্পরিক সমঝোতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণের সময়সূচি ও মন্দির ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই মন্দির কমিটির মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। একাধিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও মিয়া নুরুদ্দিন অপু তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
মন্দির কমিটির নেতারা বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হবে এবং এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।
এছাড়াও মিয়া নুরুদ্দিন অপু গোসাইরহাট পৌরসভা ও ইদিলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। পাশাপাশি তিনি দিনব্যাপী বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিভিন্ন কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিতুল গনি মিন্টু সরদার, গোসাইরহাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কেএম সিদ্দিকুর রহমান, পৌরসভা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া জমাদ্দার, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা।
মন্তব্য করুন